ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

Hero Splendor Plus i3S-এর দাম কত, মাইলেজ ও ফিচার জানুন

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১৭:৫৪:৪৫
Hero Splendor Plus i3S-এর দাম কত, মাইলেজ ও ফিচার জানুন

বাংলাদেশের কমিউটার মোটরসাইকেলের বাজারে পরিচিত নাম Hero Splendor Plus। সাধারণ যাতায়াত, তুলনামূলক সহজ রক্ষণাবেক্ষণ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে যারা ১০০ সিসি শ্রেণির বাইক খুঁজছেন, তাঁদের বিবেচনায় থাকতে পারে Hero Splendor Plus i3S। মডেলটির বিশেষ আকর্ষণ হলো i3S প্রযুক্তি, যা যানজটে বা সিগন্যালে কিছুক্ষণ থেমে থাকলে ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে জ্বালানি সাশ্রয়ে সহায়তা করে।

বাংলাদেশে Hero MotoCorp-এর ওয়েবসাইটে Splendor+ IBS i3S ভ্যারিয়েন্টের এক্স-শোরুম দাম উল্লেখ করা হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বাইকটিতে রয়েছে ৯৭.২ সিসির ইঞ্জিন, চার গতির গিয়ারবক্স এবং সামনে-পেছনে ড্রাম ব্রেক। তবে মাইলেজ নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন দাবির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে বলা দরকার—বাংলাদেশের অফিসিয়াল পণ্যতথ্যে এই ভ্যারিয়েন্টের পরীক্ষিত মাইলেজের সংখ্যা উল্লেখ নেই। তাই নির্দিষ্ট কোনো কিলোমিটার-প্রতি-লিটার পরিসংখ্যানকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে ধরা ঠিক হবে না।

Hero Splendor Plus i3S-এর দাম কত?

Hero MotoCorp-এর বাংলাদেশি ওয়েবসাইটের মূল্যতালিকা অনুযায়ী, Splendor+ IBS i3S-এর এক্স-শোরুম দাম ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। একই তালিকায় Splendor+ SE ভ্যারিয়েন্টের দামও ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।

এই দাম শোরুম মূল্য; নিবন্ধন, সড়ক কর, বিমা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে রাস্তায় চালানোর উপযোগী করতে মোট কত টাকা লাগবে, তা জানতে নিকটস্থ অনুমোদিত ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। শোরুমের অফার বা মূল্য পরিবর্তনের কারণেও চূড়ান্ত খরচে পার্থক্য হতে পারে।

i3S প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে?

Hero Splendor Plus i3S-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো আইডল স্টপ-স্টার্ট প্রযুক্তি। ট্রাফিক সিগন্যাল বা যানজটে বাইক থামিয়ে রাখার সময় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই প্রযুক্তি ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়। আবার চালক ক্লাচ ব্যবহার করে বাইক চালু করার প্রস্তুতি নিলে ইঞ্জিন পুনরায় চালু হয়।

এর মূল উদ্দেশ্য হলো অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইঞ্জিন চালু থাকা কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয়ে সহায়তা করা। বিশেষ করে শহরের যানজটে যেখানে বারবার থামতে হয়, সেখানে এ প্রযুক্তি কাজে আসতে পারে। তবে বাস্তবে কতটা জ্বালানি সাশ্রয় হবে, তা যানজট, চালানোর ধরন, রাস্তার অবস্থা ও বাইকের রক্ষণাবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে।

ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স

বাংলাদেশে Hero MotoCorp-এর প্রকাশিত Splendor+ স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, বাইকটিতে রয়েছে ৯৭.২ সিসির এয়ার-কুলড, ফোর-স্ট্রোক, সিঙ্গেল-সিলিন্ডার OHC ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন থেকে সর্বোচ্চ ৮.৩৬ পিএস শক্তি পাওয়া যায় ৮ হাজার আরপিএমে। সর্বোচ্চ টর্ক ৮.০৫ নিউটনমিটার, যা পাওয়া যায় ৫ হাজার আরপিএমে।

ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে চার গতির কনস্ট্যান্ট মেশ গিয়ারবক্স এবং মাল্টি-প্লেট ওয়েট ক্লাচ। স্টার্টের জন্য কিক ও সেলফ—দুই ব্যবস্থাই উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধরনের ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্সের বিন্যাস মূলত দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রয়োজনকে সামনে রেখেই তৈরি।

ব্রেক, সাসপেনশন ও টায়ার

ব্রেকিংয়ের জন্য বাইকটির সামনে ও পেছনে ১৩০ মিলিমিটারের ড্রাম ব্রেক রয়েছে। সামনের চাকায় টেলিস্কোপিক হাইড্রোলিক শক অ্যাবজর্বার এবং পেছনে পাঁচ ধাপে সমন্বয়যোগ্য হাইড্রোলিক শক অ্যাবজর্বার ব্যবহার করা হয়েছে।

সামনে ও পেছনে ৮০/১০০-১৮ মাপের টিউবলেস টায়ারের তথ্য দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। টিউবলেস টায়ারের সুবিধা হলো, পাংচার হলে অনেক ক্ষেত্রে বাতাস দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে। তবে পাংচার হলে দ্রুত পরীক্ষা ও মেরামত করানো জরুরি।

ওজন, জ্বালানি ধারণক্ষমতা ও অন্যান্য সুবিধা

প্রকাশিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, ইলেকট্রিক স্টার্ট সংস্করণটির কার্ব ওজন ১১২.৩ কেজি। বাইকটির দৈর্ঘ্য ২ হাজার মিলিমিটার, প্রস্থ ৭২০ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১ হাজার ৪০ মিলিমিটার। হুইলবেস ১ হাজার ২৩০ মিলিমিটার এবং গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৫৯ মিলিমিটার।

জ্বালানি ধারণক্ষমতা ১০ লিটার। এর মধ্যে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ ১.১ লিটার। অন্যান্য সুবিধার মধ্যে রয়েছে অ্যালয় হুইল, USB মোবাইল চার্জার, Always Headlamp On (AHO) এবং টিউবলেস টায়ার। বাংলাদেশে প্রকাশিত পণ্যতথ্যে প্রথম চারটি সার্ভিস বিনা মূল্যে এবং পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টির কথাও উল্লেখ রয়েছে। ওয়ারেন্টির শর্ত ও প্রযোজ্যতা কেনার আগে ডিলারের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।

Hero Splendor Plus i3S কাদের জন্য উপযোগী?

যাঁদের প্রতিদিন অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগত কাজে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়, তাঁদের জন্য ৯৭.২ সিসির এই বাইকটি বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে শহরের যানজটে চলাচলকারীদের জন্য i3S প্রযুক্তি বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

তবে বাইক কেনার আগে শুধু মাইলেজ বা দাম বিবেচনা করলেই হবে না। ব্রেকিং ব্যবস্থা, বসার আরাম, নিজের উচ্চতার সঙ্গে বাইকের সামঞ্জস্য, সার্ভিস সুবিধা এবং যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতাও যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে টেস্ট রাইড নিয়ে বাইকটির নিয়ন্ত্রণ ও চালানোর অনুভূতি যাচাই করলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

সব মিলিয়ে Hero Splendor Plus i3S-এর মূল আকর্ষণ হলো পরিচিত ৯৭.২ সিসির ইঞ্জিনের সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ে সহায়ক i3S প্রযুক্তি। তবে মাইলেজের নির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিত হতে হলে বাস্তব ব্যবহার ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার তথ্য প্রয়োজন। কেনার আগে সর্বশেষ দাম এবং ভ্যারিয়েন্টের ফিচার অনুমোদিত Hero শোরুম থেকে মিলিয়ে নেওয়াই ভালো।

FAQ

১. বাংলাদেশে Hero Splendor Plus i3S-এর দাম কত?

Hero MotoCorp-এর বাংলাদেশি ওয়েবসাইটে Splendor+ IBS i3S-এর এক্স-শোরুম দাম ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। নিবন্ধন ও অন্যান্য খরচ আলাদা।

২. Hero Splendor Plus i3S-এর ইঞ্জিন কত সিসির?

বাইকটিতে ৯৭.২ সিসির এয়ার-কুলড, ফোর-স্ট্রোক, সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন রয়েছে।

৩. i3S প্রযুক্তির কাজ কী?

যানজট বা সিগন্যালে বাইক থামিয়ে রাখার সময় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয় এই প্রযুক্তি। আবার চালানোর প্রস্তুতি নিলে ইঞ্জিন চালু হয়।

৪. Hero Splendor Plus i3S-এর মাইলেজ কত?

বাংলাদেশের অফিসিয়াল পণ্যতথ্যে এই ভ্যারিয়েন্টের নির্দিষ্ট পরীক্ষিত মাইলেজ প্রকাশ করা হয়নি। তাই নিশ্চিত সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। বাস্তব মাইলেজ চালানোর ধরন ও রাস্তার অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

৫. Hero Splendor Plus i3S-এ কী ধরনের ব্রেক রয়েছে?

বাংলাদেশে প্রকাশিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, সামনে ও পেছনে ১৩০ মিলিমিটারের ড্রাম ব্রেক রয়েছে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: