প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের নির্দেশে ডিএসই: সরকারি কোম্পানিতে বিনিয়োগের সুবর্ণ সুযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী এবং শেয়ারবাজারকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তার সরাসরি নির্দেশনায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এখন সম্ভাবনাময় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোকে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেবল বাজারের গভীরতাই বাড়বে না, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বলে অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ইতিমধ্যেই ডিএসই প্রায় ২০টি স্বনামধন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন করেছে। এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি সংস্থাগুলোকে শেয়ারবাজারে আসার জন্য উৎসাহিত করা এবং এর ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা। ডিএসইর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আশাবাদী যে, এই বছরের মধ্যেই অন্তত দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। এর চেয়েও বড় লক্ষ্যমাত্রা হলো, আগামী এক বছরের মধ্যে অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা, যা বাজারের সামগ্রিক চিত্রকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্মরণ করা যেতে পারে, চলতি বছরের মে মাসে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস দেশের শেয়ারবাজার সংস্কারে যে পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তার মধ্যে প্রথম এবং অন্যতম প্রধান নির্দেশনাটি ছিল—সরকারি মালিকানাধীন বা সরকারি শেয়ারধারী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে হবে। সেই নির্দেশনার আলোকেই ডিএসই সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কিছু বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী নির্বাচনের পর এক বছরের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
যেসব প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডিএসই আলোচনা করেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো), সাইনোভিয়া, নোভার্টিস, সিনজেন্টা, নেসলে বাংলাদেশ। এছাড়াও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা যেমন পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি, নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি, কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন এবং জীবন বীমা কর্পোরেশনও এই তালিকায় রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকাভুক্তি দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
একইসাথে, সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগসকে শেয়ারবাজারে আনার জন্য ডিএসই গত ২৮ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রেরণ করেছে। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির সঙ্গেও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকেও বাজারে আসার আগ্রহ দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের সাফল্য কেবল নতুন কোম্পানি অন্তর্ভুক্তির ওপর নির্ভর করে না, বরং এর জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো, কঠোর সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের জন্য হয়রানিবিহীন পরিবেশ। কোম্পানিগুলোকে বোঝাতে হবে যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি তাদের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়াতে সহায়ক। একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল বাজারই আরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মাত্র ২০টি সরকারি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে, যা মোট বাজার মূলধনের মাত্র ৭.৮১ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১২ সালে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বাজারে এসেছিল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই খাতে নতুন কোনো অগ্রগতি না হলেও, অধ্যাপক ইউনূসের এই নির্দেশনামূলক উদ্যোগ দেশের পুঁজিবাজারে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার আলো জাগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেটা ডিসক্রিপশন: অধ্যাপক ইউনূসের নির্দেশে ডিএসই ২০টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে শেয়ারবাজারে আনছে। এটি দেশের অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা বাড়িয়ে চলতি বছরে ২ ও আগামী ১ বছরে ১০টি কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করার লক্ষ্য।
মেটা কিওয়ার্ড: অধ্যাপক ইউনূস, ডিএসই, শেয়ারবাজার সংস্কার, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি, পুঁজিবাজার, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা, সরকারি তালিকাভুক্তি, বিনিয়োগ আস্থা, বাংলাদেশ অর্থনীতি
মো: রাজিব আলী/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- HSC Result 2026প্রকাশ: সহজে ঘরে বসে মোবাইলে রেজাল্ট দেখুন এখানে
- ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৪ কোম্পানি
- আজ এইচএসসি রেজাল্ট ২০২৬: অনলাইনে মার্কশিটসহ ফল দেখবেন যেভাবে
- ওয়ারিশ সনদ দিয়ে জমি নামজারি করবেন যেভাবে, জেনে নিন নিয়ম
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ৬টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- আজ HSC Result 2026: অনলাইনে মার্কশিটসহ ফল দেখবেন যেভাবে