এনআইডি কার্ড অনলাইন থেকে ডাউনলোড করবেন যেভাবে
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি প্রয়োজন হলে এখন আর সব ক্ষেত্রে নির্বাচন অফিসে গিয়ে অপেক্ষা করতে হয় না। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অনলাইন সেবা পোর্টাল থেকে যোগ্য নিবন্ধিত ভোটাররা নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করতে পারেন। এ জন্য প্রয়োজন হবে এনআইডি নম্বর অথবা নিবন্ধন ফরমের নম্বর, জন্মতারিখ, ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য এবং পরিচয় যাচাইয়ের জন্য সচল মোবাইল নম্বর।
অনলাইনে এনআইডির কপি পেতে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত পোর্টালে অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করতে হবে। এরপর মোবাইল নম্বরে পাঠানো যাচাইকরণ কোড এবং প্রয়োজন অনুযায়ী NID Wallet অ্যাপের মাধ্যমে মুখমণ্ডল যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। যাচাই সফল হলে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে ডাউনলোডের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
এনআইডি কার্ড অনলাইনে ডাউনলোড করতে যা লাগবে
আবেদন শুরুর আগে প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপকরণ হাতের কাছে রাখুন। সাধারণত যেসব তথ্য প্রয়োজন হতে পারে—
১০ বা ১৭ সংখ্যার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর; অথবা নতুন ভোটার নিবন্ধনের ফরম নম্বর
জন্মতারিখ
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য
সচল মোবাইল নম্বর
মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ
পরিচয় যাচাইয়ের জন্য NID Wallet অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা
যাদের এখনো এনআইডি নম্বর তৈরি হয়নি, কিন্তু নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে, তারা নিবন্ধন ফরমের নম্বর ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পেতে পারেন। তবে আবেদন অনুমোদিত ও তথ্য প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত ডাউনলোডের সুবিধা নাও পাওয়া যেতে পারে।
অনলাইনে এনআইডি ডাউনলোডের নিয়ম
১. নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা পোর্টালে প্রবেশ করুন। ওয়েবসাইটের ঠিকানা:
https://services.nidw.gov.bd
এটি এনআইডি-সংক্রান্ত অনলাইন সেবার নির্ধারিত সরকারি পোর্টাল। অন্য কোনো অপরিচিত ওয়েবসাইটে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ বা ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।
২. অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করুন
পোর্টালে প্রবেশ করে ‘রেজিস্টার করুন’ বা অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের অপশন নির্বাচন করুন। এরপর নির্ধারিত ঘরে এনআইডি নম্বর অথবা ভোটার নিবন্ধন ফরমের নম্বর এবং জন্মতারিখ লিখুন।
পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত ও ঠিকানাসংক্রান্ত তথ্য দিতে হতে পারে। তথ্যগুলো এনআইডি নিবন্ধনের সময় দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে পূরণ করুন।
যাদের আগে থেকেই এই পোর্টালে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তাদের নতুন করে নিবন্ধন না করে আগের অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে।
৩. মোবাইল নম্বর যাচাই করুন
অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের সময় মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের জন্য একটি ওটিপি বা এককালীন কোড পাঠানো হতে পারে। নির্ধারিত ঘরে কোডটি লিখে যাচাই সম্পন্ন করুন।
মোবাইল নম্বরটি সচল রাখা জরুরি। কোড না এলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করুন। বারবার ভুল কোড দেওয়ার পরিবর্তে পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
৪. NID Wallet দিয়ে মুখমণ্ডল যাচাই করুন
পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের NID Wallet অ্যাপ ব্যবহার করে ফেস ভেরিফিকেশন বা মুখমণ্ডল যাচাই করতে হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে অ্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের মুখ ক্যামেরার সামনে ধরতে হবে। আলো পর্যাপ্ত থাকতে হবে এবং মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যেতে হবে। যাচাই সফল হলে অনলাইন পোর্টালে ফিরে পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন।
৫. পাসওয়ার্ড সেট করে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করুন
পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড তৈরি করুন। এরপর নির্ধারিত তথ্য দিয়ে লগইন করুন।
অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার পর নিজের ব্যক্তিগত তথ্য ও এনআইডি-সংক্রান্ত অপশন দেখতে পাবেন।
৬. এনআইডির পিডিএফ কপি ডাউনলোড করুন
অ্যাকাউন্টের ড্যাশবোর্ডে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ডাউনলোডের সুবিধা পাওয়া গেলে সেটি নির্বাচন করুন। এরপর এনআইডির ডিজিটাল কপি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে মোবাইল বা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করুন।
প্রয়োজনে ফাইলটি প্রিন্ট করে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট ধরনের কপি বা অতিরিক্ত যাচাই চাইলে তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
নতুন ভোটার হলে কি অনলাইন থেকে এনআইডি ডাউনলোড করা যাবে?
নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করলেই সঙ্গে সঙ্গে এনআইডি ডাউনলোড করা যায় না। প্রথমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনের যাচাই ও অনুমোদনের পর পরিচয়পত্রের তথ্য তৈরি হতে হবে।
নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর ফরম নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে অনলাইন পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ থাকতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করে ডিজিটাল কপি ডাউনলোডের সুবিধা পাওয়া গেলে সেটি সংগ্রহ করা যাবে।
অর্থাৎ, শুধু ভোটার নিবন্ধনের স্লিপ থাকলেই এনআইডির পিডিএফ কপি পাওয়া নিশ্চিত নয়।
এনআইডি নম্বর না থাকলে কী করবেন?
কেউ নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করে থাকলে তার কাছে থাকা নিবন্ধন স্লিপ বা ফরম নম্বর কাজে লাগতে পারে। অনলাইন পোর্টালে অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের সময় এই নম্বর ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
তবে নিবন্ধন নম্বর দিয়েও অ্যাকাউন্ট খোলা না গেলে বা তথ্য যাচাইয়ে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজন হলে নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করে পরবর্তী করণীয় জেনে নিতে পারবেন।
অনলাইনে এনআইডি ডাউনলোড না হলে করণীয়
সব তথ্য সঠিক দেওয়ার পরও অনেক সময় অ্যাকাউন্ট খোলা, পরিচয় যাচাই বা কপি ডাউনলোডে সমস্যা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করে দেখুন—
এনআইডি বা ফরম নম্বর সঠিকভাবে লিখেছেন কি না।
জন্মতারিখ ও ঠিকানার তথ্য নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে মিলছে কি না।
মোবাইল নম্বর সচল আছে কি না এবং ওটিপি সঠিকভাবে দিয়েছেন কি না।
NID Wallet অ্যাপে মুখমণ্ডল যাচাই সম্পন্ন হয়েছে কি না।
নিবন্ধন বা সংশোধনের আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন কি না।
সমস্যা সমাধান না হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা-সংক্রান্ত সহায়তা নিন।
অনলাইন এনআইডি কপি ও স্মার্ট কার্ড কি একই?
অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা এনআইডি কপি এবং স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র এক জিনিস নয়। অনলাইন কপি হলো জাতীয় পরিচয়পত্রের ডিজিটাল সংস্করণ, যা পিডিএফ আকারে সংরক্ষণ ও প্রিন্ট করা যায়। অন্যদিকে স্মার্ট কার্ড হলো নির্বাচন কমিশনের সরবরাহ করা физিক্যাল কার্ড।
অনলাইন কপি পাওয়া গেলেই স্মার্ট কার্ড বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে, এমন নয়। স্মার্ট কার্ডের অবস্থা জানতে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত কার্ড স্ট্যাটাস সেবা ব্যবহার করা যায়।
এ জন্য https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/card-status ঠিকানায় প্রবেশ করুন। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে স্মার্ট কার্ডের অবস্থা যাচাই করা যাবে।
এনআইডি ডাউনলোডের সময় যে সতর্কতা জরুরি
জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অনলাইন থেকে এনআইডি ডাউনলোডের সময় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।
কোনো অপরিচিত ব্যক্তি বা ওয়েবসাইটের কাছে এনআইডির তথ্য, ওটিপি কিংবা অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড দেবেন না। NID Wallet অ্যাপ ব্যবহারের সময়ও সরকারি নির্ধারিত অ্যাপ ও নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
ডাউনলোড করা পিডিএফ ফাইলটি নিজের নিরাপদ ডিভাইসে রাখুন। অন্যের কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার করলে কাজ শেষে অবশ্যই অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট করুন এবং ফাইলটি সেখানে রেখে আসবেন না।
জাতীয় পরিচয়পত্রের অনলাইন কপি সংগ্রহের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত পোর্টালেই আবেদন ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা যায়। এনআইডি নম্বর বা নিবন্ধন ফরমের নম্বর, জন্মতারিখ এবং প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের তথ্য প্রস্তুত থাকলে প্রক্রিয়াটি সহজ হয়। তবে নতুন ভোটার নিবন্ধন অনুমোদিত না হলে কিংবা পরিচয় যাচাই অসম্পূর্ণ থাকলে ডাউনলোডের সুবিধা নাও মিলতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন
১. এনআইডি কার্ড কি অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা যায়?
হ্যাঁ। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত পোর্টালে অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করে ডাউনলোডের সুবিধা পাওয়া গেলে এনআইডির পিডিএফ কপি সংগ্রহ করা যায়।
২. এনআইডি নম্বর ছাড়া কি অনলাইনে কার্ড ডাউনলোড করা সম্ভব?
নতুন ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ফরম নম্বর ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। তবে নিবন্ধন অনুমোদিত ও তথ্য প্রস্তুত না হলে কপি ডাউনলোড করা যাবে না।
৩. এনআইডি ডাউনলোড করতে কি NID Wallet অ্যাপ প্রয়োজন?
পরিচয় যাচাইয়ের জন্য পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী NID Wallet অ্যাপ ব্যবহার করে মুখমণ্ডল যাচাই করতে হতে পারে।
৪. অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা এনআইডি কি স্মার্ট কার্ডের সমান?
না। অনলাইন কপি হলো এনআইডির ডিজিটাল সংস্করণ, আর স্মার্ট কার্ড হলো физিক্যাল কার্ড। দুটি আলাদা বিষয়।
৫. এনআইডি ডাউনলোড করতে সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ করবেন?
প্রথমে অনলাইন পোর্টালে দেওয়া তথ্য ও পরিচয় যাচাইয়ের ধাপগুলো পরীক্ষা করুন। সমস্যা সমাধান না হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।
আল-মামুন/