ঢাকা, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২

Alamin Islam

Senior Reporter

৮২ ম্যাচে ৮২ জয়! ফুটবলে অবিশ্বাস্য এক অজেয় ক্লাবের গল্প

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১১:৩০:৫৫
৮২ ম্যাচে ৮২ জয়! ফুটবলে অবিশ্বাস্য এক অজেয় ক্লাবের গল্প

বিশ্ব ফুটবলে হার না মানার গল্প বললেই আর্সেনালের সেই বিখ্যাত 'ইনভিন্সিবল' মৌসুমের কথা মনে পড়ে। কিন্তু তুর্কমেনিস্তানের ক্লাব এফকে আরকাদাগ যা করে দেখিয়েছে, তার সামনে আর্সেন ওয়েঙ্গারের সেই রেকর্ডও এখন ম্লান। স্রেফ ৮২টি ম্যাচ খেলেছে ক্লাবটি, আর তার প্রতিটিতেই তারা মাঠ ছেড়েছে বিজয়ী বেশে! আধুনিক ফুটবলে এমন গাণিতিক হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

জন্ম থেকেই অপরাজেয়: একটি অবিশ্বাস্য জয়যাত্রা

২০২৩ সালের এপ্রিলে ফুটবল মানচিত্রে নাম লেখায় এফকে আরকাদাগ। এরপর থেকে তুর্কমেন লিগে তারা একটি পয়েন্টও প্রতিপক্ষকে দেয়নি। টানা তিন মৌসুমে লিগ শিরোপা জয়ের পথে তাদের এই দাপটকে অনেকে কেবল ফুটবলীয় দক্ষতা নয়, বরং ক্ষমতার চূড়ান্ত প্রদর্শন হিসেবেও দেখছেন।

নেপথ্যে ৩৩০ কোটি ডলারের শহর ও ‘রক্ষাকর্তা’

এই ক্লাবটির আকাশচুম্বী সাফল্যের বীজ লুকিয়ে আছে তুর্কমেনিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট গুরবানগুলি বেরদিমুহামেদভের পরিকল্পনায়। তার সম্মানসূচক উপাধি ‘আরকাদাগ’ (যার অর্থ রক্ষাকর্তা) নামেই ক্লাবটির নামকরণ। প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত একটি আধুনিক ‘স্মার্ট সিটি’র প্রতিনিধিত্ব করে এই দল। লিগে কোনো বিদেশি খেলোয়াড় না থাকার সুযোগে দেশের সেরা সব প্রতিভা এখন আরকাদাগের তাঁবুতে। কার্যত পুরো তুর্কমেন ফুটবলই এখন এই একটি ক্লাবের কর্তৃত্বে।

ঘরোয়া ডমিন্যান্স ও মহাদেশীয় ট্রফি

লিগের বাইরে নকআউট টুর্নামেন্টগুলোতেও আরকাদাগের রেকর্ড নিখুঁত। ১৪টি ঘরোয়া কাপ ম্যাচের সবগুলোতে জিতে তারা পকেটে পুরেছে ৩টি তুর্কমেনিস্তান কাপ এবং ২টি সুপার কাপ। তবে তাদের টানা ৬১ ম্যাচের জয়ের বিশ্বরেকর্ডটি হোঁচট খায় এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে কুয়েতের আল আরাবির কাছে হেরে। যদিও সেই হারের ক্ষত মুছে টুর্নামেন্টের অভিষেক আসরেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে তারা।

রোনালদো বনাম আরকাদাগ: মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে রহস্যই বেশি

সম্প্রতি এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-এর নকআউট পর্বে ফুটবল বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল এক দ্বৈরথের—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আল নাসর বনাম অজেয় আরকাদাগ। কিন্তু দুই লেগের কোনো ম্যাচেই দেখা মেলেনি পর্তুগিজ মহাতারকার।

ম্যাচের প্রেক্ষাপট:

১১ ফেব্রুয়ারি (প্রথম লেগ): তুর্কমেনিস্তানের মাটিতে আল নাসর ১-০ গোলে জিতলেও রোনালদো দলে ছিলেন না। গুঞ্জন ওঠে, পিআইএফ-এর প্রতি অসন্তোষ থেকে তিনি ম্যাচটি বয়কট করেছেন।

১৮ ফেব্রুয়ারি (দ্বিতীয় লেগ): রিয়াদের মাটিতে ফিরতি লেগের লড়াইয়েও একই চিত্র। ১-০ গোলের জয়ে আল নাসর পরের রাউন্ডে গেলেও রোনালদোকে মাঠে নামানো হয়নি।

হাজার গোলের স্বপ্ন দেখা রোনালদো কি তবে তুর্কমেনিস্তানের এই ‘দুর্ভেদ্য’ রক্ষণের মুখোমুখি হতে কোনো দ্বিধায় ছিলেন? নাকি নেপথ্যে ছিল অন্য কোনো সমীকরণ? মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এই রহস্যই এখন ফুটবল পাড়ায় মূল আলোচনার বিষয়। তবে রোনালদোর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ৮২ ম্যাচের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান এফকে আরকাদাগকে ফুটবলের ইতিহাসে এক রহস্যময় রূপকথা হিসেবে অমর করে রেখেছে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ