আট জীবন বিমা কোম্পানির আর্থিক হিসাবে বড় অস্বস্তি
দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আটটি জীবন বিমা কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি, জীবন বিমা তহবিল সংকোচন এবং পরিচালন নগদ প্রবাহের দুর্বলতার চিত্র। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাবে সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সে। কোম্পানিটির জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৩২ কোটি ৬ লাখ টাকা। একই সময়ে প্রাইম ইসলামী লাইফের ঘাটতি হয়েছে ৬০ কোটি ৭৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অন্যদিকে পদ্মা ইসলামী লাইফের জীবন বিমা তহবিল ঋণাত্মক ৩৩২ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।
শুধু তিন মাসের হিসাবেই নয়, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বছরের প্রথম নয় মাসের আর্থিক অবস্থাতেও অবনতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পপুলার লাইফ ও প্রাইম ইসলামী লাইফের ঘাটতি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। সোনালী লাইফ আগের বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের উদ্বৃত্ত ধরে রাখতে পারেনি। আবার কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আর্থিক সূচকে উন্নতি থাকলেও অন্য সূচকে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১৫টি জীবন বিমা কোম্পানির মধ্যে জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬ সময়ের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। সেগুলোর মধ্যে আটটি কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতিতে ঘাটতি ও তহবিলসংক্রান্ত চাপের চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
সবচেয়ে বেশি চাপে পপুলার ও প্রাইম ইসলামী লাইফ
আটটি কোম্পানির মধ্যে পপুলার লাইফ ও প্রাইম ইসলামী লাইফের আয়-ব্যয়ের হিসাবে সবচেয়ে বড় অঙ্কের ঘাটতি দেখা গেছে। উভয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই তৃতীয় প্রান্তিকের পাশাপাশি জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ের হিসাবেও ঘাটতি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।
পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সমন্বিত জীবন বিমা রাজস্ব হিসাবে চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের ঘাটতি হয়েছে ১৩২ কোটি ৬ লাখ টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১৮ কোটি ৭৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে তিন মাসের ঘাটতি বেড়েছে ১১৩ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
নয় মাসের হিসাবেও কোম্পানিটির ঘাটতি আরও বড় হয়েছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সমন্বিত আয়-ব্যয়ের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ফলে এই সময়ে ঘাটতি বেড়েছে ১১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
আয়-ব্যয়ের ঘাটতির পাশাপাশি পপুলার লাইফের জীবন বিমা তহবিলেও বড় পতন হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে তহবিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৮২ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এটি ছিল ১ হাজার ৫৮১ কোটি ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এক বছরের ব্যবধানে তহবিল কমেছে ১৯৮ কোটি ৫৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
তবে কোম্পানিটির পরিচালন নগদ প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে ২১ টাকা ৮৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১৯ টাকা ৩৩ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে ২ টাকা ৫২ পয়সা।
প্রাইম ইসলামী লাইফের ক্ষেত্রেও তৃতীয় প্রান্তিকের ঘাটতি বড় আকার ধারণ করেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির জীবন বিমা রাজস্ব হিসাবে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটি ৭৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ৭ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। ফলে এক বছরে ঘাটতি বেড়েছে ৫৩ কোটি ৭৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রাইম ইসলামী লাইফের আয়-ব্যয়ের ঘাটতি হয়েছে ১২০ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১০২ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অর্থাৎ নয় মাসে ঘাটতি বেড়েছে ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
কোম্পানিটির জীবন বিমা তহবিলও আগের বছরের তুলনায় কমেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে তহবিল দাঁড়িয়েছে ৬১৯ কোটি ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬৪৭ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এক বছরে তহবিল কমেছে ২৭ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
ঋণাত্মক তহবিলের পাশাপাশি ঘাটতিতে পদ্মা ইসলামী লাইফ
আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পদ্মা ইসলামী লাইফের আর্থিক অবস্থার অন্যতম বড় দুর্বলতা হলো এর জীবন বিমা তহবিলের ঋণাত্মক অবস্থান। তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি আগের বছরের উদ্বৃত্ত থেকেও ঘাটতিতে নেমেছে।
চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির জীবন বিমা রাজস্ব হিসাবে ৪ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা ঘাটতি হয়েছে। অথচ আগের বছরের একই সময়ে আয়-ব্যয়ের হিসাবে ৪৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। ফলে দুই বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলে নেতিবাচক পরিবর্তনের পরিমাণ ৪ কোটি ৭৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।
তবে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ের হিসাবে ঘাটতি কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির আয়-ব্যয়ের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১৪ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অর্থাৎ নয় মাসে ঘাটতি কমেছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
তহবিলের চিত্র অবশ্য বিপরীত। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে পদ্মা ইসলামী লাইফের জীবন বিমা তহবিল দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৩৩২ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে তহবিলের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ৩০৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এক বছরে ঋণাত্মক অবস্থার অবনতি হয়েছে আরও ২৫ কোটি ৫৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
উদ্বৃত্ত ধরে রাখতে পারেনি সোনালী লাইফ
সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে তৃতীয় প্রান্তিকের আয়-ব্যয়ের হিসাবে। আগের বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটি উদ্বৃত্ত অর্জন করলেও চলতি বছরের একই সময়ে ঘাটতির মুখে পড়েছে।
২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে সোনালী লাইফের জীবন বিমা রাজস্ব হিসাবে ঘাটতি হয়েছে ৪ কোটি ১ হাজার টাকা। বিপরীতে ২০২৫ সালের একই সময়ে কোম্পানিটির উদ্বৃত্ত ছিল ১৮ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আর্থিক ফলাফলে ২২ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার নেতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে।
তবে পুরো নয় মাসের হিসাবে কোম্পানিটি উদ্বৃত্তে রয়েছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৯১ কোটি ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ নয় মাসের ব্যবধানে উদ্বৃত্ত কমেছে ৬১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
জীবন বিমা তহবিলের ক্ষেত্রে অবশ্য উন্নতি হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে সোনালী লাইফের তহবিল দাঁড়িয়েছে ৯২৫ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৮৯৬ কোটি ৩৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এক বছরে তহবিলের নিট বৃদ্ধি হয়েছে ২৯ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে পরিচালন নগদ প্রবাহে অবনতি হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। চলতি বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ৪ টাকা ৭৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এটি ছিল ধনাত্মক ৭ টাকা ৯৫ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে এই সূচকে নেতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে ১২ টাকা ৭৪ পয়সা।
তহবিল কমেছে মেঘনা ও সানলাইফের
মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি কমার তথ্য পাওয়া গেলেও জীবন বিমা তহবিল ও পরিচালন নগদ প্রবাহে দুর্বলতা রয়েছে।
চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বিমা দাবি ও অন্যান্য ব্যয়সহ কোম্পানিটির মোট ব্যয় আয়ের চেয়ে ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা বেশি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এই ব্যবধান ছিল ৮ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে তৃতীয় প্রান্তিকের ঘাটতি কমেছে ৫ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
কিন্তু এই সময়ে জীবন বিমা তহবিলের পরিমাণ কমেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে মেঘনা লাইফের তহবিল ছিল ১ হাজার ৫১৬ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এক বছরে তহবিল কমেছে ৮ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহও আগের বছরের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ১৬ টাকা ৭০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ঋণাত্মক ১৩ টাকা ৫৯ পয়সা। অর্থাৎ অবনতি হয়েছে ৩ টাকা ১১ পয়সা।
সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে তিন মাস ও নয় মাসের আর্থিক ফলাফলে বিপরীত প্রবণতা দেখা গেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির জীবন বিমা রাজস্ব হিসাবের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১ কোটি ৭৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ঘাটতি বেড়েছে ৭৩ লাখ ১০ হাজার টাকা।
তবে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসের হিসাবে ঘাটতি কমেছে। চলতি বছরের এই সময়ে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি হয়েছে ৬ কোটি ৪২ লাখ ১০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৮ কোটি ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ফলে নয় মাসে ঘাটতি কমেছে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এদিকে সানলাইফের জীবন বিমা তহবিলেও সংকোচন হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে তহবিল দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৪৮ কোটি ৪৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এক বছরের ব্যবধানে তহবিল কমেছে ১ কোটি ৫১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
নয় মাসের হিসাবে উন্নতি সন্ধানী লাইফের
সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনে তৃতীয় প্রান্তিকের ঘাটতি বৃদ্ধির পাশাপাশি বছরের প্রথম নয় মাসে উল্লেখযোগ্য উন্নতির তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির জীবন বিমা তহবিলও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।
চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে সন্ধানী লাইফের সমন্বিত জীবন বিমা রাজস্ব হিসাবে ঘাটতি হয়েছে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৩২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ফলে তৃতীয় প্রান্তিকে ঘাটতি বেড়েছে ৯ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত ঘাটতি নেমে এসেছে ৬ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকায়। আগের বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৩১ কোটি ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অর্থাৎ নয় মাসের হিসাবে ঘাটতি কমেছে ২৪ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
জীবন বিমা তহবিলেও ইতিবাচক পরিবর্তন রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে সন্ধানী লাইফের তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০৬ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এটি ছিল ৬৬২ কোটি ৭৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে তহবিলের নিট বৃদ্ধি হয়েছে ৪৩ কোটি ৮১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
রূপালী লাইফে দুই সময়েই ঘাটতি বেড়েছে
রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি কমার কোনো চিত্র পাওয়া যায়নি। বরং তৃতীয় প্রান্তিক এবং বছরের প্রথম নয় মাস—উভয় হিসাবেই ঘাটতি আগের বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে। তবে জীবন বিমা তহবিলে সামান্য বৃদ্ধি রয়েছে।
চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির জীবন বিমা রাজস্ব হিসাবে ঘাটতি হয়েছে ৬ কোটি ৫৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৮৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ তিন মাসের ঘাটতি বেড়েছে ৩ কোটি ৬৬ লাখ ২০ হাজার টাকা।
নয় মাসের হিসাবে পরিস্থিতি একই রকম। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ সময়ে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি হয়েছে ২১ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ফলে এই সময়ে ঘাটতি বেড়েছে ৩ কোটি ৯৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।
তবে জীবন বিমা তহবিলের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে রূপালী লাইফের তহবিল দাঁড়িয়েছে ৪৭৮ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪৭৬ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এক বছরে তহবিলের নিট বৃদ্ধি হয়েছে ২ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
আর্থিক সূচকে একরকম চিত্র নেই আট কোম্পানির
আটটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন পাশাপাশি রাখলে দেখা যায়, তৃতীয় প্রান্তিকে সব কোম্পানির আয়-ব্যয়ের হিসাবে ঘাটতি থাকলেও বছরের প্রথম নয় মাসের ফলাফল এক নয়। পপুলার লাইফ ও প্রাইম ইসলামী লাইফের ক্ষেত্রে ঘাটতি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পপুলার লাইফের নয় মাসের ঘাটতি ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং প্রাইম ইসলামী লাইফের ১২০ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
জীবন বিমা তহবিলের দিক থেকে মেঘনা, সানলাইফ, প্রাইম ইসলামী ও পপুলার লাইফের অবস্থান আগের বছরের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। পদ্মা ইসলামী লাইফের তহবিলও ঋণাত্মক অবস্থায় আরও নেমেছে। বিপরীতে সন্ধানী ও রূপালী লাইফের তহবিল বেড়েছে।
আয়-ব্যয়ের ঘাটতির ক্ষেত্রে মেঘনা লাইফের তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব এবং সানলাইফ, সন্ধানী লাইফ ও পদ্মা ইসলামী লাইফের প্রথম নয় মাসের হিসাব আগের বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে। আবার পপুলার লাইফের পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে। অন্যদিকে সোনালী লাইফের তৃতীয় প্রান্তিকের উদ্বৃত্ত ঘাটতিতে রূপ নিয়েছে এবং শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহও কমেছে।
অর্থাৎ আটটি কোম্পানির আর্থিক অবস্থায় একদিকে যেমন ঘাটতি ও তহবিল সংকোচনের চাপ রয়েছে, অন্যদিকে কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট সূচকে উন্নতিও দেখা যাচ্ছে। তাই সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি বুঝতে আয়-ব্যয়ের হিসাবের পাশাপাশি জীবন বিমা তহবিল ও পরিচালন নগদ প্রবাহের পরিবর্তনও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
১. ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে কয়টি জীবন বিমা কোম্পানির আয়-ব্যয়ে ঘাটতি ছিল?
আটটি কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের আয়-ব্যয়ের হিসাবে ঘাটতি ছিল।
২. কোন কোম্পানির নয় মাসের আয়-ব্যয়ের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি?
পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
৩. পদ্মা ইসলামী লাইফের জীবন বিমা তহবিল কত?
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির জীবন বিমা তহবিল ছিল ঋণাত্মক ৩৩২ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
৪. কোন কোম্পানিগুলোর জীবন বিমা তহবিল বেড়েছে?
সন্ধানী লাইফ ও রূপালী লাইফের জীবন বিমা তহবিল আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
৫. কোন কোম্পানির পরিচালন নগদ প্রবাহে উন্নতি হয়েছে?
পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে এটি ছিল ২১ টাকা ৮৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৯ টাকা ৩৩ পয়সা।
তানভির ইসলাম/