MD. Razib Ali
Senior Reporter
৬ শ্রেণির জমি বিক্রি নিষিদ্ধ: ধরা পড়লেই কঠোর শাস্তি
দেশের ভূমি সেবায় এখন আমূল পরিবর্তন এসেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োগে একদিকে যেমন সাধারণ ভূমি মালিকদের অধিকার সুরক্ষিত হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত জমির হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে সরকার কঠিন শৃঙ্খলে বেঁধে দিয়েছে। বর্তমানে ডিজিটাল ভূমিসেবা প্ল্যাটফর্মের আওতায় সুনির্দিষ্ট ছয় শ্রেণির জমি বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই কঠোর নিদান অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারের এজেন্ডা ও বাজেট
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান এজেন্ডা হলো— ভূমি সংক্রান্ত হয়রানি বিলোপ করে নাগরিকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং মালিকানার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। এই সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য অর্জনের জন্য ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জমির ক্রেতাদের জন্য কঠোর সতর্কতা
বর্তমানে সমস্ত তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল মঞ্চে সংযুক্ত থাকায়, ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। যেহেতু জালিয়াতি বা অবৈধ মালিকানা এখন আর গোপন করা প্রায় অসম্ভব, তাই জমি ক্রয়ের আগে বিক্রেতার স্বত্ব শতভাগ বৈধ কিনা, তা যাচাই না করে ক্রয় করলে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
নিষিদ্ধ ঘোষিত ৬ ধরনের ভূ-সম্পত্তি: পরিণতি কী হবে?
সরকার কর্তৃক বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ছয় শ্রেণির জমি এবং তা হস্তান্তরের চেষ্টার আইনি ফল নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে অর্জিত স্বত্ব
যারা পূর্বে প্রতারণামূলকভাবে জাল রেকর্ডের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা লাভ করেছেন, তারা সেই জমি এখন বিক্রি করতে পারবেন না। সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে যাচাইয়ের সময় এটি ধরা পড়লে রেজিস্ট্রেশন তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
২. জাল মিউটেশনের মাধ্যমে দাবি করা মালিকানা
আপনার সম্পত্তি যারা ভুয়া দলিল কিংবা জাল নামজারি (মিউটেশন) তৈরি করে নিজেদের মালিকানা দাবি করেছেন, ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা যাবে। ফলস্বরূপ, বিক্রির জন্য তাদের ক্ষমতা রুদ্ধ করা হবে।
৩. মিথ্যা দাখিলা সৃজনের মাধ্যমে দখলকৃত ভূ-সম্পত্তি
যারা ভুয়া দাখিলা (জমির খাজনার রসিদ) জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখল করেছেন, তারা এটি বিক্রির চেষ্টা করলে আইনি পদক্ষেপের সম্মুখীন হবেন। ধরা পড়া মাত্রই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৪. একাধিক উত্তরাধিকারীর যৌথ মালিকানার জমি (এজমালি সম্পত্তি)
যেসব জমিতে একাধিক ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারী রয়েছেন, সেই সম্পত্তি এককভাবে বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সমস্ত মালিক একমত না হলে হস্তান্তর করা যাবে না। তবে যদি বাটোয়ারা দলিল (জমির অংশ ভাগ-বাঁটোয়ারা সম্পন্ন হয়েছে এমন নথি) বিদ্যমান থাকে, তবে একজন উত্তরাধিকারী তার নির্দিষ্ট অংশ বিক্রি করতে পারবেন।
৫. সরকারি খাসজমির স্বত্ব
সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য পাওয়া খাসজমি বিক্রির কোনো অধিকার নেই। এটি বিক্রির চেষ্টা করা হলে তা অবৈধ বলে গণ্য হবে এবং এক্ষেত্রে বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়কেই আইনের আওতাভুক্ত করা হবে।
৬. অবৈধভাবে জবরদখলকৃত জমি
জোর করে বা জবরদখলের মাধ্যমে যারা নিজেকে জমির মালিক হিসেবে জাহির করছেন, তারা এই জমি কোনোমতেই বিক্রি করতে পারবেন না। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, এই দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভূমি সেবায় সুশাসন নিশ্চিত হচ্ছে। এই কঠোর নীতিমালা অবৈধ উপায়ে সম্পত্তি কেনা-বেচার পথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছে এবং জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারত ফাইনাল: কখন ও কোথায় দেখবেন সরাসরি?
- আজকের খেলার সময়সূচি: বাংলাদেশ বনাম ভারত
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬)
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারত ফাইনাল: জানুন লাইভ দেখার উপায় ও সময়সূচি
- জ্বালানি তেল নিয়ে সুখবর দিল সরকার
- আর বিশ্বকাপ খেলা হলো না নেইমারের
- দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়, সিলেটে বিশেষ সতর্কবার্তা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: (শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬)