এইচএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ পরীক্ষা দিতে পারবে না যারা
এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য এইচএসসির বিশেষ সম্পূরক পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও তিন বা তার বেশি বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য আপাতত সেই সুযোগ থাকছে না। অর্থাৎ, এবার একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের সবাই বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। শিক্ষা বোর্ডগুলোর বর্তমান পরিকল্পনায় পরীক্ষার সুযোগ সীমিত রাখা হচ্ছে শুধু এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থীদের জন্য।
এ সিদ্ধান্তে সম্পূরক পরীক্ষার অপেক্ষায় থাকা তিন থেকে পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়েছেন। তাঁদের দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরীক্ষার ফল খারাপ হয়েছে। এখন বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে তাঁদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ফেল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারা সুযোগ পাচ্ছেন?
এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। তাঁদের মধ্যে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জনের অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি এক বা দুই বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অংশের শিক্ষার্থীরাই সম্পূরক পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেতে পারেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন। দুই বিষয়ে ফেল করেছেন আরও ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। অন্যদিকে তিন বা তার বেশি বিষয়ে অকৃতকার্যদের আপাতত এই তালিকায় রাখা হচ্ছে না।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে জাগো নিউজকে বিষয়টি জানিয়েছেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা অনেক শিক্ষার্থী বাকি বিষয়গুলোতে ভালো ফল করেছেন। তাঁদের জন্য বিশেষ সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা আলাদাভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণেই আপাতত তিন বা তার বেশি বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থীদের সম্পূরক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
ডিসেম্বরের মধ্যেই পরীক্ষা ও ফল শেষ করার পরিকল্পনা
সম্পূরক পরীক্ষা আয়োজনের জন্য শিক্ষা বোর্ডগুলো একটি সংক্ষিপ্ত সময়সূচি ধরে এগোচ্ছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২ ডিসেম্বর পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষা নেওয়ার পর উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং ফল প্রকাশের কাজ শেষ করতে চায় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে।
অর্থাৎ পরীক্ষা শুরু থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বোর্ডগুলোর হাতে এক মাসেরও কম সময় থাকবে। এই সময়ের মধ্যে পরীক্ষার আয়োজন, উত্তরপত্র দেখা এবং ফল প্রস্তুতের কাজ শেষ করতে হলে সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোকে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে।
এর আগে গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের জন্য সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতেই এমন উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
ফলাফলে পাসের হার কমেছে, জিপিএ-৫-ও কম
সম্পূরক পরীক্ষার পরিকল্পনার পেছনে এবার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার হয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় পাসের হার প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে।
গত ২১ বছরের ফলাফলের মধ্যে এবারই পাসের হার সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এবার প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৪৮ জন উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
শুধু পাসের হার নয়, সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমেছে। এবার প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা অন্তত ২৯ হাজার কম।
সব মিলিয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের একটি অংশের জন্য সম্পূরক পরীক্ষার পরিকল্পনা থাকলেও তিন বা তার বেশি বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থীরা আপাতত সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। ২ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু এবং ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশের যে লক্ষ্য রয়েছে, সেটি বাস্তবায়িত হলে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত ফল উন্নত করার সুযোগ পাবেন। তবে বাকি শিক্ষার্থীদের জন্য সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হবে কি না, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যের মধ্যে নতুন কোনো ঘোষণা নেই।
FAQ
১. এইচএসসির সম্পূরক পরীক্ষা কবে শুরু হওয়ার কথা?
আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২. কত বিষয়ে ফেল করলে সম্পূরক পরীক্ষা দেওয়া যাবে?
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
৩. তিন বা তার বেশি বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীরা কি পরীক্ষা দিতে পারবেন?
আপাতত তাঁদের সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
৪. এবার এক বা দুই বিষয়ে কতজন শিক্ষার্থী ফেল করেছেন?
এক বিষয়ে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জনসহ মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।
৫. সম্পূরক পরীক্ষার ফল কবে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে?
পরীক্ষা, উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়া ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আল-মামুন/