ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

৩০ মিনিটেই বিয়ে, যোগিতা জানতেনই না মিঠুনের পরিকল্পনা

বিনোদন ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ২১:২৪:৫৪
৩০ মিনিটেই বিয়ে, যোগিতা জানতেনই না মিঠুনের পরিকল্পনা

বিয়ের জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি, পরিবারকে জানানো কিংবা বড় কোনো আয়োজন—কিছুই ছিল না। বরং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার জন্য পুরোহিতকে আগে থেকেই সময় বেঁধে দিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। পরদিন সকাল ৯টায় তাঁর বাড়িতে এসে যোগিতা বালি দেখতে পান, তাঁকে বিয়ে করার জন্য সব প্রস্তুতি আগেই সেরে রেখেছেন মিঠুন। এরপর মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হয় তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।

মিঠুন চক্রবর্তী ও যোগিতা বালির এই বিয়ের ঘটনা অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্যের মতোই নাটকীয়। সম্পর্কের শুরু থেকে বিয়ে পর্যন্ত তাঁদের পথ মোটেও সহজ ছিল না। পারিবারিক আপত্তির কারণে বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল বিয়ের পরিকল্পনা। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার অবসান ঘটাতে মিঠুন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটিই তাঁদের বিয়ের গল্পকে আরও আলোচিত করে তুলেছে।

মিঠুনের আগে কিশোর কুমারের সঙ্গে বিয়ে

যোগিতা বালির জীবনে মিঠুন আসার আগে আরেকটি দাম্পত্য অধ্যায় ছিল। ১৯৭৬ সালে সুরকার ও গায়ক কিশোর কুমারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। কিন্তু সেই সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৭৮ সালে তাঁদের সম্পর্কের ইতি ঘটে।

এরপর সত্তরের দশকের শেষ দিকে মিঠুনের সঙ্গে যোগিতার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। প্রথমে বন্ধুত্ব থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ককে বিয়েতে পরিণত করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পারিবারিক আপত্তি। যোগিতার মা এই সম্পর্ক এবং বিয়েতে সম্মতি দিচ্ছিলেন না।

ফলে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল।

অপেক্ষা না করে নিজেই ব্যবস্থা করেন মিঠুন

একসময় পরিস্থিতি নিয়ে আর অপেক্ষা করতে চাননি মিঠুন। তিনি যোগিতাকে শুধু জানালেন, পরদিন সকাল ৯টার মধ্যে যেন তাঁর বাড়িতে পৌঁছান।

এই নির্দেশের আসল কারণ অবশ্য তখনও যোগিতার জানা ছিল না।

মিঠুন এরই মধ্যে নীরবে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলেন। নিজের ছোট্ট শোবার ঘরেই পুরোহিত ডেকে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এমনকি বিয়ের সময় নিয়েও তাঁর পরিকল্পনা ছিল বেশ কড়া।

পুরোহিতকে মিঠুন জানিয়ে দেন, পুরো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সময় পাওয়া যাবে। এক মিনিটও অতিরিক্ত নেওয়া যাবে না। সময়ের বিষয়ে পুরোহিতকে টাকা দিয়েও সতর্ক করেছিলেন তিনি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ের মন্ত্রপাঠ ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার প্রস্তুতি নেন পুরোহিত।

সকাল ৯টায় এসে আসল ঘটনা জানতে পারেন যোগিতা

পরদিন সকাল ঠিক ৯টায় মিঠুনের বাড়িতে পৌঁছান যোগিতা। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, বিষয়টি শুধু দেখা করতে আসার নয়; তাঁকে বিয়ে করার জন্যই এত আয়োজন।

এরপর দ্রুত শুরু হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। মিঠুন যোগিতাকে সাত পাক ঘোরার জন্য বলেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে পুরোহিতও দ্রুত মন্ত্রপাঠ চালিয়ে যান।

সাত পাক শেষ হওয়ার পর যোগিতার কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেন মিঠুন। এরপর পুরোহিত জানান, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

পুরো ঘটনাটি শেষ হয় সেই সময়সীমার মধ্যেই, যা মিঠুন আগে থেকেই নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।

বিয়ের খবর মাকেই জানাতে পাঠান যোগিতাকে

তবে বিয়ে শেষ হওয়ার পর মিঠুনের পরিকল্পনার আরেকটি অধ্যায় সামনে আসে। পুরোহিতকে বিদায় দেওয়ার পর তিনি যোগিতাকে জানান, তাঁদের বিয়ে হয়ে গেছে।

এরপর যোগিতাকে নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে বলেন মিঠুন। সেখানে গিয়ে মায়ের কাছে তাঁদের বিয়ের খবর জানাতে হবে—অর্থাৎ, বিয়ের পরই যোগিতার দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় নিজের মাকে বিষয়টি জানানো।

এভাবেই পারিবারিক সম্মতির অপেক্ষায় থাকা সম্পর্কটি শেষ পর্যন্ত অন্যভাবে পরিণতি পায়।

১৯৭৯ সালে শুরু হয় তাঁদের সংসার

১৯৭৯ সালে মিঠুন চক্রবর্তী ও যোগিতা বালি দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করেন। তাঁদের বিয়ের পুরো ঘটনাটিতে ছিল প্রেমের সম্পর্ক, পারিবারিক আপত্তি, গোপন প্রস্তুতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিয়ে শেষ করার মতো একাধিক নাটকীয় উপাদান।

সম্প্রতি ফারহা খানের ভ্লগে নিজের জীবনের এই ঘটনা জানিয়েছেন মিঠুন। তাঁর বক্তব্য সামনে আসার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ১৯৭৯ সালের সেই বিয়ে—যে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছিল মাত্র ৩০ মিনিটে।

FAQ

মিঠুন চক্রবর্তী ও যোগিতা বালির বিয়ে কবে হয়েছিল?

১৯৭৯ সালে তাঁদের বিয়ে হয়।

মিঠুন ও যোগিতার বিয়ে কতক্ষণে সম্পন্ন হয়েছিল?

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ৩০ মিনিটের মধ্যে শেষ করার জন্য সময় নির্ধারণ করেছিলেন মিঠুন।

যোগিতা বালির আগে কার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল?

১৯৭৬ সালে সুরকার ও গায়ক কিশোর কুমারের সঙ্গে যোগিতা বালির বিয়ে হয়েছিল। ১৯৭৮ সালে সেই সম্পর্কের ইতি ঘটে।

মিঠুন কোথায় যোগিতাকে বিয়ে করেছিলেন?

মিঠুন নিজের ছোট্ট শোবার ঘরে পুরোহিত ডেকে বিয়ের আয়োজন করেছিলেন।

যোগিতার পরিবার কি এই বিয়েতে রাজি ছিল?

যোগিতার মা মিঠুনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও বিয়েতে রাজি ছিলেন না। এ কারণে বিয়ের পরিকল্পনা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত: