সাইফ পাওয়ারটেকের শেয়ারদর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, তদন্তের নির্দেশ বিএসইসি
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সেবা ও আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের শেয়ারদর ও লেনদেনে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দেওয়ায় তদন্তের নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের নির্দেশমতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করতে হবে।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, কোম্পানিটি সম্প্রতি কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা ব্যবসায়িক অগ্রগতি প্রকাশ করেনি, তা সত্ত্বেও এর শেয়ারদর ও লেনদেনের পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিগত দেড় মাসে কোম্পানির শেয়ারমূল্য প্রায় ৯০ শতাংশ (৮৯.৮৩%) বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ৫ মে সাইফ পাওয়ারটেকের প্রতি শেয়ারের দর ছিল ৫.৯০ টাকা, যা ২৮ জুন নাগাদ পৌঁছায় ১১.২০ টাকায়—অর্থাৎ দেড় মাসে দর বেড়েছে ৫.৩০ টাকা। এই বড় উত্থানের পেছনে কোনো কৃত্রিম কারসাজি কাজ করছে কি না, সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মনে সংশয় দেখা দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ১৬ জুন ডিএসই থেকে কোম্পানিকে কারণ জানতে চিঠি পাঠানো হলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দরবৃদ্ধির ব্যাখ্যা দেওয়ার মতো কোনো অপ্রকাশিত তথ্য তাদের হাতে নেই।
এ প্রসঙ্গে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেন, শেয়ারদর ও লেনদেনের এই অস্বাভাবিক গতিবিধি কমিশনের নজরে এসেছে এবং এটিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে মনে হচ্ছে না। এ কারণেই প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ডিএসইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এবং তদন্তে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্তের আওতায় একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হবে বলে বিএসইসির নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে—বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পরিকল্পিত কারসাজিমূলক লেনদেন হয়েছে কি না, গোপন মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের ভিত্তিতে ইনসাইডার ট্রেডিং সংঘটিত হয়েছে কি না, এবং ব্রোকার-ডিলার ও তাদের প্রতিনিধিরা মার্জিন নিয়ম ও কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না। সন্দেহজনক লেনদেন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো গাফিলতি বা দায় আছে কি না এবং সিকিউরিটিজ আইনের কোনো ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তাও পর্যালোচনা করা হবে।
পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজের সিইও, কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা এবং অনুমোদিত প্রতিনিধিদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।
বিএসইসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলভুক্ত আচরণবিধি ৬ ও ৮ এবং বিধি ১১-এর সম্ভাব্য লঙ্ঘনের শামিল।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোনো প্রকার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই এমন দরবৃদ্ধি অস্বাভাবিক এবং এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা রক্ষায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন।
২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় সাইফ পাওয়ারটেক। ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত এই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৩৭৯ কোটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যার বিপরীতে মোট শেয়ার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৭ কোটি ৯৩ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪৭টি। ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানির উদ্যোক্তাদের কাছে ৪০.০৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৭.৪৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪২.৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- কিছুক্ষণ পর ইংল্যান্ড বনাম ডিআর কঙ্গো লাইভ: সরাসরি দেখুন Live
- পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া: কখন, কোথায় ও কিভাবে দেখবেন লাইভ
- আজ স্পেন বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- ৬২ ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির তালিকা প্রকাশ, সতর্ক ডিএসই
- বাজার নিয়ন্ত্রণে বড় ‘গেমচেঞ্জার’ সিদ্ধান্ত নিল বিএসইসি
- আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে: জানুন একাদশ, ম্যাচের সময়সূচি ও যেভাবে দেখবেন
- বড় পরিবর্তন শেয়ারবাজারে: শীর্ষ পদে নতুন নিয়োগের ঝড়
- সুইজারল্যান্ড বনাম আলজেরিয়া: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- বিনিয়োগ কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল
- তিন মাসে ৫ শর্ত পূরণ না করলে বন্ধ হতে পারে ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠান
- চলছে ইংল্যান্ড বনাম ডিআর কঙ্গো লাইভ: সরাসরি দেখুন Live
- সূচকে সাময়িক সংশোধন, বাজারে ইতিবাচক ধারার প্রত্যাশা
- শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দুই লিজিং কোম্পানির দুর্বল আর্থিক চিত্র
- এলপিজির দামে বড় স্বস্তি, জানুন নতুন মূল্য তালিকা
- ডিভিডেন্ড বঞ্চনায় ১০ ব্যাংক, হতাশ বিনিয়োগকারীরা