ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে বড় লাফ দিল ভারত
নিজস্ব প্রতিবেদক: বার্মিংহামের সবুজ মাঠে যেন টেস্ট ক্রিকেটের নতুন গল্প লিখল ভারত। ইংল্যান্ডকে বিশাল ৩৩৬ রানে হারিয়ে শুভমান গিলের নেতৃত্বে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল তারা। আর এই জয়ের সুবাদে ভারত শুধু ম্যাচই জেতেনি, ঝাঁপিয়ে উঠেছে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) পয়েন্ট টেবিলেও।
শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে এভাবে ধরাশায়ী করার পর ভারতের সংগ্রহ এখন ১২ পয়েন্ট, জয় হার বা পিসিটি ৫০ শতাংশ। সমান পয়েন্ট ও পিসিটি থাকা সত্ত্বেও নেট রান রেটের মারপ্যাঁচে ইংল্যান্ড নেমে গেছে চতুর্থ স্থানে। গিলের প্রথম জয় হিসেবে এই ম্যাচটি যেমন স্মরণীয়, তেমনি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে ভারতও নিজেকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করল।
শীর্ষে চিরচেনা অস্ট্রেলিয়া, ভরসা রাখছে শ্রীলঙ্কা
ডব্লিউটিসিতে বরাবরের মতো ধারাবাহিকতা দেখিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টানা দুই ম্যাচে হারিয়ে তাদের পয়েন্ট এখন ২৪, জয় হার ১০০%! দ্বিতীয় স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কাও কম যায়নি—১৬ পয়েন্ট ও ৬৬.৬৭% পিসিটি নিয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে তারা।
পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশের হালচাল
অন্যদিকে বাংলাদেশের চিত্র কিছুটা হতাশার। এখন পর্যন্ত মাত্র এক টেস্ট ম্যাচ খেলে ৪ পয়েন্ট অর্জন করেছে টাইগাররা, পিসিটি মাত্র ১৬.৬৭%। ফলে আপাতত পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
তালিকায় বাংলাদেশের নিচে রয়েছে কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যারা এখনও কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। তাই তাদের পয়েন্ট ও পিসিটি—দুটিই শূন্য।
ডব্লিউটিসি ২০২৫-২৭: বর্তমান চিত্র
| অবস্থান | দল | পয়েন্ট | পিসিটি (%) |
|---|---|---|---|
| ১ | অস্ট্রেলিয়া | ২৪ | ১০০ |
| ২ | শ্রীলঙ্কা | ১৬ | ৬৬.৬৭ |
| ৩ | ভারত | ১২ | ৫০ |
| ৪ | ইংল্যান্ড | ১২ | ৫০ |
| ৫ | বাংলাদেশ | ৪ | ১৬.৬৭ |
| ৬ | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | ০ | ০ |
বাংলাদেশের সামনে কী পথ?
এই অবস্থানে থাকা মানে অবশ্যই শেষ নয়, বরং শুরু—চ্যালেঞ্জের, লড়াইয়ের। বাংলাদেশ দলের সামনে এখন বড় দায়িত্ব নিজেকে প্রমাণ করার। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স আর সাহসী ক্রিকেটই পারে টাইগারদের ঘুরে দাঁড়াতে। সামনে যে সিরিজগুলো রয়েছে, সেগুলোর ফলই নির্ধারণ করবে—বাংলাদেশ ডব্লিউটিসিতে টিকে থাকবে, নাকি হারিয়ে যাবে তালিকার অতল গহ্বরে।
ভারতের এই দুর্দান্ত জয় শুধু ইংল্যান্ডের জন্য সতর্কবার্তা নয়, অন্য দলগুলোর জন্যও এক ধরনের ঘোষণা। আর বাংলাদেশের জন্য এটি যেন একটি জেগে ওঠার ডাক। এখন সময় ভুল শুধরে ফের সামনে এগিয়ে যাওয়ার। কারণ, ক্রিকেট শুধু খেলাই নয়—এটি আত্মবিশ্বাস, পরিকল্পনা আর চেষ্টার গল্প।
আল-আমিন ইসলাম/