MD. Razib Ali
Senior Reporter
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে যে নীতি বেছে নিল সরকার
বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ বিবেচনায় সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বা পে স্কেল বাস্তবায়নে 'ধীরগতি' ও 'সতর্ক' নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতির যে টালমাটাল অবস্থা, তার নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জ্বালানি সংকট এবং ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাটতি সরকারকে এই মুহূর্তে বড় কোনো আর্থিক ঝুঁকি নিতে নিরুৎসাহিত করছে।
সংসদ অধিবেশনে আলোচনায় আসছে পে স্কেল
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই অধিবেশনে এবং পরবর্তী বাজেট অধিবেশনে নতুন পে স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। ইতিমধ্যে সংসদীয় কার্যপ্রণালীর যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে ইতিবাচক হলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা একবারে না করে পর্যায়ক্রমে বা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন।
অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও অর্থমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ
নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমের কাছে বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির একটি চিত্র তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও সবচেয়ে নিচে। এই দুর্বল রাজস্ব পরিস্থিতি নিয়ে হুট করে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। অর্থমন্ত্রীর মতে, "পে স্কেলের সুপারিশ আমাদের পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখতে হবে। মোট কত টাকা লাগবে এবং বর্তমান অর্থনীতি তা সইতে পারবে কি না, তা যাচাই না করে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।"
পর্যালোচনা ও কমিশন প্রতিবেদন
গতকাল সচিবালয়ে পিকেএসএফ ও পে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। যদিও এটি ছিল নির্ধারিত সাক্ষাৎ, তবে সেখানে বেতন কমিশনের সুপারিশ ও প্রতিবেদন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসে গঠিত এই কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তাদের প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো জমা দেয়।
তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব ছাড়ার আগে বলেছিলেন, "কমিশনের প্রতিবেদনটি সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত। আমরা এটি নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে গেছি যাতে তারা মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এটি কার্যকর করে।"
২০২৬-২৭ অর্থবছরের চ্যালেঞ্জ
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নবম পে স্কেল চালুর একটি পরিকল্পনা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘায়িত সংকট সেই হিসাব অনেকটা জটিল করে তুলেছে। একদিকে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে রাজস্ব ঘাটতি—সব মিলিয়ে সরকার এখনই পূর্ণাঙ্গ প্রতিশ্রুতি দিতে পারছে না। তবে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যাতে কোনো হতাশা তৈরি না হয়, সেজন্য প্রস্তাবিত পে স্কেলটি আবারও রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজেট প্রণয়নের সময় এই রিভিউ প্রক্রিয়া গতি পেতে পারে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন সরকার পে স্কেল বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলেও, 'আগে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, পরে বাস্তবায়ন'—এই নীতিতেই এগোচ্ছে বর্তমান প্রশাসন।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ডিএসইতে একসঙ্গে ৭ অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রত্যাহার
- মেঘনা কনডেন্সডের শেয়ার নিয়ে ডিএসইর ‘বাই-ইন’ ঘোষণা
- মাত্র ১ পয়সা ডিভিডেন্ড, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ
- তাপস পালের নেতৃত্বে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাত
- বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ! কারা পাবেন, কীভাবে নিতে হবে
- বদলে গেল পরিস্থিতি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ব্যবস্থা ভারতে
- দেশের বাজারে আজকের সোনার দাম
- আপনার মাথায় কত টাকার সরকারি ঋণ? সংসদে মিলল সুনির্দিষ্ট হিসাব
- মূল আমানত ফেরত দেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, জেনে নিন নিয়ম
- আবারও বাড়ল সোনার দাম, আজকের বাজারদর জেনে নিন
- তাপমাত্রা নিয়ে যা বলছে আবহাওয়া অফিস
- গোসল ফরজ হলে দুধ পান করানো নিয়ে ইসলামের বিধান
- সোনা ও রুপার গহনার নতুন দাম নির্ধারণ