সূচক ও লেনদেন বাড়লেও শেয়ারবাজারের দুই খাতে বড় ধাক্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) দিনের লেনদেন শেষ করেছে ইতিবাচক সূচক প্রবণতা এবং বাড়তি লেনদেন দিয়ে। ডিএসইএক্স সূচক ১৫.৫৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,১৩২.৪৭ পয়েন্টে। বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল পূর্ববর্তী দিনের তুলনায় বেশি, যা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে।
তবে এই সামগ্রিক উত্থান সত্ত্বেও বেশ কিছু খাত পারফরম্যান্সে পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সাধারণ বীমা, জীবন বীমা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের সাড়া তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল।
সাধারণ বীমা খাতে ধারাবাহিক মূল্যচাপ
ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৪২টি সাধারণ বীমা কোম্পানির মধ্যে ৩৪টির শেয়ারদর কমেছে, যা মোট কোম্পানির প্রায় ৮১ শতাংশ। দাম বেড়েছে মাত্র ৬টির, আর ২টি কোম্পানির দর অপরিবর্তিত ছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, খাতটিতে সাম্প্রতিক সময়ে অতিমূল্যায়নের ধারা, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী তথ্যের ঘাটতি এবং দুর্বল মৌলভিত্তি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে।
জীবন বীমা খাতেও নেতিবাচক প্রবণতা
জীবন বীমা খাতে তালিকাভুক্ত ১৪টি কোম্পানির মধ্যে ১১টির শেয়ারদর কমেছে এবং শুধুমাত্র ৩টি কোম্পানি ইতিবাচক প্রবণতা দেখিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি মুনাফাযোগ্যতা ও সুশাসনের অভাব এই খাতে বিনিয়োগ ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মূল্য সংশোধনের চাপ
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১১টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ৭টির দর কমেছে। মাত্র ২টি কোম্পানি দরবৃদ্ধি ধরে রেখেছে এবং বাকি ২টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
বিশ্লেষণ বলছে, অতিমূল্যায়িত কিছু কোম্পানির দর এখন প্রাকৃতিকভাবে সংশোধনের পর্যায়ে রয়েছে, যা পুরো খাতের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই অবস্থায়, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা থাকলেও বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ কোম্পানিতে পুঁজিনিবেশ করছেন।
অন্যান্য খাতে মিশ্র পারফরম্যান্স
ব্যাংক, ওষুধ ও রসায়ন, বস্ত্র খাতেও বেশিরভাগ কোম্পানির দর কমেছে, তবে পতনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল। বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলেও বিনিয়োগকারীরা লাভ তুলে নেওয়ার কৌশল অনুসরণ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়।
বাজার পরিস্থিতি ও বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিভঙ্গি
সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধির বর্তমান প্রবণতা বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। তবে একযোগে একাধিক খাতে দরপতন বাজারের গভীরতর সংকেত তুলে ধরে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন বিনিয়োগকারীরা অধিকতর সতর্ক। তারা ব্যবসায়িক মৌলভিত্তি, মূল্যায়ন, তথ্য স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার ভিত্তিতে শেয়ার নির্বাচন করছেন। এর ফলে বাজারে প্রাথমিকভাবে চাপ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি স্বাস্থ্যকর বিনিয়োগ পরিবেশ গঠনে সহায়ক হবে।
ডিএসইতে সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধির মধ্যেও বিভিন্ন খাতে শেয়ারমূল্যের বিচ্ছিন্নতা বাজারের স্বাভাবিক সংশোধন এবং পুনর্মূল্যায়নেরই প্রতিফলন। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রাসঙ্গিক ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আল-আমিন ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন ফাইনাল: জেনে নিন সময়সূচি, পরিসংখ্যান ও লাইভ দেখার উপায়
- শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, নতুন নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
- আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন: টানা চার বিশ্বকাপেই মিলেছে ভবিষ্যদ্বাণী কপাল পুড়ছে যে দলের
- আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন ফাইনাল: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগদান
- মক্কা-মদিনায় জমি কিনতে কত টাকা লাগে? জানুন বর্তমান বাজারদর
- বেনজীর ও হাদী হত্যা মামলায় বড় আপডেট
- একসঙ্গে ৪ মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃ'ত্যু
- পরিচালনা বোর্ডে ফিরতে চান পিপলস লিজিংয়ের উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডাররা
- প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হত্যা মামলার আসামি নিয়ে বড় তথ্য দিল সেনাবাহিনী
- আমদানি বাণিজ্যে নতুন নিয়ম জারি বাংলাদেশ ব্যাংকের
- ফ্রান্স দলের নতুন কোচ, চুক্তিতে সই সম্পন্ন