ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হলো কুপন, পছন্দমতো খাবার পাবে শিশুরা

শিক্ষা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৬:৩৫:৩৩
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হলো কুপন, পছন্দমতো খাবার পাবে শিশুরা

শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারে বৈচিত্র্য আনতে দেশের আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে কুপন পদ্ধতি। এ ব্যবস্থায় ডিম ও কলার পাশাপাশি প্রতিদিন নির্ধারিত দোকান থেকে নিজেদের পছন্দমতো আরও একটি খাবার নিতে পারবে শিশুরা। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য খাবারের বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ টাকা।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভার শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। রংপুর বিভাগের জন্য পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত একমাত্র বিদ্যালয় এটি। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানিয়েছেন।

কুপনে পাওয়া যাবে ছয় ধরনের খাবার

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের ডিম ও কলা দেওয়ার পাশাপাশি খাবারের পছন্দের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত দোকানে কুপন জমা দিয়ে তারা বান, কিশমিশ, বাদাম, ড্রাই কেক, খেজুর কিংবা বিস্কুটের মধ্যে যেকোনো একটি নিতে পারবে।

প্রতিটি শিশুর জন্য প্রতিদিন খাবারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা। এর মাধ্যমে একই ধরনের খাবারের পরিবর্তে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

আট বিভাগের আট বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কুপনভিত্তিক এ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে রংপুর বিভাগের প্রতিনিধি বিদ্যালয় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বিরামপুর পৌরসভার শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে।

বিরামপুর উপজেলায় মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে পরীক্ষামূলক কুপন পদ্ধতি চালুর জন্য শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নির্বাচিত হয়েছে।

উপস্থিতি বাড়ার আশা অভিভাবকদের

অভিভাবকদের প্রত্যাশা, খাবারের তালিকায় বৈচিত্র্য আসায় শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে আরও আগ্রহী হবে। পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা পূরণেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়লে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হারও উন্নত হতে পারে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা খাতুন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন, বিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিয়া মো. শফিকুল আলম মামুন, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেল, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজু।

এ ছাড়া শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি লুৎফর রহমান, সহসভাপতি সানোয়ার হোসেন এবং ইএসডিও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জেলা ব্যবস্থাপক শাহ মো. আমিনুল হক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী কবির রেজা ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

১. প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কুপন পদ্ধতি কোথায় চালু হয়েছে?

দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভার শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ পদ্ধতি চালু হয়েছে।

২. কতটি বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে কুপন পদ্ধতি চালু হয়েছে?

দেশের আট বিভাগের আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

৩. একজন শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন খাবারের বরাদ্দ কত?

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন ৩৫ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

৪. কুপন দিয়ে কী কী খাবার পাওয়া যাবে?

বান, কিশমিশ, বাদাম, ড্রাই কেক, খেজুর ও বিস্কুটের মধ্যে পছন্দমতো একটি খাবার পাওয়া যাবে।

৫. বিরামপুর উপজেলায় কতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে?

বিরামপুর উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ প্রকল্পের আওতাভুক্ত।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: