ঢাকা, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২

Md. Mithon Sheikh

Senior Reporter

শবে কদরের রাত কবে ও কীভাবে চেনা যায়—জানুন বিস্তারিত

ধর্ম ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৭:২৪:০০
শবে কদরের রাত কবে ও কীভাবে চেনা যায়—জানুন বিস্তারিত

ইসলামের সবচেয়ে মহিমান্বিত রাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হল শবে কদর। ফারসি ভাষায় “শবে কদর” এবং আরবি ভাষায় “লাইলাতুল কদর” নামে পরিচিত এই রাতটি কোরআনের অবতরণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আল্লাহ এ রাতটিকে বিশেষ বরকতময় করেছেন, তাই মুসলিম সমাজে এটি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে।

কোরআনে বলা হয়েছে:

“শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, আমি তো এ (কোরআন) অবতীর্ণ করেছি এক লাইলাতুল মোবারকে (সৌভাগ্যের রাত্রিতে)। আমি তো সতর্ককারী। এ-রাত্রিতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়। আদেশ তো আমারই। আমিই রাসুল পাঠিয়ে থাকি, এ তোমার প্রতিপালকের তরফ থেকে অনুগ্রহ। তিনি সব শোনেন, সব জানেন।”

— সুরা দুখান, আয়াত ১–৬

যদিও কোরআনে শবে কদরের সুনির্দিষ্ট রাত উল্লেখ করা হয়নি, তবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে এটি রমজান মাসের অন্তর্ভুক্ত। সুরা বাকারায় (আয়াত ১৮৭) উল্লেখ আছে যে, কোরআন রমজান মাসে নাজিল হয়েছে। আর সুরা কদর (আয়াত ১) এ রাতের বিশেষ মর্যাদা তুলে ধরে।

বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে শবে কদরের সহজ চেনার পাঁচটি লক্ষণ এখানে তুলে ধরা হলো:

১. সূর্যোদয় হবে আলোকময়, তবে কোমল

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, শবে কদরের পরের দিন সূর্য উদিত হবে উজ্জ্বলভাবে, কিন্তু তার আলো দিনের তুলনায় কিছুটা কোমল থাকবে।

(মুসলিম : ১৬৭০)

২. আবহাওয়া থাকবে শান্ত এবং মনোরম

আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে জানা যায়, রাসুল (সা.) বলেছেন, শবে কদরের রাতটি হবে না গরম, না ঠাণ্ডা—একদম প্রফুল্লময়। সেদিন সূর্য উদিত হবে লাল আভায়, তবে আলোর তীব্রতা থাকবে কম।

(ইবনু খুযাইমাহ : ২১৯২)

৩. শেষ দশকের রাতগুলো সম্ভাব্য

উবাদাহ ইবনু সামাত (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, শবে কদর শেষ দশ রাতের মধ্যে উপস্থিত থাকে। যারা সেই রাতে নিজের আমল হিসাব নেবেন, আল্লাহ তাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী পাপ ক্ষমা করবেন। সম্ভাব্য রাতগুলো: নবম, সপ্তম, পঞ্চম, তৃতীয় অথবা শেষ রাত।

(মুসনাদ আহমাদ : ২২৭৬৫)

৪. আকাশ থাকবে স্বচ্ছ, রাতটি শান্তিপূর্ণ

হাদিসে বলা হয়েছে, শবে কদরের রাত হবে উজ্জ্বল এবং স্বচ্ছ। আবহাওয়া থাকবে শান্ত, রাতের আকাশে কোনো উল্কাপিণ্ড দেখা যাবে না।

(মাজমাউজ জাওয়ায়িদ : ৩/১৭৯; সহিহ আল-জামিঈ, হাদিস : ৫৪৭২)

৫. ফেরেশতাগণ নেমে আসবেন পৃথিবীতে

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, শবে কদরের রাত—সপ্তম, নবম বা বিংশ—পৃথিবীতে নুড়ি পাথরের চেয়ে বেশি সংখ্যক ফেরেশতাগণ নেমে আসেন।(মাজমাউল জাওয়ায়িদ, হাদিস : ৩/১৭৮; সহিহ আল-জামি, হাদিস : ৫৪৭৩)

উপসংহার:

রমজানের শেষ দশকে অবস্থিত শবে কদর একটি অত্যন্ত বরকতময় রাত। স্বচ্ছ আকাশ, মনোরম আবহাওয়া, কোমল আলো, এবং ফেরেশতাগণের উপস্থিতি—এই সব আলামত দেখে মুসলিমরা সহজে শবে কদর চিহ্নিত করতে পারেন। এ রাতের ইবাদত ও দোয়া করার মাধ্যমে অতীত ও ভবিষ্যতের পাপ থেকে মুক্তির আশ্বাস রয়েছে।

আল মাহদী/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

লভ্যাংশ ঘোষণা করল শেয়ারবাজারের ৩ কোম্পানি

লভ্যাংশ ঘোষণা করল শেয়ারবাজারের ৩ কোম্পানি

সপ্তাহজুড়ে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিন বড় প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। কোম্পানিগুলো হলো— বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ আমেরিকান... বিস্তারিত