ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

মোবাইলেই দেখুন জমির খতিয়ানে নিজের নাম আছে কি না

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১১:৩৬:৪৯
মোবাইলেই দেখুন জমির খতিয়ানে নিজের নাম আছে কি না

জমির খতিয়ানে নিজের নাম রয়েছে কি না, তা জানতে এখন সব সময় ভূমি অফিসে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারি অনলাইন ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই খতিয়ানের তথ্য অনুসন্ধান করা যায়। খতিয়ান নম্বর জানা থাকলে সরাসরি সেটি দিয়ে খোঁজা সম্ভব। আবার খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলেও জমির মালিকের নাম বা দাগ নম্বর ব্যবহার করে অধিকতর অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে।

তবে অনলাইনে খতিয়ানে নিজের নাম পাওয়া গেলেই জমির মালিকানা নিয়ে সব ধরনের আইনি বিষয় চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়ে যায়—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। জমি কেনা, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনোভাবে মালিকানা পরিবর্তনের পর নামজারি বা মিউটেশন সম্পন্ন হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই খতিয়ানের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও মিলিয়ে দেখা উচিত।

অনলাইনে খতিয়ানে নিজের নাম দেখবেন যেভাবে

খতিয়ানে নিজের নাম রয়েছে কি না যাচাই করার জন্য প্রথমে সরকারি ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবায় প্রবেশ করতে হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনলাইন ভূমি সেবা ব্যবস্থায় ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ দেখার আলাদা সেবা রয়েছে।

অনুসন্ধানের সময় জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত, সেই অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা এবং মৌজার তথ্য নির্বাচন করতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের ধরন নির্বাচন করে অনুসন্ধান করা যায়।

জমির কাগজপত্রে খতিয়ান নম্বর উল্লেখ থাকলে সেটি ব্যবহার করেই সহজে রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলে চিন্তার কারণ নেই। সরকারি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবায় ‘অধিকতর অনুসন্ধান’ অপশন ব্যবহার করে মালিকের নাম বা দাগ নম্বরের মাধ্যমে খতিয়ান খোঁজার ব্যবস্থা রয়েছে।

খতিয়ান নম্বর না জানলেও নাম দিয়ে খুঁজবেন

অনেকের কাছেই জমির দলিল থাকলেও খতিয়ান নম্বর মুখস্থ থাকে না। এ ক্ষেত্রে জমির মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করা যেতে পারে।

এ জন্য প্রথমে জমির অবস্থান অনুযায়ী বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা এবং মৌজার তথ্য নির্বাচন করতে হবে। এরপর অধিকতর অনুসন্ধানের মাধ্যমে মালিকের নাম দিয়ে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড খোঁজা যায়।

তবে নাম দিয়ে খোঁজার সময় একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। তাই শুধু নাম মিলে গেলেই সেটিকে নিজের জমির খতিয়ান ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

খতিয়ানে থাকা পিতা বা স্বামীর নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, মৌজার নামসহ অন্যান্য তথ্যও নিজের কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

খতিয়ানে কোন কোন তথ্য মিলিয়ে দেখবেন

অনলাইনে কোনো খতিয়ান পাওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো তথ্যগুলো ভালোভাবে যাচাই করা।

প্রথমে দেখতে হবে খতিয়ানে মালিক হিসেবে কার নাম রয়েছে। এরপর পিতা বা স্বামীর নাম, খতিয়ান নম্বর এবং দাগ নম্বর মিলিয়ে দেখা উচিত। একই সঙ্গে জমির পরিমাণ ও মৌজার তথ্যও নিজের দলিল বা অন্যান্য রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।

বিশেষ করে দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একই ব্যক্তির নামে একই এলাকায় একাধিক জমি থাকতে পারে। আবার একই নামে অন্য ব্যক্তির রেকর্ডও থাকতে পারে।

খতিয়ানে নিজের নাম না থাকলে কী করবেন?

অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধান করে নিজের নাম পাওয়া গেল না বলে সঙ্গে সঙ্গে ধরে নেওয়া উচিত নয় যে জমিটি আপনার নয়।

এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো ব্যক্তি জমি কিনেছেন বা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন, কিন্তু নতুন মালিকের নামে এখনো নামজারি সম্পন্ন হয়নি। সেক্ষেত্রে পুরোনো রেকর্ডে আগের মালিকের নাম দেখা যেতে পারে।

আরও পড়ুন:

জমির নামজারি আটকে গেলে কোথায় যোগাযোগ করবেন, জানুন করণীয়

নামজারি করতে কী কী লাগে? আবেদন থেকে খতিয়ান পাওয়ার নিয়ম

ভাইয়ের নামে জমি, কিন্তু অন্য ওয়ারিশের দাবি—এ ক্ষেত্রে কী হতে পারে?

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রয়-বিক্রয়, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো কারণে জমির মালিকানা পরিবর্তন হলে রেকর্ড হালনাগাদের জন্য মিউটেশন বা নামজারি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।

তাই খতিয়ানে নিজের নাম না থাকলে দলিল, পুরোনো খতিয়ান, নামজারির কাগজপত্র এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

সার্ভে খতিয়ান ও নামজারি খতিয়ান এক নয়

জমির রেকর্ড দেখতে গিয়ে অনেকেই সার্ভে খতিয়ান ও নামজারি খতিয়ান নিয়ে বিভ্রান্ত হন। দুটি রেকর্ডের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট এক নয়।

পুরোনো জরিপের সময় তৈরি হওয়া রেকর্ডে আগের মালিকের নাম থাকতে পারে। পরবর্তী সময়ে জমি হস্তান্তর বা উত্তরাধিকারের কারণে নতুন মালিকের নামে নামজারি হয়ে থাকলে সেই পরিবর্তনও রেকর্ডে প্রতিফলিত হতে পারে।

এ কারণে অনলাইনে খতিয়ান খোঁজার সময় কোন ধরনের খতিয়ান দেখা হচ্ছে, সেটি খেয়াল করা জরুরি। শুধু একটি পুরোনো খতিয়ানে নাম না থাকার কারণে বর্তমান মালিকানা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

নামজারি হয়েছে কি না, সেটিও দেখুন

জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পাওয়ার পর নিজের নামে নামজারি করা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে নামজারি বা মিউটেশনের জন্য অনলাইন ই-মিউটেশন ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।

মিউটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট খতিয়ান ও DCR-এর কপি পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। তাই জমি নিজের নামে রেকর্ড হয়েছে কি না যাচাই করতে শুধু পুরোনো খতিয়ান নয়, নামজারির অবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

খতিয়ানে ভুল তথ্য থাকলে কী করবেন?

অনলাইনে খতিয়ান দেখার সময় যদি নিজের নামের বানান, পিতা বা স্বামীর নাম, দাগ নম্বর কিংবা অন্য কোনো তথ্যে ভুল পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ভূমি রেকর্ডে বিভিন্ন ধরনের করণিক বা প্রকৃত ভুল সংশোধনের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে ভুল সংশোধনের বিষয়টি সব ক্ষেত্রে একই রকম নয়। বিশেষ করে কোনো সংশোধনের ফলে অন্য ব্যক্তির স্বত্ব বা অধিকার প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে বিষয়টি জটিল হতে পারে।

তাই রেকর্ডে ভুল দেখতে পেলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করে নির্ধারিত নিয়মে সংশোধনের আবেদন করাই নিরাপদ।

অনলাইনে খতিয়ান দেখা আর সার্টিফাইড কপি নেওয়া এক নয়

অনলাইনে খতিয়ানের তথ্য দেখা এবং সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করা একই বিষয় নয়।

ভূমি সেবা পোর্টালে খতিয়ানের অনলাইন কপি ও সার্টিফাইড কপির জন্য নির্ধারিত ফি রয়েছে। কোনো জমি কেনাবেচা, মামলা, ব্যাংক বা সরকারি কাজে নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের কপি গ্রহণ করবে, সেটি আগে নিশ্চিত করা ভালো।

অর্থাৎ, নিজের জমির তথ্য প্রাথমিকভাবে যাচাই করতে অনলাইন রেকর্ড দেখা সুবিধাজনক হলেও গুরুত্বপূর্ণ আইনি বা প্রশাসনিক কাজে প্রয়োজনীয় নথির যথাযথ কপি সংগ্রহ করা উচিত।

ভূমি সেবা নিয়ে সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ করবেন?

অনলাইনে খতিয়ান খুঁজতে গিয়ে সমস্যা হলে কিংবা ভূমি-সংক্রান্ত কোনো সেবা নিয়ে তথ্য প্রয়োজন হলে সরকারি ভূমি সেবা সহায়তা নম্বর ১৬১২২-এ যোগাযোগ করা যায়।

অনলাইন সেবায় তথ্য না পাওয়া, রেকর্ডে অসঙ্গতি থাকা বা নামজারি-সংক্রান্ত জটিলতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে।

ঘরে বসে খতিয়ান যাচাইয়ের মূল কথা

খতিয়ানে নিজের নাম আছে কি না জানতে প্রথমে সরকারি ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবায় গিয়ে জমির অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য নির্বাচন করতে হবে। খতিয়ান নম্বর জানা থাকলে সেটি দিয়ে সরাসরি অনুসন্ধান করা যায়। আর খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলে মালিকের নাম বা দাগ নম্বর দিয়ে অধিকতর অনুসন্ধান করা সম্ভব।

তবে শুধু নামের মিল দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, মৌজা, জমির পরিমাণ এবং পিতা বা স্বামীর নামসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খতিয়ানে নাম থাকা এবং জমির মালিকানা নিয়ে চূড়ান্ত আইনি অবস্থান—দুটি বিষয়কে এক করে দেখা যাবে না। জমি ক্রয় বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার পর নামজারি সম্পন্ন হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড হালনাগাদ আছে কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে।

FAQ

প্রশ্ন: খতিয়ান নম্বর না জানলে কি নিজের নাম দিয়ে খতিয়ান দেখা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। সরকারি ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবায় অধিকতর অনুসন্ধানের মাধ্যমে মালিকের নাম বা দাগ নম্বর ব্যবহার করে খতিয়ান খোঁজার ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রশ্ন: অনলাইনে খতিয়ানে নিজের নাম না থাকলে কী করবেন?

উত্তর: প্রথমে দলিল, পুরোনো খতিয়ান ও নামজারির কাগজপত্র যাচাই করতে হবে। মালিকানা পরিবর্তনের পর নামজারি সম্পন্ন না হয়ে থাকলে পুরোনো মালিকের নাম রেকর্ডে থাকতে পারে।

প্রশ্ন: শুধু খতিয়ানে নাম থাকলেই কি জমির মালিকানা নিশ্চিত?

উত্তর: শুধু একটি রেকর্ড দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। দলিল, খতিয়ান, দাগ, জমির পরিমাণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নামজারির তথ্য একসঙ্গে যাচাই করা ভালো।

প্রশ্ন: খতিয়ানে নামের বানান ভুল থাকলে কী করবেন?

উত্তর: ভুলের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত নিয়মে রেকর্ড সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হয়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সহায়তা নেওয়া উচিত।

প্রশ্ন: ভূমি সেবা নিয়ে সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ করব?

উত্তর: সরকারি ভূমি সেবা সহায়তার জন্য ১৬১২২ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: