MD. Razib Ali
Senior Reporter
মহাকাশে তৈরি হচ্ছে একের পর এক চাদ! দেখুন ভিডিওসহ
মহাকাশে 'চাঁদ তৈরির কারখানা'! গ্রহটি পৃথিবী থেকে ৬২৫ আলোকবর্ষ দূরে
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)-র বিজ্ঞানীরা এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন। তাঁরা পৃথিবী থেকে ৬২৫ আলোকবর্ষ দূরে এমন এক মহাজাগতিক ঘটনার খোঁজ পেয়েছেন, যাকে বলা হচ্ছে 'চাঁদ তৈরির কারখানা' (Factory of Moon)। এখানে একটি দূরবর্তী গ্রহকে ঘিরে অবিরাম উপগ্রহ বা চাঁদ তৈরি হয়ে চলেছে।
মহাকাশের খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে ২০২১ সালে উৎক্ষেপণ করা জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST)-এর ক্যামেরাতেই এই বিরল ঘটনা ধরা পড়েছে। এই মহাজাগতিক কর্মশালা মহাবিশ্বে চাঁদ ও গ্রহের গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে দীর্ঘদিনের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গ্রহ সিটি চা বি এবং উপগ্রহ-সৃষ্টিকারী চাকতি
এই চাঞ্চল্যকর আবিষ্কারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সিটি চা বি (CT Cha B) নামে একটি বহির্জাগতিক গ্রহ। এই গ্রহটিকে চারপাশে ঘিরে রয়েছে একটি প্রকাণ্ড গোলাকার চাকতি বা ডিস্ক। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে এই চাকতিটিই নতুন উপগ্রহ বা চাঁদ তৈরির উৎস। এখান থেকেই একের পর এক উপগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে, যার কারণে গবেষকরা এই অঞ্চলকে 'চাঁদ তৈরির কারখানা' বলে অভিহিত করেছেন।
রহস্যময় এই চাকতি সংক্রান্ত প্রথম রিপোর্টটি গত সেপ্টেম্বরে নাসা'র বিজ্ঞানীরা 'দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স'-এ প্রকাশ করেন।
'শিশু' নক্ষত্রমণ্ডল এবং রাসায়নিক বিপরীত চিত্র
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট গ্রহটি যে নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে, তা এখনো 'শিশু' পর্যায়ে রয়েছে— যার বয়স প্রায় ২০ লক্ষ বছর। তবে গ্রহটির চারপাশের চাকতির সঙ্গে নক্ষত্রমণ্ডলীয় পদার্থের সঞ্চারের সম্পর্ক নেই। এই চাকতিটি নক্ষত্র থেকে প্রায় ৪.৬ হাজার কোটি মাইল দূরত্বে অবস্থিত।
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের পাঠানো তথ্যে বেশ কয়েকটি অণুর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পরই বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হল, এই গোলাকার চাকতিটিতে মোট সাতটি কার্বন-সমৃদ্ধ (Carbon-rich) অণুর সন্ধান মিলেছে, যার মধ্যে অ্যাসিটিলিন (Acetylene) এবং বেঞ্জিন (Benzene) অন্যতম।
এই রাসায়নিক গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পার্শ্ববর্তী নক্ষত্রের চারপাশের রাসায়নিক গঠনের সম্পূর্ণ বিপরীত। ওই নক্ষত্রমণ্ডলীতে জলের অণু পাওয়া গেলেও কার্বনের অণু প্রায় অনুপস্থিত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, কার্বন ও জলের অণুর এই বিপরীত অবস্থাটি ২০ লক্ষ বছরের বিবর্তনের ফল।
উপগ্রহ সৃষ্টির রহস্য উন্মোচনে নতুন দিগন্ত
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে এই আবিষ্কার এক বিশাল অগ্রগতি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তারা চাকতি এবং তার সঙ্গে থাকা গ্রহটিকে দৃশ্যমান অবস্থায় দেখতে পাচ্ছেন। এই প্রথমবার আমরা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারব কিভাবে উপগ্রহ তৈরি হয় এবং এর পেছনের জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়াটি কী।
গবেষকরা বলেন, "আমরা শুধু চাঁদের সৃষ্টি দেখছি না, গ্রহটির গঠনও দেখতে পাচ্ছি।" অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নক্ষত্রের আলো ঢেকে দিয়ে গ্রহের তথ্য আয়ত্তে এনেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা আরও জানতে পারবেন গ্রহ ও উপগ্রহ তৈরির জন্য ঠিক কী কী উপাদান প্রয়োজন হয়।
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা মহাজাগতিক বস্তুসমূহের জন্ম ও বিবর্তন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করবে।
ভিডিও দেখতে এখানেক্লিক করুন
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ম্যাচ কবে, কখন ও কোথায়, লাইভ দেখবেন যেভাবে
- ৩৫–৪০ হাজারে ২০২৬ সালের সেরা ৫ গেমিং ফোন
- কলা খাওয়ার সঠিক সময় কখন? সকাল নাকি রাত, জানুন
- চলছে বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর: শেষ হাসি হাসল কোন দল?
- HONOR X9e Pro: ১১,০০০mAh ব্যাটারি ও ১০,০০০ নিটস ডিসপ্লে
- বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর ম্যাচ আজ, সময় ও লাইভ দেখার উপায়
- আজ ৯/২৭/২০২৬ তারিখ: ১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট সোনার দাম কত