ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

তিন বছর ধরে কারখানা বন্ধ, তবু শেয়ারের দামে ১৬০% উল্লম্ফন!

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১১:১৯:০৪
তিন বছর ধরে কারখানা বন্ধ, তবু শেয়ারের দামে ১৬০% উল্লম্ফন!

প্রায় তিন বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ, টানা লোকসান, সাত বছর ধরে লভ্যাংশ নেই—এমন পরিস্থিতিতেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি লিমিটেডের শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক উত্থান দেখা গেছে। মাত্র ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ১৬০ শতাংশ। এ অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বিষয়টি বিশেষ নজরদারিতে রেখেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানিটির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন পুনরায় চালুর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি শেয়ারটির দাম ছিল ৩০ টাকা ১০ পয়সা। আর ১৪ জুলাই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৮ টাকা ৩০ পয়সায়। অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৪৮ টাকা ২০ পয়সা বা ১৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, উসমানিয়া গ্লাসের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে ডিএসইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে জানা গেছে, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ৯ ও ১৩ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এর আগে ৬ জুলাই ডিএসই মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে কোম্পানিটি জানায়, শেয়ারের দাম বাড়ার মতো কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (PSI) তাদের কাছে নেই। ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থায় এমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, যা এই মূল্যবৃদ্ধিকে যৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে।

২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৩৪ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ছিল ঋণাত্মক ৩ টাকা ৮৯ পয়সা। তবে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ছিল ৬৪ টাকা ৭৩ পয়সা। আর্থিক অবস্থার কারণে কোম্পানিটির ব্যবসা টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ছাড়া যখন কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে, তখন এর পেছনে কারসাজির সম্ভাবনা থাকে। তার মতে, সরকার বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়ার পর সেটিকে কেন্দ্র করে একটি চক্র শেয়ারের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই ডিএসই ও বিএসইসির সার্ভিল্যান্স টিমের উচিত লেনদেনগুলো গভীরভাবে তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করা।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এলপিজির দামে বড় স্বস্তি, জানুন নতুন মূল্য তালিকা

এলপিজির দামে বড় স্বস্তি, জানুন নতুন মূল্য তালিকা

দেশের এলপিজি ব্যবহারকারীদের জন্য এলো স্বস্তির খবর। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি... বিস্তারিত