MD. Razib Ali
Senior Reporter
সাকিব নেই, বিশ্বকাপে কাঁপছে ৫০ উইকেটের ঐতিহাসিক রেকর্ড
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাংলাদেশের ক্রিকেট মানেই যেন একটি নাম— সাকিব আল হাসান। সময়ের পর সময় নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি গড়েছেন এমন এক উচ্চতা, যেখানে পৌঁছানো এখনো অন্যদের জন্য কঠিন। বিশ্বমঞ্চে তার বোলিং নৈপুণ্যের প্রমাণ মিলেছে পরিসংখ্যানেই— ৫০ উইকেট নিয়ে এখনো তিনিই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী।
এই কীর্তির পথে তিনি পেছনে ফেলেছেন শহিদ আফ্রিদি ও লাসিথ মালিঙ্গার মতো বিশ্ব ক্রিকেটের কিংবদন্তিদের। কিন্তু সেই শীর্ষস্থান এবার হুমকির মুখে। দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখা ‘রাজত্ব’ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তার সামনে।
রেকর্ডের দিকে তাড়া দুই স্পিনারের
চলতি আসরে সাকিব খেলছেন না। ফলে তার ঝুলিতে নতুন উইকেট যোগ হওয়ার সুযোগও নেই। আর এই সুযোগেই সামনে চলে এসেছেন দুই স্পিন বিশেষজ্ঞ— শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও আফগানিস্তানের রশিদ খান।
তাদের প্রত্যেকের সংগ্রহে রয়েছে ৩৭টি করে উইকেট। কয়েকটি সফল ম্যাচই যথেষ্ট সাকিবের রেকর্ড টপকে যাওয়ার জন্য। তাই এবারের বিশ্বকাপে বদলে যেতে পারে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর তালিকার শীর্ষস্থান।
সাকিব মানেই বাড়তি আত্মবিশ্বাস
বাংলাদেশ দলের জার্সিতে সাকিব থাকলেই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়— এমনটাই মনে করেন সমর্থকরা। ব্যাট হাতে স্থিরতা, বল হাতে ধার— দুই ভূমিকাতেই তিনি হয়ে ওঠেন নির্ভরতার প্রতীক।
তার উপস্থিতি দলকে যেমন উজ্জীবিত করে, তেমনি গ্যালারিতেও তৈরি হয় আলাদা উত্তেজনা। একসময় যার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে ক্রিকেট বিশ্ব তাকে ‘জাদুকর’ নামে চিনত, সেই তারকাই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনুপস্থিত।
নির্বাসন আর অনিশ্চয়তায় ক্যারিয়ার
রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পর সাকিবের ক্যারিয়ারে নেমে আসে ভিন্ন বাস্তবতা। দেশে ছাত্র আন্দোলন ও বিপ্লবের পর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে না পারলেও বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাকে।
অন্যদিকে আইসিসির দ্বিমুখী নীতির কারণে বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি। ফলে দেশের ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি, আর সাকিবের অনুপস্থিতি সেই শূন্যতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
ইতিহাস কি নতুন মোড় নেবে?
পরিসংখ্যান এখন বলছে—
সাকিব ৫০, হাসারাঙ্গা ৩৭, রশিদ ৩৭।
এই ব্যবধান খুব বেশি নয়। একটি ভালো টুর্নামেন্টই যথেষ্ট শীর্ষস্থান পাল্টে দিতে। তাই প্রশ্ন উঠছে— টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর তালিকায় কি এবার নতুন নাম যুক্ত হবে?
তবুও বাস্তবতা হলো, সংখ্যার হিসাব বদলালেও সাকিবের প্রভাব মুছে ফেলা কঠিন। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে তার অবদান আলাদা গুরুত্বই পাবে।
ফেরার অপেক্ষা
এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহল— নির্বাসনের অধ্যায় শেষ করে তিনি কি আবার দেশের জার্সিতে ফিরবেন? সমর্থকরা অপেক্ষায় আছেন পুরোনো সেই সাকিবকে আবার দেখতে।
সময়ের উত্তরই শেষ কথা বলবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানের গড়া অধ্যায় সহজে ভুলবে না ক্রিকেট বিশ্ব।
সাইফ খান/