MD. Razib Ali
Senior Reporter
নাভানা ফার্মায় তোলপাড়: বিএসইসির ৪ সদস্যের কমিটি
দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। কোম্পানির পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সৃষ্ট এই অস্থিরতা কাটাতে নড়েচড়ে বসেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। অভ্যন্তরীণ এই সংকট নিরসনে চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দল গঠন করেছে কমিশন।
গত ১০ মার্চ বিএসইসি থেকে জারি করা এক বিশেষ আদেশে এই তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত কমিশনের নিয়মিত সভায় এই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
৭ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট তলব
তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দিয়েছে বিএসইসি। অতিরিক্ত পরিচালক লুৎফুল কবির ও দেলোয়ার হোসেনের সাথে সহকারী পরিচালক মতিউর রহমান ও নিজাম উদ্দিনকে নিয়ে গঠিত এই কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। মূলত কোম্পানির করপোরেট সুশাসন ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
সভার ভেতরেই 'পাল্টা' পর্ষদ ঘোষণার অভিযোগ
বিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নাভানা ফার্মার ৬৫তম বোর্ড সভা। জানা গেছে, বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক সাইকা মাজেদ ওই সভার কাজ আইনগতভাবে শেষ ঘোষণা করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, সভা শেষ হওয়ার পরপরই পর্ষদের একটি অংশ গোপনে ভিন্ন একটি সভার আয়োজন করে।
সেই গোপন বৈঠকে জাভেদ কায়সার অ্যালিকে নতুন চেয়ারম্যান এবং সায়েদ আহমেদকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এমনকি বিদ্যমান কোম্পানি সেক্রেটারিকে সরিয়ে নতুন কাউকে নিয়োগের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান সাইকা মাজেদ বিএসইসিতে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি রাজধানীর গুলশান থানায় একটি মামলাও দায়ের করেন।
তদন্তের রাডারে যা থাকছে
বিএসইসির এই বিশেষ কমিটি নাভানা ফার্মার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে। তাদের অনুসন্ধানের মূল বিষয়গুলো হলো:
কোম্পানির ৬৪ ও ৬৫তম পর্ষদ সভা আয়োজনে বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না।
সকল বৈধ পরিচালক সভার আমন্ত্রণপত্র বা নোটিশ ঠিকমতো পেয়েছিলেন কি না।
সভার নথিপত্র বা কার্যবিবরণী তৈরিতে কোনো ধরনের কারচুপি বা তথ্য জালিয়াতি করা হয়েছে কি না।
পর্ষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বহিরাগত বা স্বার্থান্বেষী মহলের হস্তক্ষেপ ছিল কি না।
সর্বোপরি, চেয়ারম্যান পরিবর্তন বা নতুন পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন মানা হয়েছে কি না।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থান
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিএসইসি ইতোমধ্যে কোম্পানির সকল পরিচালক ও সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক সেরেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করে, একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির পর্ষদ নিয়ে এমন বিতর্ক বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতেই এই তদন্তের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- SSC Result 2026 প্রকাশে ২১ দিনের বিলম্ব, অবশেষে জানা গেল আসল কারণ
- নতুন পে স্কেল কবে কার্যকর? সরকারি সূত্রে মিলল বড় আপডেট
- বাংলাদেশিদের ভিসা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে ভারত
- SSC পাসের পর একাদশে ভর্তির নিয়ম ও তারিখ ২০২৬
- সৌদিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা কখন পাবেন প্রবাসীরা, জানুন
- ডিএসইর সাবেক সিআরও-কে শেয়ারবাজারে নিষিদ্ধ করল বিএসইসি
- সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে পিই রেশিও বেড়েছে
- SSC-র পর কি নিয়ে পড়ব? বিজ্ঞান নাকি মানবিক
- কুয়েতে হাজারো প্রবাসীর কোটি টাকা উধাও!
- রেকর্ড দামের পথে স্বর্ণ, আজকের সর্বশেষ দর প্রকাশ
- প্রবাসে থাকলে অবশ্যই জানুন, সরকারের নতুন ১০ নির্দেশনা
- সরকারি ছুটির তালিকায় নতুন সুযোগ, যেভাবে মিলবে৮ দিনের ছুটি