ঢাকা, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

ঋণখেলাপিদের জন্য নতুন ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় যা আছে

অর্থনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ২১ ১০:৪৭:৪২
ঋণখেলাপিদের জন্য নতুন ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় যা আছে

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানো, আদায় বাড়ানো এবং ঋণসংক্রান্ত মামলা কমাতে নতুন কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআরের আওতায় মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়ে খেলাপি ঋণ আদায়ে তাদের কাজে লাগানো হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এসব মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান একাধিক প্যানেল গঠন করে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির অনাদায়ী খেলাপি ঋণ আদায়ে কাজ করবে। ঋণ আদায়ের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত হারে কমিশন পাবে।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি সার্কুলারের মাধ্যমে নীতিমালা জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নীতিমালায় মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের প্যানেলে থাকা ব্যক্তিদের যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার বিষয়ে কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি, আইন পেশা, হিসাবরক্ষণ, নিরীক্ষা কিংবা বিচারকার্যে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা প্যানেলে তালিকাভুক্ত হতে পারবেন।

তবে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, জালিয়াতি বা নৈতিক স্খলনের কারণে চাকরি বা পেশা থেকে বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিদের প্যানেলে রাখা যাবে না। কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানির ঋণখেলাপি ব্যক্তিও এতে থাকতে পারবেন না।

এ ছাড়া রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বা স্বার্থের সংঘাত রয়েছে—এমন ব্যক্তিদেরও প্যানেলে রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নীতিমালায় আর্থিক খাতের গ্রাহকদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান তথ্যের গোপনীয়তা ভঙ্গ করলে, স্বার্থের সংঘাত গোপন করলে কিংবা নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ বিধান লঙ্ঘন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের তালিকাভুক্তি স্থগিত করতে পারবে।

গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা বা অসদাচরণে জড়িত হলে কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত পেশাগত মানদণ্ড অনুযায়ী সেবা দিতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবছর তাদের কার্যক্রমের প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেসব খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে, সেসব ঋণের তালিকা মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে দেওয়া হবে। এরপর গোপনীয়তা বজায় রেখে তারা ঋণ আদায়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

খেলাপি ঋণ আদায় ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের নজির ভারত, পাকিস্তান ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশে রয়েছে। বাংলাদেশেও সীমিত পরিসরে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবার নীতিমালার মাধ্যমে এ ব্যবস্থাকে আরও কাঠামোবদ্ধ করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদি মামলা কমিয়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতে আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার করা।

পাঠকের মতামত: