ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৪ কোম্পানি

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ২০:০৪:১৫
‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৪ কোম্পানি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত চার প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এবার থেকে মার্জিন ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে না। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ক্যাটাগরি পুনর্বিন্যাসের ফলে বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বিবিএস), ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক (আইএসএন), দেশবন্ধু পলিমার ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে চলে গেছে। আগে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর এই অবনমন বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে শেয়ার কেনার অর্থায়ন সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগের পরিবেশেও পরিবর্তন আসতে পারে।

এক সিদ্ধান্তে চার প্রতিষ্ঠানের ক্যাটাগরি পরিবর্তন

ক্যাটাগরি পরিবর্তনের তালিকায় বেসরকারি খাতের তিন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আইসিবি। ডিএসইর অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ এবং ক্যাটাগরি হালনাগাদ কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে কোম্পানিগুলোকে ‘বি’ থেকে সরাসরি ‘জেড’ শ্রেণিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিভিডেন্ড প্রদানে ব্যর্থতা। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসায়িক দুর্বলতা, পর্যাপ্ত মুনাফার অভাব এবং তারল্যসংকটের কারণে শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি তারা। ফলে বিনিয়োগকারীরা এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেও প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

বিনিয়োগে ঋণ সুবিধা থাকছে না

ক্যাটাগরি পরিবর্তনের পর চার কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থায়। ডিএসইর প্রচলিত সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার জন্য বিনিয়োগকারীরা মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন না।

এর ফলে ঋণনির্ভর বিনিয়োগের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কোম্পানির শেয়ার কিনতে হলে বিনিয়োগকারীদের নিজস্ব নগদ অর্থ ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ, ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বা লেভারেজ সুবিধা কাজে লাগিয়ে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ আর থাকছে না।

লেনদেনে আগ্রহ কমার আশঙ্কা

মার্জিন ঋণের সুবিধা না থাকলে কোনো শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সিদ্ধান্তের প্রভাবে চার কোম্পানির শেয়ারে লেনদেনের পরিমাণ ও তারল্য কমতে পারে।

ঋণ সুবিধা হারানোর কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহেও ভাটা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত শেয়ারগুলোর বাজারমূল্যে নেতিবাচকভাবে পড়তে পারে।

চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত আইসিবির ক্যাটাগরি অবনমন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। বড় একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ‘জেড’ শ্রেণিতে চলে যাওয়াকে সংশ্লিষ্টরা পুরো শেয়ারবাজারের জন্য সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচনা করছেন।

আর্থিক দুর্বলতায় ডিভিডেন্ড দেওয়া কঠিন

কোম্পানিগুলোর ডিভিডেন্ড দিতে না পারার পেছনে জমে থাকা লোকসান এবং আর্থিক সংকট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্যবসা থেকে আয় হলেও তার বড় অংশ ঋণ ও সুদের দায় মেটাতে ব্যয় হচ্ছে। ফলে পরিচালন কার্যক্রম থেকে পাওয়া আয়ের পর নিট মুনাফা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিট মুনাফার ঘাটতির কারণে শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দেওয়ার সক্ষমতাও তৈরি হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থার দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

ডিএসইর পক্ষ থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং শেয়ারবাজারে সুশাসন বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

দুর্বল কোম্পানিগুলোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

নতুন করে চারটি প্রতিষ্ঠান ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে চলে যাওয়ায় বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়তে থাকলে শেয়ারবাজারের সামগ্রিক পরিবেশ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লোকসানি কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি না হলে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় লাভজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং ভালো ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

তাঁদের মতে, আর্থিকভাবে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিস্থিতি উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি জোরদার করতে হবে। অন্যথায় ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধি শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে আরও দুর্বল করতে পারে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. নতুন করে কোন চারটি কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে গেছে?

বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, দেশবন্ধু পলিমার এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ।

২. কোম্পানিগুলো আগে কোন ক্যাটাগরিতে ছিল?

চারটি প্রতিষ্ঠানই আগে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ছিল।

৩. ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার কিনতে মার্জিন ঋণ পাওয়া যাবে কি?

না। প্রচলিত সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার কেনার জন্য মার্জিন ঋণ সুবিধা পাওয়া যায় না।

৪. কোম্পানিগুলো কেন ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি?

জমে থাকা লোকসান, আর্থিক সংকট এবং ঋণ ও সুদের দায় পরিশোধে আয়ের বড় অংশ ব্যয় হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো নিট মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

৫. ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার ফলে শেয়ারের দামে কী প্রভাব পড়তে পারে?

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্জিন ঋণ সুবিধা বন্ধ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ও লেনদেনের পরিমাণ কমতে পারে। এর ফলে শেয়ারের বাজারদরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৪ কোম্পানি

‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৪ কোম্পানি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত চার প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এবার থেকে মার্জিন ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে না। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ক্যাটাগরি... বিস্তারিত