MD Zamirul Islam
Senior Reporter
শবে বরাতের ফজিলত, আমল, দোয়া ও নামাজের নিয়ম
ইসলামি সংস্কৃতি ও কৃষ্টিতে শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতটি 'লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান' বা শবে বরাত হিসেবে পরিচিত। মহিমান্বিত এই রজনীটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত বরকতময় ও ভাগ্য পরিবর্তনের রাত। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও ক্ষমা লাভের আশায় সারাবিশ্বের মুসলমানরা এই রাতটি ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেন।
শবে বরাতের গুরুত্ব ও কোরআনের রেফারেন্স
শবে বরাতের মাহাত্ম্য সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
"নিশ্চয়ই আমি এই কোরআন নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে; নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। সেই রাতে প্রত্যেকটি প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়।" (সুরা দুখান: ৩, ৪)
মুফাসসিরগণের মতে, এই রাতে আদম সন্তানের সারা বছরের আমল, রিজিক এবং জীবনকাল লিপিবদ্ধ করা হয়।
শবে বরাতের ফজিলত ও হাদিসের বর্ণনা
শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই রাতের বরকত সম্পর্কে উম্মতকে অবহিত করেছেন।
গুনাহ মাফ: হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মধ্য শাবানের রাতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বনি কালব গোত্রের ভেড়ার লোমের সংখ্যার চেয়েও বেশি মানুষকে ক্ষমা করে দেন।" (তিরমিজি: ৭৩৯)
ক্ষমা ও রিজিক প্রার্থনা: ইবনে মাজা শরিফের এক হাদিসে বর্ণিত আছে, সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বলতে থাকেন— "আছে কি কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী, যাকে আমি ক্ষমা করব? আছে কি কোনো রিজিকপ্রার্থী, যাকে আমি রিজিক দান করব? আছে কি কোনো বিপদগ্রস্ত, যাকে আমি মুক্তি দেব?" এভাবে ফজর হওয়া পর্যন্ত মহান আল্লাহ ডাকতে থাকেন।
শবে বরাতের আমল ও নামাজের নিয়ম
শবে বরাতে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার নামাজ ফরজ বা ওয়াজিব নয়, বরং এটি নফল ইবাদতের রাত। এই রাতে দীর্ঘ সময় নিয়ে নামাজ পড়া ও দোয়া করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
নামাজের নিয়ম:
১. নফল নামাজ: এই রাতে নফল নামাজ পড়ার বিশেষ গুরুত্ব আছে। আপনি তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাসবিহ, তওবা, সালাতুল হাজাত ও শুকরানা নামাজ পড়তে পারেন।
২. দীর্ঘ রুকু-সিজদা: রাসূলুল্লাহ (সা.) এই রাতে অত্যন্ত দীর্ঘ সিজদা করতেন। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল (সা.) এত দীর্ঘ সময় সিজদায় ছিলেন যে তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন।
৩. একাকী ইবাদত: ব্যক্তিগতভাবে নফল নামাজ ও জিকির-আজকার করা এ রাতের অন্যতম আমল।
অন্যান্য আমল:
রোজা রাখা: শাবানের ১৫ তারিখে নফল রোজা রাখা সুন্নত।
কোরআন তেলাওয়াত: সুরা দুখানসহ কোরআনের ফজিলতপূর্ণ সুরাগুলো তিলাওয়াত করা।
তওবা ও ইস্তিগফার: বিগত জীবনের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
কবর জিয়ারত: রাসূলুল্লাহ (সা.) এই রাতে জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে গিয়ে মৃতদের জন্য দোয়া করতেন।
বিশেষ দোয়া
শবে বরাতের রাতে যেকোনো ভাষায় আল্লাহর কাছে নিজের মনের আকুতি জানানো যায়। তবে অসুস্থদের জন্য এবং বিপদ মুক্তির জন্য রাসূল (সা.) এর শেখানো দোয়া পাঠ করা উত্তম।
উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা, রাব্বান নাস! আযহিবিল বা’স। ওয়াশফি, আনতাশ শাফি। লা শিফাআ ইল্লা শিফা-উক, শিফা-আ’ লা ইউগাদিরু সাকামা।”
অর্থ: ‘হে মানুষের প্রতিপালক! এ রোগ দূর কর এবং আরোগ্য দান কর, তুমিই আরোগ্য দানকারী। তোমার আরোগ্য ব্যতিত কোনো আরোগ্য নেই।’
যা থেকে দূরে থাকতে হবে (বর্জনীয়)
শবে বরাতের নামে সমাজে প্রচলিত কিছু কাজ ইসলামি সুন্নাহর পরিপন্থী ও বিদআত। যেমন:
আতশবাজি ও পটকা ফোটানো।
মসজিদ, ঘরবাড়ি বা কবরস্থানে আলোকসজ্জা করা।
ইবাদত বাদ দিয়ে বেহুদা ঘোরাফেরা ও আনন্দ-উল্লাস করা।
হালুয়া-রুটি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে ইবাদত থেকে গাফেল থাকা।
উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ এই রাতে দুই শ্রেণির মানুষকে ক্ষমা করেন না: যারা আল্লাহর সাথে শিরক করে এবং যাদের অন্তরে অন্যের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ রয়েছে। তাই এই রজনীতে অন্তর পরিষ্কার করে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করাই হবে প্রকৃত মুমিনের কাজ।
শবে বরাতের শিক্ষা আমাদের জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা যেন রমজানের পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারি, মহান আল্লাহ আমাদের সেই তৌফিক দান করুন। (আমিন)
শবে বরাত FAQ
১. শবে বরাত কী?
উত্তর: শবে বরাত হলো শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত, যাকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বলা হয়। এটি বরকতময় রাত, যখন আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়।
২. এই রাতের গুরুত্ব কী?
উত্তর: কোরআনে বলা হয়েছে, এই রাতে মানুষের বছরের আমল, রিজিক ও জীবনকাল নির্ধারিত হয়। হাদিসে উল্লেখ আছে, আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং অগণিত মানুষকে ক্ষমা করেন।
৩. শবে বরাতের রাত কীভাবে পালন করা যায়?
উত্তর:
নফল নামাজ পড়া (তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাসবিহ, তওবা, সালাতুল হাজাত, শুকরানা নামাজ)।
দীর্ঘ সিজদা ও একাকী ইবাদত।
নফল রোজা রাখা।
কোরআন তেলাওয়াত।
তওবা ও ইস্তিগফার করা।
কবর জিয়ারত করে মৃতদের জন্য দোয়া করা।
৪. বিশেষ দোয়া কীভাবে পড়া হয়?
উত্তর:
উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা, রাব্বান নাস! আযহিবিল বা’স। ওয়াশফি, আনতাশ শাফি। লা শিফাআ ইল্লা শিফা-উক, শিফা-আ’ লা ইউগাদিরু সাকামা।”
অর্থ: হে মানুষের প্রতিপালক! এ রোগ দূর কর এবং আরোগ্য দান কর, তুমিই আরোগ্য দানকারী। তোমার আরোগ্য ব্যতিত কোনো আরোগ্য নেই।
৫. শবে বরাতের রাতে কোন কাজগুলো বর্জনীয়?
উত্তর:
আতশবাজি ও পটকা ফোটানো।
মসজিদ, ঘরবাড়ি বা কবরস্থানে আলোকসজ্জা।
ইবাদত বাদ দিয়ে অনর্থক আনন্দ-উল্লাস।
খাবার তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে ইবাদত থেকে গাফেল থাকা।
৬. শবে বরাতের নামাজ ফরজ কি না?
উত্তর: নয়, শবে বরাতের নামাজ নফল ইবাদত। তবে দীর্ঘ সময় নফল নামাজ ও দোয়া করা অত্যন্ত সওয়াবের।
৭. কোন মানুষকে আল্লাহ ক্ষমা করেন না এই রাতে?
উত্তর: যারা আল্লাহর সাথে শিরক করে এবং যারা অন্তরে হিংসা বা বিদ্বেষ রাখে, তাদের ক্ষমা করা হয় না।
৮. শবে বরাত পালন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: এটি আমাদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার এবং রমজানের পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দেয়।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- জরুরি বার্তা: সৌদিতে কবে ঈদ? জানাল সুপ্রিম কোর্ট
- বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর কবে? যা জানা গেল
- লভ্যাংশ পেলেন শেয়ারহোল্ডাররা
- বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা করলো রবি আজিয়াটা
- কবে শুরু বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ? দেখে নিন পূর্ণ সূচি
- ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য জরুরি খবর
- শবে কদরেরনামাজের নিয়ম, নিয়ত, বিশেষ আমল ও দোয়া
- হু হু করে কমছে স্বর্ণের দাম, দেশের আজকের বাজারদর
- ফলাফল: ৭টিতে বিএনপি, ৭টিতে আ.লীগ ১টিতে জামায়াত প্রার্থী বিজয়ী
- ক্রেতার চাপে বিক্রেতাশূন্য ৮ কোম্পানি, সূচক চাঙ্গা
- সৌদি আরবে কবে ঈদ? শাওয়ালের চাঁদ নিয়ে বড় আপডেট
- ডিএসইর দুই ব্রোকারেজে বড় রদবদল: বাদ পড়লেন ৪ প্রতিনিধি
- পিএসএল খেলতে বিসিবির শর্ত: ছাড়পত্র কি পাবেন টাইগাররা?
- ৮ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, ১ নম্বর সংকেত
- ডিএসই থেকে বাদ পড়ল এশিয়ান টাইগার ফান্ড: আবেদন নাকচ করল বিএসইসি