MD. Razib Ali
Senior Reporter
সাবধান! নাক ডাকা হতে পারে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের বড় আগাম সংকেত
অনেকের কাছেই রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে নাক ডাকার শব্দ একটি অতি সাধারণ বিষয়। অনেকেই একে গভীর ঘুমের লক্ষণ বা সারাদিনের ক্লান্তির ফল হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিতে, এই 'নির্দোষ' উপদ্রবটি হতে পারে শরীরের কোনো গুরুতর সমস্যার আগাম বার্তা। শ্বাসযন্ত্রের সুস্থতার ক্ষেত্রে নাক ডাকা মূলত অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য ঝুঁকির প্রতিফলন, যা দীর্ঘমেয়াদে রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতিসহ নানাবিধ জটিলতা তৈরি করে।
নাক কেন ডাকে?
ঘুমের গভীর পর্যায়ে যখন নাক ও গলার বায়ুপথ আংশিক রুদ্ধ হয়ে যায়, তখন সেখানে প্রবাহিত বাতাসের ধাক্কায় আশেপাশের টিস্যুগুলোতে কম্পন সৃষ্টি হয়। এই কম্পনই নাক ডাকা হিসেবে প্রকাশ পায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টনসিল ফুলে যাওয়া, জিহ্বার অবস্থান শিথিল হওয়া কিংবা ঘাড়ের অংশে অতিরিক্ত মেদ জমার ফলে শ্বাসনালী সরু হয়ে যায়। বিশেষ করে 'অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া'র ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাস সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের মতো মরণব্যাধি বাসা বাঁধতে পারে।
এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার ৫টি কার্যকর সমাধান:
নাক ডাকার প্রকোপ কমাতে এবং স্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে নিচের পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে:
১. বিপদের লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা
নাক ডাকা যখন কেবল শব্দে সীমাবদ্ধ না থেকে দম বন্ধ হয়ে আসা কিংবা খাবি খাওয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন বুঝতে হবে এটি উদ্বেগের বিষয়। যদি সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ শুকিয়ে থাকে, প্রচণ্ড মাথাব্যথা হয় কিংবা সারাদিন ঝিমুনি ভাব থাকে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. দৈহিক ওজন নিয়ন্ত্রণ
শরীরের অতিরিক্ত ওজন, বিশেষ করে ঘাড় ও শ্বাসনালীর উপরিভাগে চর্বি জমে যাওয়া নাক ডাকার প্রধান কারণগুলোর একটি। ওজন সামান্য কমালেও শ্বাসনালীর ওপর চাপ কমে এবং ঘুমের সময় অক্সিজেনের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হয়।
৩. সঠিক ভঙ্গিতে ঘুমানোর অভ্যাস
আমরা কীভাবে ঘুমাচ্ছি তার ওপর নাক ডাকার তীব্রতা অনেকটা নির্ভর করে। চিৎ হয়ে শুলে মাধ্যাকর্ষণের ফলে জিহ্বা ও তালুর নরম অংশগুলো পিছনের দিকে ঝুলে পড়ে শ্বাসনালীকে বাধাগ্রস্ত করে। এর পরিবর্তে পাশ ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস করলে বায়ুপথ উন্মুক্ত থাকে এবং নাক ডাকা হ্রাস পায়।
৪. ঘুমের নিয়মিত সময়সূচী
একটি সুশৃঙ্খল ঘুমের রুটিন শ্বাসনালীর পেশীগুলোর কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস কিংবা অপর্যাপ্ত বিশ্রামের ফলে গলার পেশীগুলো অতিরিক্ত ঢিলেঢালা হয়ে যায়, যা নাক ডাকার সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
৫. নাসা-পথের প্রতিবন্ধকতা দূর করা
নাক বন্ধ থাকা বা অ্যালার্জিজনিত সমস্যার কারণে অনেকে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে বাধ্য হন। এছাড়া সাইনাসের জটিলতা বা কফ জমে যাওয়ার ফলেও এই সমস্যা প্রকট হয়। তাই নাক ডাকার সমস্যা সমাধানে আগে নাকের ভেতরের বাধা বা অ্যালার্জি দূর করা আবশ্যক।
নাক ডাকাকে স্রেফ একটি অভ্যাস হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। সঠিক জীবনযাপন এবং সামান্য সচেতনতাই পারে এই উপদ্রব থেকে মুক্তি দিতে এবং শরীরকে দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- SSC Result 2026 প্রকাশ আজ: ওয়েবসাইট ও এসএমএসে দেখার পুরো নিয়ম
- অকার্যকর ৩ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বন্ধ হলো শেয়ার লেনদেন
- শেয়ারপ্রতি সাড়ে ১০ টাকা বোনাস পাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা
- প্রশাসক বসছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে
- SSC Result প্রকাশ , এক নজরে জেনে নিন পাসের হার ও ফল দেখার নিয়ম
- SSC Result 2026 প্রকাশ সোমবার, ওয়েবসাইট ও এসএমএসে জানার নিয়ম
- জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে বিএসইসির বড় সিদ্ধান্ত, তদন্তে যেসব বিষয়
- উত্থান-পতনের দোলাচলে শেয়ারবাজার, লেনদেনের শীর্ষে যে ১০ কোম্পানি
- SSC Result প্রকাশ ১০টায়, নতুন এসএমএস নম্বরসহ জানুন যেভাবে
- SSC Result 2026 কাল, ওয়েবসাইট ও এসএমএসে দেখার নিয়ম
- মার্কশিটসহ এসএসসি ফল দেখুন এক ক্লিকে, জানুন পুরো নিয়ম
- মুনাফা বৃদ্ধির ধারায় ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ছয় মাসের হিসাব প্রকাশ
- এসএসসির ফল প্রকাশ, বোর্ডভিত্তিক পাসের হার দেখুন একনজরে
- রাজশাহী বিভাগের ২০ কলেজের তালিকা এক নজরে
- SSC Result হাতে পাওয়ার পর যে ভুলগুলো করবেন না