MD. Razib Ali
Senior Reporter
শবে কদর: নামাজের সহজ নিয়ম, নিয়ত, বিশেষ আমল ও দোয়া
পবিত্র রমজান মাসের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো 'লাইলাতুল কদর' বা শবে কদর। ফারসি ভাষায় ‘শব’ মানে রাত আর ‘কদর’ অর্থ সম্মান বা ভাগ্য। অর্থাৎ, শবে কদর হলো অতিশয় মর্যাদাপূর্ণ এমন এক রজনী, যেখানে মহান আল্লাহ তাআলা মানুষের ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করেন। হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ এই রাতে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা প্রত্যেক মুমিনের লক্ষ্য।
সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠন বিআইটিপিএন (BITPN) আইসিটি নেতৃবৃন্দের সম্মানে এক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। সেখানেও রমজানের বরকত ও শবে কদরের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে— শবে কদরের নামাজ কীভাবে পড়তে হয় বা বিশেষ কোনো নিয়ম আছে কি না? আজকের প্রতিবেদনে আমরা এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাব।
নিয়ত: মুখের বুলি নাকি অন্তরের সংকল্প?
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, নিয়ত হলো মনের একান্ত ইচ্ছা বা সংকল্প। এটি মূলত হৃদয়ের কাজ, কেবল মুখে উচ্চারণের বিষয় নয়। যেকোনো ইবাদতের আগে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মনে মনে প্রস্তুতি নেওয়াই হলো নিয়ত।
অনেকে বাংলায় এভাবে নিয়ত করেন: ‘হে আল্লাহ, আমি কেবলামুখী হয়ে আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শবে কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার ইচ্ছা পোষণ করছি— আল্লাহু আকবর।’
আবার কেউ আরবিতে বলতে চাইলে পড়তে পারেন: ‘নাওয়াইতু আন্ উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা’য়ালা রাকআতাই সালাতিল লাইলাতিল কাদ্রি নফ্লে মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি- আল্লাহু আকবর।’
তবে মনে রাখা জরুরি, নবী করিম (সা.) বা সাহাবীগণ নির্দিষ্ট কোনো বাক্য মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করেছেন— এমন কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। আপনার অন্তরের ইচ্ছাই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য।
শবে কদরের নামাজ ও ইবাদতের সঠিক পদ্ধতি
লাইলাতুল কদরের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ নামাজ বা ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। সাধারণ নফল নামাজের মতোই দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করতে হয়।
রাকাত সংখ্যা: দুই রাকাত করে আপনার সাধ্যমতো যত খুশি নামাজ পড়তে পারেন।
সুরা ও কেরাত: এই নামাজে নির্দিষ্ট কোনো সুরা পড়ার বাধ্যবাধকতা নেই। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী কোনো বিশেষ সুরা নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়া জরুরি নয়; বরং মনোযোগ ও শুদ্ধতার সাথে যেকোনো সুরা দিয়েই নামাজ পড়া যাবে।
অন্যান্য আমল: নামাজের পাশাপাশি পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, জিকির এবং তওবা-ইস্তেগফারে মগ্ন থাকা উচিত। বিশেষ করে এশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা অত্যন্ত জরুরি। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এশা ও ফজর জামাতে পড়বে, সে যেন সারারাত ইবাদতের সওয়াব পেল। (মুসলিম: ৬৫৬)
তাহাজ্জুদ: শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া আল্লাহর নৈকট্য পাওয়ার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।
শবে কদরের বিশেষ দোয়া
উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এই মহিমান্বিত রাতটি পেলে তিনি কোন দোয়াটি পড়বেন? তখন নবীজি (সা.) তাকে এই দোয়াটি পড়তে নির্দেশ দেন:
আরবি: ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧَّﻚَ ﻋَﻔُﻮٌّ ﺗُﺤِﺐُّ ﺍﻟْﻌَﻔْﻮَ ﻓَﺎﻋْﻒُ ﻋَﻨِّﻲ
উচ্চারণ: ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি নিশ্চিতভাবেই ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করাকে পছন্দ করেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (তিরমিজি: ৩৫১৩)
কুরআন ও হাদিসের আলোকে শবে কদরের গুরুত্ব
পবিত্র কুরআনের ‘সুরা আল-কদর’-এ এই রাতের ৫টি বিশেষ দিকের কথা বলা হয়েছে:
১. এই রাতেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।
২. এই রাত সম্পর্কে সাধারণ মানুষ খুব কমই জানে।
৩. শবে কদরের এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
৪. আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতাগণ এবং জিবরাঈল (আ.) এই রাতে পৃথিবীতে নেমে আসেন।
৫. সূর্যোদয় পর্যন্ত এই রাতে শান্তি ও নিরাপত্তা বিরাজ করে।
প্রস্তুতি ও অনুসন্ধানের সময়
রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯) শবে কদর খোঁজার নির্দেশনা দিয়েছেন বিশ্বনবী (সা.)। এই রাতের পূর্ণ বরকত পেতে হলে কেবল বাহ্যিক পোশাক বা সুগন্ধিই যথেষ্ট নয়, বরং মনের গভীর থেকে তওবা করে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হতে হবে। আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলির মতে, বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি অন্তরের শুদ্ধিই হলো কদর লাভের প্রধান শর্ত।
রাসুল (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।" (বুখারি: ৩৫)
তাই আসুন, শেষ দশকের এই পবিত্র রাতগুলোকে অবহেলায় না কাটিয়ে ইবাদত, দোয়া ও রোনাজারির মাধ্যমে অতিবাহিত করি।
সবাইকে শবে কদরের অফুরন্ত বরকত লাভের তৌফিক দান করুন। আমিন।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- মার্কশীটসহ এসএসসি রেজাল্ট ২০২৬ দেখবেন যেভাবে
- ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচ কবে কখন জেনে নিন দুটি প্রীতি ম্যাচের পূর্ণ সূচি
- অনলাইনে এসএসসি ফল ২০২৬ দেখার নিয়ম, রইল অফিসিয়াল লিংক
- SSC Result 2026: মার্কশীটসহ এসএসসি রেজাল্ট ২০২৬ দেখবেন যেভাবে
- SSC Result 2026:অনলাইনে এসএসসি ফল ২০২৬ দেখার নিয়ম, রইল অফিসিয়াল লিংক