MD. Razib Ali
Senior Reporter
বাংলাদেশ ক্রিকেট কি নিষিদ্ধ হচ্ছে? জানাল আদালত
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে দায়ের করা একটি রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন দিল্লির উচ্চ আদালত। বুধবার (২২ জানুয়ারি) আবেদনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, বিদেশের কোনো ক্রিকেট বোর্ড বা আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর নির্দেশ দেওয়ার আইনি ক্ষমতা ভারতের আদালতের নেই। সেই সঙ্গে জনস্বার্থ মামলার নামে আদালতের সময় অপচয় করায় আবেদনকারীকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
‘পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করা আদালতের কাজ নয়’
প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করেন। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর কথিত নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আবেদনকারী বাংলাদেশকে ক্রিকেট থেকে বয়কটের দাবি জানিয়েছিলেন। তবে আদালত শুরুতেই জানিয়ে দেয়, এটি একটি নীতিগত এবং কূটনৈতিক বিষয়।
বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভারত সরকার অন্য কোনো দেশের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক বজায় রাখবে বা কোন দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে, তা সম্পূর্ণভাবে সরকারের এখতিয়ার। বিচার বিভাগ সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। আদালত আরও মনে করিয়ে দেয় যে, ভারতের ভৌগোলিক সীমানার বাইরের কোনো ঘটনা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও তাদের নেই।
আইনি সীমাবদ্ধতা ও সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদ
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশি কোনো সরকার বা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার (আইসিসি) বিরুদ্ধে কোনো আদেশ জারি করা যায় না। আবেদনকারী কেবল বাংলাদেশ নয়, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। আদালত স্পষ্ট করে দেয়, আইসিসি, বিসিবি কিংবা এসএলসি (শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট)—এই সংস্থাগুলোর কোনোটিই ভারতীয় আদালতের আইনি সীমানার অন্তর্ভুক্ত নয়।
শুনানিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা উপস্থিত ছিলেন। তিনি আদালতকে বলেন, ভিনদেশি ক্রিকেট বোর্ডকে এই মামলায় পক্ষ করা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত এবং এটি আদালতের এখতিয়ারের বাইরে।
পাকিস্তান আদালতের নজির ও হাইকোর্টের ভর্ৎসনা
আবেদনকারী নিজেকে আইনের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেন এবং নিজের দাবির সপক্ষে পাকিস্তানের একটি আদালতের রায়ের সূত্র দিতে চান। আদালত তাৎক্ষণিকভাবে এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ভারতের সাংবিধানিক আদালত প্রতিবেশী দেশের বিচারব্যবস্থা অনুসরণ করে না। আদালত মন্তব্য করে যে, ব্যক্তিগত ধারণা বা কল্পনার ওপর ভিত্তি করে জনস্বার্থ মামলা করা যায় না; এর জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি থাকা আবশ্যক।
মামলা প্রত্যাহার ও সতর্কবার্তা
আদালতের কঠোর মনোভাব এবং বড় অঙ্কের জরিমানার আশঙ্কায় আবেদনকারী শেষ পর্যন্ত পিটিশনটি প্রত্যাহারের অনুমতি চান। আদালত আবেদনটি খারিজ করার পাশাপাশি আবেদনকারীকে সতর্ক করে বলে, জনস্বার্থ মামলার (PIL) অপব্যবহার বন্ধ হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের অসার মামলা দায়েরের পরিবর্তে আবেদনকারীকে গঠনমূলক ও জনকল্যাণমূলক কাজে সময় ব্যয় করার পরামর্শ দেয় আদালত।
আদালতের চূড়ান্ত আদেশে বলা হয়েছে, আবেদনটি আইনগতভাবে টেকসই না হওয়ায় এবং আবেদনকারী তা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মামলাটি নিষ্পত্তি করা হলো।
সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ) নিচে দেওয়া হলো:
প্রশ্ন ১: কেন দিল্লি হাইকোর্টে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিষিদ্ধ করার আবেদন করা হয়েছিল?
উত্তর: বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কথিত সহিংসতার অভিযোগ তুলে দেশটির ক্রিকেট দলকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার জন্য এই আবেদনটি করা হয়েছিল।
প্রশ্ন ২: দিল্লি হাইকোর্ট আবেদনটি নিয়ে কী বলেছে?
উত্তর: আদালত আবেদনটি শুনতে সরাসরি অস্বীকার করেছে। আদালত জানিয়েছে, কোনো দেশকে নিষিদ্ধ করা বা অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি পররাষ্ট্রনীতির অংশ, যা দেখভালের দায়িত্ব সরকারের, আদালতের নয়।
প্রশ্ন ৩: আইসিসি বা বিসিবি-র বিরুদ্ধে কি ভারতীয় আদালত নির্দেশ দিতে পারে?
উত্তর: না। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেছেন যে, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের আওতায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-র মতো বিদেশি সংস্থার ওপর নির্দেশ দেওয়ার কোনো এখতিয়ার ভারতীয় আদালতের নেই।
প্রশ্ন ৪: শুনানিতে আদালত আবেদনকারীকে কী নিয়ে সতর্ক করেছে?
উত্তর: আদালত বলেছে, আইনি ভিত্তিহীন এ ধরনের আবেদন জনস্বার্থ মামলার অপব্যবহার। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করলে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
প্রশ্ন ৫: বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে শুনানিতে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: বিসিসিআই-এর পক্ষে ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, বিদেশি ক্রিকেট বোর্ডগুলোকে এই মামলায় পক্ষ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত এবং আদালতের এখতিয়ারের বাইরে।
প্রশ্ন ৬: মামলার শেষ পরিণতি কী হয়েছে?
উত্তর: আদালতের কড়া অবস্থান ও আপত্তির মুখে আবেদনকারী (যিনি একজন আইনের ছাত্র) মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করে দেয়।
প্রশ্ন ৭: আদালত কি পাকিস্তানের কোনো উদাহরণ গ্রহণ করেছে?
উত্তর: না। আবেদনকারী পাকিস্তানের একটি রায়কে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করলে আদালত তা নাকচ করে দেয় এবং জানায় যে ভারতীয় সাংবিধানিক আদালত পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা অনুসরণ করে না।
সোহেল/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের রেজাল্ট প্রকাশ নিয়ে বড় খবর, দেখবেন যেভাবে
- চলছে রংপুর বনাম সিলেট এলিমিনেটর ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল কবে? বড় তথ্য দিল অধিদপ্তর
- রাজশাহী বনাম চট্টগ্রাম সেমি ফাইনাল: চরম উত্তেজনায় শেষ ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ: বন্ধ নিউজিল্যান্ড বনাম বাংলাদেশ ম্যাচ
- রংপুর বনাম সিলেট এলিমিনেটর: শেষ বলের রোমাঞ্চে ম্যাচ শেষ জানুন ফলাফল
- Rangpur Riders vs Sylhet Titans:কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- আজ রংপুর বনাম সিলেট—এলিমিনেটর: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল কবে? বড় আপডেট জানাল প্রাথমিক অধিদপ্তর
- শিক্ষক নিয়োগের রেজাল্ট কবে? জানাল প্রাথমিক অধিদপ্তর
- অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ-বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- অজান্তেই লিভার শেষ করছে ৪টি ভুল! সাবধান করলেন বিশেষজ্ঞরা
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬)
- Rangpur Riders vs Sylhet Titans Live:চলছে ম্যাচ, সরাসরি দেখুন Live
- চলছে চট্টগ্রাম বনাম রাজশাহী কোয়ালিফায়ার ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন Live