ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

Alamin Islam

Senior Reporter

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল?

শিক্ষা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৫:০৪:৪৬
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল?

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কি বাতিলের পথে? জালিয়াতির অভিযোগে উত্তাল মিরপুর

প্রশ্নফাঁস আর ডিজিটাল জালিয়াতির কালো ছায়ায় ঢাকা পড়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। এই অনিয়মের প্রতিবাদে এবং পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন কয়েক হাজার নিয়োগপ্রত্যাশী। গতকাল রবিবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) সামনে দিনভর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

বিক্ষোভে উত্তাল অধিদপ্তর প্রাঙ্গণ

রবিবার বেলা ১১টার দিকে মিরপুরস্থ অধিদপ্তরের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন চাকরিপ্রার্থীরা। এসময় তারা নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, এবারের পরীক্ষায় প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে মেধাবীদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।

আন্দোলনকারীদের ৫ দফা সনদ

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নিয়োগপ্রত্যাশীরা ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবিগুলো হলো:

বিতর্কিত পরীক্ষাটি বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ।

নিয়োগ পরীক্ষা জেলা পর্যায়ে না নিয়ে ঢাকায় নেওয়া এবং প্রতিটি কেন্দ্রে জ্যামার ও ডিভাইস ডিটেক্টর স্থাপন।

একটি নিরপেক্ষ ও স্বতন্ত্র কমিটির তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা নেওয়া এবং একই সময়ে একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ রাখা।

প্রশ্ন তৈরির দায়িত্ব থেকে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরিয়ে দেওয়া।

প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদত্যাগ।

যে কারণে বাতিলের দাবি

গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১টি জেলায় একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার শূন্যপদের জন্য লড়াই করেন ১০ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি প্রার্থী। অর্থাৎ প্রতিটি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ৭৫ জন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরীক্ষার দুই সপ্তাহ আগেই প্রশ্নপত্র জেলা পর্যায়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা ফাঁস হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এমনকি পরীক্ষার দুই দিন আগে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া কিছু প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নের অদ্ভুত মিল পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তারা। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের দায়ে সারা দেশ থেকে ২০৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যার মধ্যে গাইবান্ধা ও নওগাঁর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ধরা পড়া সংখ্যার চেয়ে জালিয়াতি করা প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি।

কর্তৃপক্ষের অবস্থান: তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা

বিক্ষোভের মুখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, "আমরা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। প্রশ্নফাঁসের যে অপচেষ্টা হয়েছে তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই, তবে আমাদের প্রশ্নের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া আলামতের অমিল রয়েছে।"

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যদি তদন্তে ব্যাপক অনিয়ম বা প্রশ্নফাঁসের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। অন্যথায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের কাজ শুরু হবে।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ওই দিনের মতো কর্মসূচি স্থগিত করেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।

সোহাগ/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ