Md Razib Ali
Senior Reporter
শেয়ারবাজারে বড় সংস্কার: ৩ বছরে বাজার বড় করার লক্ষ্য বিএসইসির
দেশের পুঁজিবাজারের চেহারায় আমূল পরিবর্তন আনতে এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বর্তমান অর্থনীতির আকারের তুলনায় শেয়ারবাজারের যে নগণ্য অবস্থান, তাকে আগামী তিন বছরের মধ্যে কয়েক গুণ শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে বিএসইসি’র পাশে থেকে কারিগরি ও নীতিগত সহায়তার নিশ্চয়তা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
লক্ষ্য: জিডিপির ৪০ শতাংশে পৌঁছানো
সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এডিবির এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। আলোচনায় উঠে আসে যে, বর্তমানে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ১০ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে শেয়ারবাজারের মূলধন, যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বেশ পিছিয়ে। বিএসইসি আগামী ৩৬ মাসের মধ্যে এই বাজার মূলধনকে জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার দুঃসাহসী কিন্তু বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করেছে।
ক্যাপিটাল মার্কেট ডায়াগনস্টিক ও নীতি সংস্কার
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাজারের দুর্বলতা চিহ্নিত করে টেকসই উন্নয়নের পথ নকশা তৈরি করতে একটি ‘ক্যাপিটাল মার্কেট ডায়াগনস্টিক’ পরিচালনা করা হবে। এছাড়া, বড় ও আর্থিকভাবে ভিত শক্ত এমন কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসতে কর কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং আকর্ষণীয় নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিশেষ করে, বড় আকারের ঋণগ্রহীতারা যাতে কেবল ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল না থেকে শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে বিএসইসি।
অটোমেশন ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা
পুঁজিবাজারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কমিশনের প্রতিটি স্তরে ডিজিটাল পদ্ধতি বা অটোমেশন চালুর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে কমিশন।
বন্ড মার্কেটে নতুন সম্ভাবনা
বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে একটি ‘বন্ড গ্যারান্টি ফান্ড’ গঠনের প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এডিবি এই ফান্ড গঠনের কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা প্রদানে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানের বাজার গড়ার প্রতিশ্রুতি
উক্ত সভায় বিএসইসির কমিশনার ফারজানা লারুখ, পরিচালক মো. আবুল কালাম এবং এডিবির সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর স্পেশালিস্ট মানোহারি গুনাবর্ধনেসহ দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এডিবি প্রতিনিধিরা আশ্বস্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সাথেও নিবিড়ভাবে কাজ করবেন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বিএসইসি ও এডিবির এই যৌথ প্রচেষ্টা সফল হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের শেয়ারবাজার একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং বিনিয়োগবান্ধব শক্তিশালী স্তম্ভে পরিণত হবে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের পরও শেয়ারবাজারে বড় পতন
- পুরনো দলিল থেকে বর্তমান জমির মালিক বের করবেন যেভাবে
- নিজের নামে কোথায় কত জমি, অনলাইনে দেখবেন যেভাবে
- নামজারি আছে, কিন্তু দলিল নেই—জমি কি নিজের? জানুন আইন
- সোনার ভরি কত আজ? ২১, ১৮ ও ২২ ক্যারেটের দামও জেনে নিন
- Honor 600 Pro: ২০০MP ক্যামেরা ও ৭০০০mAh ব্যাটারিতে কেমন?