ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনে কত টাকা লাগে?
ড্রাইভিং লাইসেন্সে নিজের নামের বানান, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ, রক্তের গ্রুপ কিংবা ঠিকানায় ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। বর্তমান প্রকাশিত ফি-তালিকার হিসাব অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধন বা ঠিকানা পরিবর্তনে মোট খরচ ১ হাজার ১০৭ টাকা। এর সঙ্গে অনলাইনে পেমেন্ট করলে পেমেন্ট গেটওয়ের নির্ধারিত চার্জ যুক্ত হতে পারে।
তবে শুধু আবেদন করলেই হবে না। কোন তথ্য সংশোধন করতে চান, তার পক্ষে যথাযথ প্রমাণও জমা দিতে হবে। নাম বা জন্মতারিখের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং রক্তের গ্রুপ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে ঠিকানা সংশোধনের জন্য নতুন ঠিকানার প্রমাণ জমা দিতে হয়।
ড্রাইভিং লাইসেন্স সংশোধনের ফি কত?
বিআরটিএর প্রকাশিত ফি-তালিকা অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধন বা ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য মোট ১ হাজার ১০৭ টাকা দিতে হয়। খরচের হিসাব নিচে দেওয়া হলো—
| ফি-এর বিবরণ | টাকার পরিমাণ |
|---|---|
| মূল সংশোধন ফি | ৩০০ টাকা |
| স্মার্ট কার্ড ফি | ৬১০ টাকা |
| ১৫ শতাংশ ভ্যাট | ১৩৭ টাকা |
| ডাক খরচ | ৬০ টাকা |
| সর্বমোট | ১,১০৭ টাকা |
এ হিসাব তথ্য সংশোধন ও ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য। অনলাইনে কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা জমা দিলে পেমেন্ট গেটওয়ের চার্জ আলাদা হতে পারে। আবেদন করার আগে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে প্রদর্শিত ফি যাচাই করে নেওয়া ভালো।
ড্রাইভিং লাইসেন্সে কোন কোন তথ্য সংশোধন করা যায়?
বিআরটিএর নির্ধারিত ফরম ৪(খ)-তে তথ্য সংশোধনের জন্য আলাদা ঘর রয়েছে। এই ফরমের মাধ্যমে সাধারণত নিচের তথ্যগুলো সংশোধনের আবেদন করা যায়—
নিজের নাম
পিতার নাম
মাতার নাম
স্বামী বা স্ত্রীর নাম
জন্মতারিখ
রক্তের গ্রুপ
ঠিকানা
একই আবেদনে একাধিক তথ্য ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট ঘরগুলো পূরণ করে সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে প্রতিটি পরিবর্তনের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা দিতে হবে।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনে কী কী কাগজ লাগবে?
তথ্য সংশোধনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আলাদা হতে পারে। সাধারণভাবে যেসব নথি প্রস্তুত রাখতে হবে—
১. বিআরটিএর নির্ধারিত ফরম ৪(খ) পূরণ করা কপি।
২. বিদ্যমান মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স।
৩. সংশোধন ফি জমা দেওয়ার রসিদ।
৪. নাম, পিতা-মাতা বা স্বামী-স্ত্রীর নাম এবং জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি।
৫. রক্তের গ্রুপ সংশোধনের ক্ষেত্রে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপি।
৬. ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন বা পানির বিল কিংবা নাগরিকত্ব সনদের সত্যায়িত ফটোকপি।
৭. ফরমে সংযুক্ত করার জন্য এক কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি।
আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিস থেকে নিজের সংশোধনের ধরন অনুযায়ী কাগজপত্রের তালিকা নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনের আবেদন করবেন যেভাবে
ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনের জন্য বিআরটিএর ফরম ৪(খ) ব্যবহার করতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা যায়।
প্রথম ধাপ: ফরম সংগ্রহ করুন
বিআরটিএর সরকারি ওয়েবসাইট থেকে ফরম ৪(খ) ডাউনলোড করে প্রিন্ট করুন। ফরমটির নাম ‘মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন, প্রতিলিপি, শ্রেণি পরিবর্তন বা সংযোজন, ধরন পরিবর্তন, ঠিকানা পরিবর্তন ও তথ্য সংশোধনের আবেদন’।
দ্বিতীয় ধাপ: প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন
ফরমে নিজের নাম, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য লিখুন। তথ্য সংশোধনের ঘরে বর্তমানে লাইসেন্সে যে তথ্য রয়েছে এবং তার পরিবর্তে কী লিখতে চান, তা উল্লেখ করুন।
তৃতীয় ধাপ: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন
যে তথ্য সংশোধন করতে চান, তার প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন। যেমন নাম বা জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য ঠিকানার প্রমাণ জমা দিতে হবে।
চতুর্থ ধাপ: নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন
বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (BSP) অথবা অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত ফি জমা দিন। টাকা জমা দেওয়ার রসিদ সংরক্ষণ করুন।
পঞ্চম ধাপ: বিআরটিএ অফিসে আবেদন জমা দিন
পূরণ করা ফরম, মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফি জমার রসিদ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিসে জমা দিন। আবেদন গ্রহণের পর দেওয়া রসিদ বা আবেদনসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করুন।
ঠিকানা পরিবর্তন করতে কী কী প্রমাণ লাগবে?
ড্রাইভিং লাইসেন্সে বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করতে চাইলে নতুন ঠিকানার পক্ষে প্রমাণ জমা দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন বা পানির বিলের সত্যায়িত ফটোকপি দেওয়া যেতে পারে। নাগরিকত্ব সনদও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
আবেদনপত্রে নতুন ঠিকানা সঠিকভাবে লিখতে হবে। কারণ সংশোধিত স্মার্ট কার্ড পাঠানোর সময় ঠিকানার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
জাতীয় পরিচয়পত্রেও ভুল থাকলে কী করবেন?
ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম, জন্মতারিখ বা অন্য কোনো তথ্য ভুল থাকলে আগে সেটি সংশোধন করা ভালো।
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন না করে ড্রাইভিং লাইসেন্সে ভিন্ন তথ্য যুক্ত করতে গেলে আবেদন যাচাইয়ের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই দুই নথির তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা জরুরি।
সংশোধিত ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে কত দিন লাগে?
তথ্য সংশোধনের আবেদন জমা দেওয়ার পর বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই করে। আবেদন অনুমোদিত হলে সংশোধিত তথ্য দিয়ে নতুন স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত করা হয়।
তবে তথ্য সংশোধনের জন্য আলাদা নির্দিষ্ট ডেলিভারি সময়সীমা নিশ্চিতভাবে উল্লেখ না থাকায় নির্দিষ্ট কয়েক দিনের মধ্যে কার্ড পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। আবেদনের অগ্রগতি জানতে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিস অথবা বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে খোঁজ নিতে পারেন।
লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি হলে কী করবেন?
ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এলে শুধু তথ্য সংশোধনের আবেদন করার আগে বিআরটিএর সঙ্গে যোগাযোগ করা ভালো। কারণ মেয়াদ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে থাকলে সংশোধনের পরিবর্তে নবায়নের নিয়ম ও ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে নবায়নের আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি যুক্ত করা যাবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিস থেকে নিশ্চিত করে নিন।
কোথায় আবেদন ও ফি সম্পর্কে তথ্য পাবেন?
ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধন, ফরম সংগ্রহ এবং ফি পরিশোধের জন্য বিআরটিএর সরকারি অনলাইন সেবা ব্যবহার করতে হবে।
বিআরটিএ ওয়েবসাইট: https://brta.gov.bd
বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল: https://bsp.brta.gov.bd
ফরম ৪(খ): বিআরটিএর ওয়েবসাইটের ফরম বিভাগে পাওয়া যাবে।
আবেদন করার আগে সর্বশেষ ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে নেওয়া উচিত। এতে ভুল আবেদন, অতিরিক্ত খরচ এবং অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?
প্রকাশিত ফি-তালিকার হিসাব অনুযায়ী, তথ্য সংশোধন বা ঠিকানা পরিবর্তনে মোট ১ হাজার ১০৭ টাকা লাগে। অনলাইন পেমেন্টের গেটওয়ে চার্জ অতিরিক্ত হতে পারে।
২. ড্রাইভিং লাইসেন্সের নাম সংশোধন করতে কোন ফরম লাগবে?
বিআরটিএর নির্ধারিত ফরম ৪(খ) ব্যবহার করে তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে হয়।
৩. ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্মতারিখ সংশোধন করতে কী কাগজ লাগে?
জন্মতারিখ সংশোধনের পক্ষে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি এবং প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র জমা দিতে হয়।
৪. ড্রাইভিং লাইসেন্সের ঠিকানা পরিবর্তন করতে কী লাগে?
ফরম ৪(খ), মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফি জমার রসিদ এবং নতুন ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ইউটিলিটি বিল বা নাগরিকত্ব সনদের সত্যায়িত কপি প্রয়োজন হতে পারে।
৫. একই আবেদনে একাধিক তথ্য সংশোধন করা যায় কি?
ফরম ৪(খ)-এর সংশোধনসংক্রান্ত অংশে একাধিক ভুল তথ্য উল্লেখ করা যায়। প্রতিটি সংশোধনের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংযুক্ত করতে হবে।
তানভির ইসলাম/