MD. Razib Ali
Senior Reporter
৮৯টি দিবসের নতুন তালিকা: ৫ আগস্ট যুক্ত হলেও বাদ পড়লো যেসব দিবস
দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনের তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া আগের সিদ্ধান্তগুলো অপরিবর্তিত রেখে নতুন একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিতর্কিত আটটি দিবস— যার মধ্যে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট রয়েছে— তা চূড়ান্তভাবেই বাদ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এখন থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মোট ৮৯টি দিবস পালিত হবে। তবে গুরুত্ব ও আয়োজনভেদে এসব দিবসকে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিতে (ক, খ ও গ) বিন্যস্ত করা হয়েছে।
নতুন তালিকায় গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। এই দিনটির গুরুত্ব বিবেচনায় এটিকে ‘ক’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি একই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যু দিবস ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। এই দুটি দিনই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদায় উদযাপিত ১৭টি দিবসের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
ব্যয়ের লাগাম ও আয়োজন সীমিতকরণ
জাতীয় দিবস পালনের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে:
‘খ’ শ্রেণি: এই তালিকায় থাকা ৩৭টি দিবস মূলত সচেতনতামূলক। এসব আয়োজনে মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকলেও সরকারি কোষাগার থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ করা যাবে না।
‘গ’ শ্রেণি: ৩৫টি দিবস থাকবে এই শ্রেণিতে, যেগুলো প্রতীকীভাবে পালন করা হবে এবং এর জন্য আলাদা কোনো উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হবে না।
পাশাপাশি, একই ধরনের একাধিক দিবসকে একই দিনে সমন্বয় করে পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক ও বড় ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে শুধুমাত্র আলোচনা সভা বা সেমিনারের মাধ্যমে দিবসগুলো পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কর্মঘণ্টা ও জনবল ব্যবস্থাপনা
প্রজাতন্ত্রের কাজের গতিশীলতা বজায় রাখতে বেশ কিছু নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো কর্মদিবসে জনভোগান্তি তৈরি করে সমাবেশ বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। আলোচনা সভা বা ছোটখাটো অনুষ্ঠানগুলো ছুটির দিনে অথবা অফিসের নির্ধারিত সময়ের পরে আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো বিশেষ ‘সপ্তাহ’ পালনের ক্ষেত্রে তার সময়সীমা সাত দিনের পরিবর্তে তিন দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
এছাড়া, ঢাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো অনুষ্ঠানের জন্য রাজধানীতে ডেকে আনা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে।
বিশেষায়িত দিবসের নির্দেশনা
শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, সশস্ত্র বাহিনী দিবস (২১ নভেম্বর), পুলিশ সপ্তাহ বা বিজিবি সপ্তাহের মতো বিশেষ কর্মসূচিগুলো পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা গ্রহণ করতে হবে। মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ কিংবা শিশু সপ্তাহের মতো বিষয়গুলোও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত।
পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অনেক মন্ত্রণালয় যেসব ছোটখাটো বা পুনরাবৃত্তিমূলক দিবস পালন করে থাকে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেগুলোর উপযোগিতা নেই। রাষ্ট্রীয় সময় ও সম্পদ সাশ্রয়ে এ ধরনের আয়োজন থেকে বিরত থাকতে সকল সরকারি সংস্থাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজ বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ১ম ওয়ানডে: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- ডিএসইর ৩ ব্রোকারেজ হাউসে বড় রদবদল: ৪ প্রতিনিধির নিয়োগ বাতিল
- আজকের খেলার সময়সূচি:বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান
- শেয়ারবাজারে বড় কারসাজি: সোনালি আঁশের অর্থ আত্মসাতের চিত্র
- বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ১ম ওয়ানডে: টস শেষ, জানুন ফলাফল
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান ১ম ওয়ানডে: সরাসরি দেখুন Live
- ডিভিডেন্ডের আসছে আইডিএলসি: লভ্যাংশ ঘোষণা ও বোর্ড সভার তারিখ চূড়ান্ত
- টানা ৭ দিন ব্যাংক বন্ধ, ১৮-১৯ মার্চ খোলা থাকবে যেসব শাখা
- পিএসএল সূচি: ৪ বাংলাদেশি তারকার ম্যাচ কবে, কখন?
- নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে যে নীতি বেছে নিল সরকার
- কাঁচা না কি ভাজা বাদাম? সুস্থ থাকতে কোনটি খাবেন? জেনে নিন আসল তথ্য
- আজকের স্বর্ণের দাম: (বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬)
- ৪ লাখ শিক্ষকের ঈদ বোনাস নিয়ে বড় আপডেট দিল মাউশি
- বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান: নাহিদ রানা তাণ্ডব, সরাসরি দেখুন Live
- এক বছরে সাড়ে ১৩ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ