ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

ডিএসই থেকে বাদ পড়ল এশিয়ান টাইগার ফান্ড: আবেদন নাকচ করল বিএসইসি

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১৫:৩৫:২২
ডিএসই থেকে বাদ পড়ল এশিয়ান টাইগার ফান্ড: আবেদন নাকচ করল বিএসইসি

দেশের পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের অন্যতম ইউনিট ‘এশিয়ান টাইগার গ্রোথ ফান্ড’-এর দীর্ঘ যাত্রার অবসান ঘটল। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে ফান্ডটিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই তালিকাচ্যুতির বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

অবসায়নের নেপথ্যে যা ছিল

ফান্ডটির ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি) গত বছরের নভেম্বর মাসেই অবসায়নের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ফান্ডটির অবসায়ন প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার পর থেকে এটি বাজার থেকে বিদায় নেওয়ার পথে ছিল। মূলত আইনি প্রক্রিয়ার ধাপগুলো সম্পন্ন হওয়ার পরই গত সপ্তাহে তালিকাচ্যুতির বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পায়।

কেন টিকতে পারল না এই ফান্ড?

এশিয়ান টাইগার ফান্ডের আনুষ্ঠানিক মেয়াদ শেষ হয় গত ১০ মার্চ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চেয়েছিল ফান্ডটির মেয়াদ আরও ১০ বছর বাড়িয়ে ক্লোজ-এন্ড থেকে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর করতে। তবে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিধিমালা, ২০০১-এর নির্ধারিত শর্তগুলো যথাযথভাবে পূরণ করতে না পারায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি। ফলে নিয়মানুযায়ী ফান্ডটির কার্যক্রম বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।

আর্থিক চিত্র ও বিনিয়োগকারীদের অবস্থা

২০১৫ সালে বাজারে আসা এই ফান্ডের যাত্রা শুরু হয়েছিল ৬১ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টাকার বিশাল পরিশোধিত মূলধন নিয়ে। তবে দীর্ঘ পথচলা শেষে বড় অংকের আর্থিক ঘাটতি নিয়ে বাজার ছাড়ছে তারা। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফান্ডটির বর্তমান পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

ফান্ডটির মালিকানার চিত্রে দেখা যায়, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থই এখানে সবচেয়ে বেশি জড়িত। মোট ৬ কোটি ১৭ লাখ ইউনিটের মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৬৭ দশমিক ৮০ শতাংশ ইউনিটই রয়েছে সাধারণ মানুষের হাতে। বাকি অংশের মালিকানায় রয়েছেন উদ্যোক্তা পরিচালকসহ দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

তালিকাচ্যুতির পর এখন পরবর্তী ধাপ হিসেবে সম্পদ মূল্যায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ