শেয়ারবাজারে ছয় কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগে পতন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা, ২১ জুলাই ২০২৫ — ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে ছয়টি শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগে ০.১০ শতাংশের বেশি হ্রাস দেখা গেছে। এই কোম্পানিগুলো হলো বাটা সু কোম্পানি, সিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, যমুনা অয়েল, রেকিট বেনকিজার এবং রেনেটা।
বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের পরিমাণ ও বিদেশি বিনিয়োগের বিশদ বিবরণ নিম্নরূপ:
বাটা সু কোম্পানি: মোট শেয়ার ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার, পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। বিদেশি বিনিয়োগ মে মাসে ছিল ১.২১%, যা জুনে ১.১১% এ নেমেছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের অংশীদারিত্ব ৭০%, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ১৯.৩৬% এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৯.৫৩%। ২০২৪ অর্থবছরে ৪৫৫% ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করেছে।
সিটি ব্যাংক: মোট শেয়ার ১৫২ কোটি ১২ লাখ ২২ হাজার ৬৯, পরিশোধিত মূলধন১ হাজার ৫২১ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা। বিদেশি বিনিয়োগ মে মাসে ৬.৭১% থেকে জুনে কমে ৬.৫৩% হয়েছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের অংশ ৩০.৩৬%, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ২২.৫০% এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৪০.৬১%। ২০২৪ সালে ১২.৫০% ক্যাশ ও ১২.৫০% বোনাস ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছে।
যমুনা অয়েল: মোট শেয়ার ১১ কোটি ৪ লাখ ২৪ হাজার ৬০০, পরিশোধিত মূলধন ১১০ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিদেশি বিনিয়োগ ০.৫০% থেকে কমে ০.২৬% হয়েছে। সরকারের শেয়ার ৬০.০৮%, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ৩০.৫৮% এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৯.০৮%। ১৫০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করেছে।
রেকিট বেনকিজার: মোট শেয়ার ৪৭ লাখ ২৫ হাজার, পরিশোধিত মূলধন ৪ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিদেশি বিনিয়োগ ১.৪২% থেকে কমে ১.১৫% হয়েছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের অংশীদারিত্ব ৮২.৯৬%, সরকারের ৩.৭৭%, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ৫.৮২% এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৬.৩০%। ৩,৩৩০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করা হয়েছে।
রেনেটা: মোট শেয়ার ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৯৬ হাজার ৪৯০, পরিশোধিত মূলধন ১১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বিদেশি বিনিয়োগ ২০.০৪% থেকে কমে ১৯.৯৪% হয়েছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৫১.২৯%, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২১.৮৬% এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬.৯১% শেয়ার রয়েছে। ৯২% ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করেছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক: মোট শেয়ার ১২০ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৯, পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ২০৮ কোটি ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বিদেশি বিনিয়োগ ০.৮০% থেকে কমে ০.৬৭% হয়েছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের অংশ ৫.৯০%, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ২৮.৮৬% এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৬৪.৫৭%। ২০২৪ সালে কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি।
বিশ্লেষণ:
জুন মাসে ছয়টি কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগে সামান্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেলেও, এই পরিবর্তনগুলি বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির একটি প্রতিফলন। ডিভিডেন্ড নীতি ও কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মালিকানা কাঠামো বিদেশি বিনিয়োগের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য এই তথ্যগুলো মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যা দেশের শেয়ারবাজারে স্থায়িত্ব ও বৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে।
আল-আমিন ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ১৫ জুলাইয়ের নির্দেশনায় নতুন ব্যাখ্যা, স্পষ্ট করল বিএসইসি
- ব্যাংক-বিমা খাতে সুখবর, তিন প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় বড় উল্লম্ফন
- পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য নতুন সুবিধা
- চার্টার্ড লাইফের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ছয় বিমা কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ, এগিয়ে পাঁচটি
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে নতুন জল্পনা, সম্ভাব্যদের তালিকায় ড. ইউনূস
- বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের নতুন বার্তা
- নতুন পে স্কেল নিয়ে বড় আপডেট, যা জানালেন অর্থমন্ত্রী
- সৌরজগতের কাছেই মিলল লুকিয়ে থাকা ৪ নতুন নক্ষত্র
- ফান্ডের সম্পদ নিয়ে বিতর্কের অবসান, যা বলছে ব্র্যাক ব্যাংক
- সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- আদালতের নির্দেশ না মানায় ইউএনওর কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন বিচারক