ঢাকা, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

৬৭ বছরের ইতিহাস! আকিব নবীর বীরত্বে রঞ্জির সেমিতে জম্মু-কাশ্মির

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৮:২০:৫৬
৬৭ বছরের ইতিহাস! আকিব নবীর বীরত্বে রঞ্জির সেমিতে জম্মু-কাশ্মির

ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের মঞ্চে অবিশ্বাস্য এক ইতিহাস গড়ল জম্মু ও কাশ্মির। মধ্যপ্রদেশকে ৫৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছে দলটি। ১৯৫৭ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ ৬৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামে বীরত্বের নতুন এক উপাখ্যান লিখলেন আকিব নবীরা।

গতির জাদুকর আকিব নবীর ১২ উইকেট

জম্মু-কাশ্মিরের এই রূপকথার জয়ের মূল কারিগর পেসার আকিব নবী। পুরো ম্যাচে তিনি মধ্যপ্রদেশের ব্যাটারদের জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৪০ রান খরচায় ৭ উইকেট নেওয়ার পর, দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি ছিলেন বিধ্বংসী। ৭০ রানের বিনিময়ে শিকার করেন আরও ৫ উইকেট। ম্যাচে মোট ১২ উইকেট নিয়ে একাই প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ তছনছ করে দেন তিনি। এই মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আকিবের ঝুলিতে এখন পর্যন্ত জমা পড়েছে ৪৬টি উইকেট।

মধ্যপ্রদেশের প্রতিরোধ ও আকিবের আঘাত

২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল মধ্যপ্রদেশও। চতুর্থ দিনের শুরুতে ৫ উইকেটে ৮৭ রান নিয়ে লড়াই শুরু করে তারা। স্বাগতিকদের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন অলরাউন্ডার সারাংশ জৈন। তবে ব্যক্তিগত ৬৪ রানে তাকে বোল্ড করে ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেন আকিব নবী। সারাংশের বিদায়ে মধ্যপ্রদেশের ইনিংসের ধস ত্বরান্বিত হয়। শেষ উইকেটে আরিয়ান পান্ডে ও কুলদীপ সেনের ২৩ রানের ক্ষুদ্র প্রতিরোধ কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে, কিন্তু জম্মু-কাশ্মিরের জয় রুখতে পারেনি।

বিপর্যয় রুখে দেওয়া সেই লড়াকু ব্যাটিং

ম্যাচের এক পর্যায়ে প্রবল ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল জম্মু ও কাশ্মির। তবে সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা। বিশেষ করে আবিদ মুশতাক এবং বংশরাজ শর্মার মধ্যকার ধৈর্যশীল ও কার্যকরী জুটিটি জম্মু ও কাশ্মিরকে লড়াই করার মতো সম্মানজনক পুঁজি এনে দেয়। তাদের সেই লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করেই বোলাররা জয়ের ভিত গড়ার সুযোগ পান।

ঐতিহ্যের নতুন দিগন্ত

দীর্ঘ ৬৭ বছরের রঞ্জি ইতিহাসে জম্মু ও কাশ্মির এর আগে কখনো সেরা চারের স্বাদ পায়নি। মধ্যপ্রদেশের মাটিতে তাদের হারিয়ে এই অর্জন উপত্যকার ক্রিকেটে এক নতুন যুগের সূচনা করল। সেমিফাইনালে এই জয়ের ধারা বজায় রেখে শিরোপার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়াই এখন আকিব-মুশতাকদের প্রধান লক্ষ্য।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ