ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

লটারি নাকি পরীক্ষা, ২০২৭ সালের স্কুল ভর্তি নিয়ে নতুন ভাবনা

শিক্ষা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ২১:১৮:২৬
লটারি নাকি পরীক্ষা, ২০২৭ সালের স্কুল ভর্তি নিয়ে নতুন ভাবনা

প্রায় এক যুগ ধরে স্কুলে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে চলে আসা লটারিতে এবার শ্রেণিভেদে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে সরকার। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই রেখে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে।

তবে নতুন এই কাঠামো এখনো চূড়ান্ত নয়। খসড়াটিতে কিছু সংশোধনের কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো শেষ হওয়ার পর এটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে বিদ্যমান ভর্তি নীতিমালায় সংশোধন এনে যেকোনো সময় এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হতে পারে।

যেভাবে বদলাতে পারে ভর্তি ব্যবস্থা

প্রস্তাবিত কাঠামো কার্যকর হলে প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরীক্ষা দিতে হবে না; লটারির মাধ্যমেই বাছাই করার ব্যবস্থা থাকবে। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী নেওয়া হবে ভর্তি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে।

এই পরিকল্পনা আগের ঘোষণার তুলনায় বিস্তৃত। কারণ ৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শুধু প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের লটারির মাধ্যমে বাছাই করা হবে।

এরপর একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারি রাখার বিষয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেওয়ার পরিকল্পনাও সামনে এসেছে।

আগের পরীক্ষার কাঠামো কেমন ছিল

শ্রেণিভেদে ভর্তি পরীক্ষার যে কাঠামো আগে জানানো হয়েছিল, সেখানে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য মোট ৫০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরীক্ষার্থীদের এক ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল।

এই চার শ্রেণির পরীক্ষায় বাংলার জন্য ১৫, ইংরেজির জন্য ১৫ এবং গণিতের জন্য ২০ নম্বর রাখা হয়েছিল।

অন্যদিকে ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল ১০০ নম্বরে। এ পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ সময় ছিল দুই ঘণ্টা। নম্বর বিভাজনে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কীভাবে লটারির প্রচলন

সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি বাছাইয়ে লটারির ব্যবহার শুরু হয়েছিল শুধু প্রথম শ্রেণিকে ঘিরে। প্রায় এক যুগ ধরে এই পদ্ধতি চলে আসার পর করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে এর পরিধি বাড়ে। তখন অন্যান্য শ্রেণিতেও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ পদ্ধতি নিয়ে পরিবর্তনের দাবিও সামনে আসে। ২০২৪ সালে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রথম শ্রেণির বাইরে অন্যান্য শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানায়।

সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালা সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ওই সভায় লটারি পদ্ধতি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও বদলায়নি পদ্ধতি

পরবর্তী বছর, অর্থাৎ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও সরকারি-বেসরকারি স্কুলের ভর্তি কার্যক্রমে লটারি ব্যবস্থাই রাখা হয়।

এ সময় ভর্তি লটারি নাকি পরীক্ষা—কোন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী নেওয়া হবে, তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম ঘিরে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তাও।

এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালেই পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে লটারি ব্যবস্থা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ সামনে রেখে সেই অবস্থান থেকে নতুন করে পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে সরকার।

এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় প্রস্তাব

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রেণিভেদে লটারি ও ভর্তি পরীক্ষা চালুর বিষয়ে খসড়া তৈরি হয়েছে। তবে সেটিতে কিছু সংশোধন এখনো সম্পন্ন হয়নি।

সংশোধনের কাজ শেষ হওয়ার পর খসড়াটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে বিদ্যমান ভর্তি নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থা চালুর আদেশ দেওয়া হতে পারে।

অর্থাৎ, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কোন পদ্ধতিতে হবে, তা নির্ভর করছে খসড়ার সংশোধন ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ওপর। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে থাকবে লটারি, আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে নেওয়া হবে ভর্তি পরীক্ষা।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ