ঢাকা, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

বাটলার নাকি বাফুফে: এশিয়া কাপের আগে কে সত্য বলছেন?

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৮:৪৪:৫৪
বাটলার নাকি বাফুফে: এশিয়া কাপের আগে কে সত্য বলছেন?

বাংলাদেশ নারী ফুটবলের বহুল আলোচিত ‘মিশন অস্ট্রেলিয়া’ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। কিন্তু মাঠের প্রস্তুতির চেয়ে এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে কোচ এবং ফেডারেশনের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ। ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার এবং বাফুফে কর্মকর্তাদের বিপরীতমুখী অবস্থানে তৈরি হয়েছে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। দেশের ফুটবল ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—সত্যের অপলাপ করছেন কে? কোচ নাকি ফেডারেশন?

সংবাদ সম্মেলনে কোচের ‘বিস্ফোরণ’

অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রাক্কালে সংবাদ সম্মেলনে এসে রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন পিটার বাটলার। বিদেশের মাটিতে প্রস্তুতির অভাব এবং ফেডারেশনের প্রচারণা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে জনসমক্ষে যা বলা হচ্ছে, তার বড় অংশই অসত্য। বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন। আমি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করছি না, তবে আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল তা ব্যর্থ হয়েছে।”

বাটলারের অভিযোগের মূল তীর বাফুফের সেইসব প্রচারণার দিকে, যেখানে বলা হচ্ছে সবকিছু কোচের পরিকল্পনা মাফিক চলছে। বাটলার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যর্থতার দায়ভার তিনি তখনই নেবেন যখন তাকে সবকিছুর জন্য ‘বলির পাঁঠা’ বানানো বন্ধ হবে।

বাফুফের হাতে ‘লিখিত প্রমাণ’

কোচের এমন মারমুখী অবস্থানের বিপরীতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বাফুফেও। নারী উইংয়ের সাথে যুক্ত সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম দাবি করেছেন, কোচ যা বলছেন তা সত্যের অপলাপ মাত্র। ফাহাদ করিমের ভাষ্যমতে, “কোচের নিজের দেওয়া পরিকল্পনা আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। সেই অনুযায়ী কাজ করতে গিয়ে যখন শেষ মুহূর্তে কিছু সমস্যা তৈরি হলো, আমরা বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু কোচ নিজেই তাতে সম্মত হননি। এমনকি তার অনাগ্রহের কারণেই দল ১৪ ফেব্রুয়ারি যাত্রা করতে পারেনি।”

উল্লেখ্য, নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণও জানিয়েছেন, প্রস্তুতির ধরনে তিনি নিজেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তবে সব পরিকল্পনাই কোচের অনুমোদনে হয়েছিল বলে দাবি ফেডারেশনের।

লিগ বনাম জাতীয় দল: অগ্রাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব

বিদেশের মাটিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ঘরোয়া নারী ফুটবল লিগ। বাটলারের দাবি, প্রস্তুতির চেয়ে লিগ আয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বাফুফে। ফলে জাতীয় দলের ক্যাম্প এবং লিগের সময়সূচীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়।

মজার বিষয় হলো, এর আগে ভুটান লিগের কড়া সমালোচনা করলেও বাংলাদেশের লিগ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বাটলার। এমনকি সাফ ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে ফুটবলারদের নাসরিন ক্লাবে খেলার সিদ্ধান্তে বাদ সাধলেও, লিগ আয়োজনে তিনি নিজেই গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছিলেন। এখন এশিয়া কাপের আগে সেই লিগ নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন তিনি।

বাটলারের পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা নিয়ে সংশয়

পিটার বাটলারের আচরণ নিয়ে বিতর্ক এটাই প্রথম নয়। এর আগে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টের ব্যর্থতার পর ফেডারেশনকে রিপোর্ট না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সাংবাদিকদের কাছে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন তিনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি নিজের পাঠানো বার্তা মুছে দিয়ে অস্বীকার করেন।

ফুটবল মহলের অনেকেরই ধারণা, এশিয়া কাপের মতো বড় আসরে সম্ভাব্য ব্যর্থতার দায় এড়াতেই কি বাটলার আগেভাগে ফেডারেশনের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন? কোচের চুক্তিভঙ্গকারী ও ফুটবল জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলা এমন আক্রমণাত্মক আচরণের পরও বাফুফে কেন নমনীয়, তা নিয়েও চলছে বিচার-বিশ্লেষণ।

বাটলার এবং বাফুফে—দুই পক্ষই এখন যার যার অবস্থানে অনড়। একদিকে কোচের অভিযোগ ‘মিথ্যাচারের’, অন্যদিকে ফেডারেশনের দাবি ‘প্রমাণের’। এই দুইয়ের মাঝে পড়ে দেশের নারী ফুটবলের ভবিষ্যৎ যেন কিছুটা অনিশ্চয়তার মুখেই পড়ছে। এশিয়া কাপের মঞ্চে এই মানসিক অস্থিরতা লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ