Hero Glamour X 125: ১২৫ সিসির বাইকে ৬০টির বেশি ফিচার
১২৫ সিসির মোটরসাইকেলে ক্রুজ কন্ট্রোল, রাইডিং মোড ও স্মার্টফোন সংযোগের মতো আধুনিক প্রযুক্তি সাধারণত খুব বেশি দেখা যায় না। তবে সেই ধারণা বদলাতে নতুন Hero Glamour X 125-এ যুক্ত করা হয়েছে এসব সুবিধাসহ ৬০টির বেশি ফিচার। সঙ্গে রয়েছে ১২৪.৭ সিসির ইঞ্জিন, ডিজিটাল TFT ডিসপ্লে, ব্লুটুথ সংযোগ এবং টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন। ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারের কমিউটার বাইকের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর মোটরসাইকেল হিসেবেও মডেলটি নজর কেড়েছে।
বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি Hero Glamour X 125 উন্মোচন করা হয়। সে সময় বাইকটির দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। উদ্বোধনী অফারে মূল্য রাখা হয়েছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তবে এই দাম বর্তমানে কার্যকর কি না, তা কেনার আগে অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
১২৫ সিসির ইঞ্জিনে কেমন পারফরম্যান্স
Hero Glamour X 125-এ রয়েছে ১২৪.৭ সিসির এয়ার-কুলড, চার-স্ট্রোক ইঞ্জিন। এতে ফুয়েল ইনজেকশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। কোম্পানির প্রকাশিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ৮.৫ কিলোওয়াট শক্তি উৎপন্ন করতে পারে ৮ হাজার ২৫০ আরপিএমে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ টর্ক ১০.৫ নিউটন-মিটার, যা পাওয়া যায় ৬ হাজার ৫০০ আরপিএমে।
ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে Sprint EBT প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে ইঞ্জিনের কম্পন নিয়ন্ত্রণে রেখে মসৃণভাবে শক্তি সরবরাহের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় বারবার গতি কমানো ও বাড়ানোর মতো পরিস্থিতিতে এই প্রযুক্তি চালানোর অভিজ্ঞতা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে পারে।
ক্রুজ কন্ট্রোল ও তিন ধরনের রাইডিং মোড
Glamour X 125-এর অন্যতম আকর্ষণ ক্রুজ কন্ট্রোল। সাধারণত বেশি দামের মোটরসাইকেলে দেখা যায় এমন সুবিধা ১২৫ সিসির এই মডেলেও রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চালককে একটি নির্ধারিত গতি ধরে রাখতে সহায়তা করে ক্রুজ কন্ট্রোল। তবে যানজটপূর্ণ সড়ক বা ঘন ঘন ব্রেক করার প্রয়োজন হয় এমন জায়গায় এ সুবিধার ব্যবহার সীমিত।
বাইকটিতে Eco, Road ও Power—তিনটি রাইডিং মোড রয়েছে। চালানোর পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী এসব মোড নির্বাচন করা যায়। Eco মোডে জ্বালানি সাশ্রয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়, Road মোড দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এবং Power মোডে তুলনামূলক বেশি পারফরম্যান্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
এ ছাড়া এতে রয়েছে Ride-by-Wire প্রযুক্তি। এই ব্যবস্থায় থ্রটলের নির্দেশনা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ইঞ্জিনে পৌঁছায়। ফলে বাইকটির প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যের তালিকায় এটি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
TFT ডিসপ্লেতে ব্লুটুথ ও নেভিগেশন
বাইকটির ককপিটে রয়েছে ৪.২ ইঞ্চির TFT ডিসপ্লে। এতে ব্লুটুথ সংযোগ ও টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশনের সুবিধা রাখা হয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় রাইডিং তথ্য দেখার পাশাপাশি সংযুক্ত স্মার্টফোনের কিছু সুবিধাও ব্যবহার করা যায়।
Hero-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাইকটিতে অ্যাডাপটিভ ডিসপ্লে, গিয়ার পজিশন-সংক্রান্ত তথ্য এবং দূরত্ব ও জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব দেখার মতো সুবিধাও রয়েছে। ব্যাটারির চার্জ কমে গেলে কিকস্টার্টের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তায় রয়েছে Panic Brake Alert
নিরাপত্তার দিকেও কিছু প্রযুক্তিগত সংযোজন রয়েছে Glamour X 125-এ। এর মধ্যে Panic Brake Alert উল্লেখযোগ্য। হঠাৎ জোরে ব্রেক করার সময় পেছনের যানবাহনের চালককে সতর্ক করাই এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।
এ ছাড়া বাইকটিতে LED আলো, অ্যারোডাইনামিক ভিসর এবং পাঁচ ধাপে সমন্বয়যোগ্য হাইড্রোলিক রিয়ার শক অ্যাবজরবার রয়েছে। তবে এসব সুবিধা থাকলেও নিরাপদ গতিতে চালানো, যথাযথ দূরত্ব বজায় রাখা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিকল্প নেই।
Hero Glamour X 125-এর মাইলেজ কত?
মাইলেজের বিষয়ে Hero-এর ওয়েবসাইটে সর্বোচ্চ ৬৫ কিলোমিটার প্রতি লিটারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এই পরিসংখ্যান E20 জ্বালানি ব্যবহার করে তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।
তবে বাস্তবে সব চালক একই মাইলেজ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। যানজট, রাস্তার অবস্থা, গতি, চালানোর ধরন, বাইকের রক্ষণাবেক্ষণ এবং জ্বালানির মানের ওপর প্রকৃত মাইলেজ নির্ভর করে। তাই ৬৫ কিলোমিটারকে নিশ্চিত দৈনন্দিন মাইলেজ না ধরে কোম্পানির পরীক্ষায় পাওয়া দাবি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
ডিজাইন ও আরামের দিকেও গুরুত্ব
Glamour X 125-এর নকশায় স্পোর্টি ও মাসকুলার ভাব রাখা হয়েছে। সামনের ভিসর, বডির গ্রাফিকস এবং LED হেডল্যাম্প বাইকটির বাহ্যিক সৌন্দর্যে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। চালক ও পেছনের যাত্রীর বসার সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে আসনেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, বাইকটির সিটের উচ্চতা ৭৯০ মিলিমিটার এবং গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৭০ মিলিমিটার। জ্বালানি ট্যাংকের ধারণক্ষমতা ১০ লিটার। পেছনের সাসপেনশন পাঁচ ধাপে সমন্বয় করা যায়।
Hero Glamour X 125-এর স্পেসিফিকেশন
ইঞ্জিন: ১২৪.৭ সিসি, এয়ার-কুলড, চার-স্ট্রোক
ফুয়েল সিস্টেম: ফুয়েল ইনজেকশন
সর্বোচ্চ শক্তি: ৮.৫ কিলোওয়াট, ৮২৫০ আরপিএমে
সর্বোচ্চ টর্ক: ১০.৫ নিউটন-মিটার, ৬৫০০ আরপিএমে
রাইডিং মোড: Eco, Road ও Power
ডিসপ্লে: ৪.২ ইঞ্চি TFT
সংযোগ: ব্লুটুথ
নেভিগেশন: টার্ন-বাই-টার্ন
সিটের উচ্চতা: ৭৯০ মিলিমিটার
গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স: ১৭০ মিলিমিটার
জ্বালানি ট্যাংক: ১০ লিটার
মাইলেজ: কোম্পানির দাবি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬৫ কিমি/লিটার
বাংলাদেশে দাম কত, কারা কিনতে পারেন?
বাংলাদেশে উন্মোচনের সময় Hero Glamour X 125-এর দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। উদ্বোধনী অফারে মূল্য ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তবে অফার ও ডিলারভেদে দাম পরিবর্তিত হতে পারে। নিবন্ধনসহ অন্যান্য খরচও আলাদা হতে পারে। তাই কেনার আগে বর্তমান মূল্য ও সুবিধা অনুমোদিত শোরুম থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
যাঁরা প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য ১২৫ সিসির মোটরসাইকেল খুঁজছেন, পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও স্মার্ট ফিচারকেও গুরুত্ব দেন, তাঁদের বিবেচনায় আসতে পারে Hero Glamour X 125। বিশেষ করে ক্রুজ কন্ট্রোল, তিনটি রাইডিং মোড, TFT ডিসপ্লে ও ব্লুটুথ সংযোগ মডেলটিকে এই শ্রেণিতে আলাদা করেছে।
তবে শুধু ফিচারের তালিকা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। কেনার আগে টেস্ট রাইড, বসার আরাম, নিয়ন্ত্রণ, ব্রেকিং, স্থানীয় সার্ভিস সুবিধা, যন্ত্রাংশের দাম ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় যাচাই করে নেওয়া উচিত।
FAQ
১. Hero Glamour X 125-এর দাম কত?
বাংলাদেশে উন্মোচনের সময় দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। উদ্বোধনী অফারে দাম ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। বর্তমান দাম ডিলারের কাছ থেকে নিশ্চিত করতে হবে।
২. Hero Glamour X 125 কত সিসির বাইক?
এতে ১২৪.৭ সিসির এয়ার-কুলড, চার-স্ট্রোক ইঞ্জিন রয়েছে।
৩. Hero Glamour X 125-এর মাইলেজ কত?
Hero-এর দাবি অনুযায়ী, E20 জ্বালানিতে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৬৫ কিলোমিটার প্রতি লিটার মাইলেজ পাওয়া গেছে। বাস্তবে মাইলেজ কমবেশি হতে পারে।
৪. Hero Glamour X 125-এ কি ক্রুজ কন্ট্রোল আছে?
হ্যাঁ, বাইকটিতে ক্রুজ কন্ট্রোল সুবিধা রয়েছে।
৫. Hero Glamour X 125-এ কয়টি রাইডিং মোড আছে?
এতে Eco, Road ও Power—এই তিনটি রাইডিং মোড দেওয়া হয়েছে।
তানভির ইসলাম/