ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

মার্জিন ঋণে বিএসইসির নতুন নিয়ম, বদলে গেল শেয়ার বিক্রির শর্ত

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ০৮:২৪:৫২
মার্জিন ঋণে বিএসইসির নতুন নিয়ম, বদলে গেল শেয়ার বিক্রির শর্ত

শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের ক্ষেত্রে নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫ সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

সংশোধিত বিধিমালায় গ্রাহকের নিজস্ব ইক্যুইটি ও মার্জিন অর্থায়নের অনুপাত ১:১ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো গ্রাহকের হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ না থাকলে তাকে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রকাশিত সংশোধিত বিধিমালার গেজেটে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্জিন কলের নিয়মে পরিবর্তন

সংশোধিত বিধিমালায় মার্জিন কল ও শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা বাড়তি সময় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পোর্টফোলিওর ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে মার্জিন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগকারীকে মার্জিন কল বা আগাম নোটিশ দিতে হবে।

তবে ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে আগাম নোটিশ ছাড়াই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান শেয়ার বিক্রি করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহককে লিখিতভাবে অথবা ই-মেইল ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে। প্রয়োজন হলে ফোন কলের মাধ্যমেও গ্রাহককে অবহিত করা যাবে।

৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ না থাকলে মার্জিন ঋণ নয়

কোনো গ্রাহকের হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ না থাকলে তাকে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

এ ছাড়া কোনো সিকিউরিটি মার্জিনের জন্য অযোগ্য হলেও বিনিয়োগকারী নিজের নগদ অর্থে সেটি কিনতে পারবেন। তবে পরবর্তী সময়ে ওই সিকিউরিটির মূল্যকে ইক্যুইটি হিসেবে দেখিয়ে মার্জিন ঋণ নেওয়া যাবে না।

যেসব শেয়ারে মার্জিন ঋণ মিলবে না

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, ‘Z’, ‘N’ ও ‘G’ ক্যাটাগরির শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না।

এ ছাড়া এসএমই বোর্ড, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) এবং ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজও মার্জিন সুবিধার বাইরে থাকবে।

শুধু স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বাজারে তালিকাভুক্ত যোগ্য ‘A’ ও ‘B’ ক্যাটাগরির শেয়ারে মার্জিন সুবিধা পাওয়া যাবে।

পিই ৪০-এর বেশি হলে মার্জিন ঋণ নয়

জীবন বীমা কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য খাতের কোনো শেয়ারের প্রাইস-আর্নিংস (P/E) অনুপাত ৪০-এর বেশি হলে ওই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

কোনো কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) ঋণাত্মক হলেও সেই শেয়ার মার্জিন সুবিধার অযোগ্য হবে।

পিই নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বশেষ ট্রেডিং দিনের সমাপনী মূল্যকে সর্বশেষ চার প্রান্তিকের ইপিএসের যোগফল দিয়ে ভাগ করে ট্রেইলিং পিই হিসাব করা হবে।

জীবন বীমায় বিবেচনা হবে পিবি

জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিইর পরিবর্তে প্রাইস-টু-বুক (P/B) অনুপাত বিবেচনা করা হবে।

কোনো জীবন বীমা কোম্পানির পিবি ৩-এর বেশি হলে ওই শেয়ারে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না। একইভাবে কোনো কোম্পানির নিট সম্পদ মূল্য (NAV) ঋণাত্মক হলেও শেয়ারটি মার্জিন সুবিধার বাইরে থাকবে।

এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ ট্রেডিং দিনের সমাপনী মূল্যকে সর্বশেষ নিরীক্ষিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দিয়ে ভাগ করে পিবি নির্ধারণ করা হবে।

একক শেয়ারে অর্থায়নের সর্বোচ্চ সীমা

মার্জিন অর্থায়নকারীদের ঝুঁকি কমাতে কোনো একটি সিকিউরিটিতে অর্থায়নের সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের ২০ শতাংশের বেশি কোনো একটি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ বা অর্থায়ন করতে পারবে না।

মার্জিন চুক্তির মেয়াদ এক বছর

সংশোধিত বিধিমালায় মার্জিন চুক্তির মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো পক্ষ চুক্তি বাতিল না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে।

তবে মার্জিন অর্থায়নকারী বা গ্রাহক চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ১৫ দিন আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।

মার্জিনে নেওয়া অর্থ শুধু মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটি কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

তবে চুক্তিতে নির্ধারিত গ্রাহকের ইক্যুইটি ও মার্জিন অর্থায়নের ন্যূনতম অনুপাত বজায় থাকলে গ্রাহক তার মার্জিন হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

বিনিয়োগকারীর জন্য কী পরিবর্তন

সংশোধিত বিধিমালায় মূলত মার্জিন ঋণের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ, যোগ্য শেয়ার নির্ধারণ এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।

একদিকে ১:১ ইক্যুইটি-ঋণ অনুপাত ও ৩ লাখ টাকার ন্যূনতম বিনিয়োগের শর্ত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মার্জিন কলের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ও ২৫ শতাংশ ইক্যুইটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কোন বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ পাবেন, কোন শেয়ারে তা ব্যবহার করা যাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে ঋণদাতা শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন—এসব বিষয়ে আগের তুলনায় নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ