ঢাকা, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

MD Zamirul Islam

Senior Reporter

পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকুরিজীবীদের যা জানালেন গভর্নর ড. মনসুর

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৬:২০:২৩
পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকুরিজীবীদের যা জানালেন গভর্নর ড. মনসুর

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত 'নতুন পে-স্কেল' নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানিয়েছেন, নিকট ভবিষ্যতে অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষে এই মুহূর্তে এমন বড় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে বরিশালের একটি স্থানীয় হোটেলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় ষাণ্মাসিকের মুদ্রানীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় অংশীজনদের সাথে এই আলোচনার আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও পরবর্তী সরকার

গভর্নর স্পষ্ট করে বলেন, "বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বড়জোর একটি রূপরেখা বা কাঠামো প্রস্তুত করে দিয়ে যেতে পারে। তবে এর চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।"

তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকি। এই মুহূর্তে প্রশাসনের সমস্ত মনোযোগ নির্বাচন সফল করার দিকে। তাই নির্বাচনের আগে পে-স্কেলের মতো বড় কোনো আর্থিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার সুযোগ ক্ষীণ। নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পূর্ববর্তী সরকারের কাজগুলো পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

ক্যাশলেস লেনদেন ও কিউআর কোড

দেশের অর্থনীতিকে আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, কাগজের নোটের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ক্যাশলেস বা ডিজিটাল লেনদেনের বিকল্প নেই। বাজারে থাকা ছেঁড়া ও জরাজীর্ণ নোটের আপদ কমাতে ডিজিটাল পেমেন্ট বড় ভূমিকা রাখবে। এ লক্ষ্যে নতুন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করার ক্ষেত্রে কিউআর (QR) কোড থাকা বাধ্যতামূলক করার ইঙ্গিত দেন তিনি। এই উদ্যোগ সফল হলে দেশ দ্রুত নগদবিহীন লেনদেনের দিকে এগিয়ে যাবে।

আমদানিনীতির সীমাবদ্ধতা ও বাজার পরিস্থিতি

দেশের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আমদানিনীতিকে 'জটিল' হিসেবে আখ্যায়িত করেন গভর্নর। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা ও কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকির অভাবে সময়মতো পণ্য আমদানি করা সম্ভব হয় না। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি তৈরি হয় এবং স্থানীয় বাজারে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়।

সভার প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশ ব্যাংকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মুদ্রানীতি নিয়ে তাদের মতামত দেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ