ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাইয়ের নামে জমি, কিন্তু অন্য ওয়ারিশের দাবি—এ ক্ষেত্রে কী হতে পারে?

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ১২:৪৭:৪৪
ভাইয়ের নামে জমি, কিন্তু অন্য ওয়ারিশের দাবি—এ ক্ষেত্রে কী হতে পারে?

ভাইয়ের নামে জমির খতিয়ান বা নামজারি হয়ে গেলেই যে ওই জমির ওপর অন্য উত্তরাধিকারীদের আর কোনো অধিকার থাকবে না—এমনটা সব ক্ষেত্রে নয়। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তাঁর রেখে যাওয়া জমি যদি উত্তরাধিকারসূত্রে একাধিক ব্যক্তির পাওয়ার কথা হয়, কিন্তু রেকর্ডে শুধু একজন ভাইয়ের নাম ওঠে, তাহলে অন্য ওয়ারিশরা নিজেদের আইনগত অংশ দাবি করতে পারেন। বিরোধ তৈরি হলে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নামজারি সংশোধন, আপস-বণ্টন কিংবা আদালতের বাটোয়ারা মামলাতেও গড়াতে পারে।

বাংলাদেশের ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থায় উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে প্রকৃত ওয়ারিশদের অংশ বিবেচনা করে রেকর্ড হালনাগাদ করার বিধান রয়েছে। সরকারি জরিপ নির্দেশিকাতেও বলা হয়েছে, রেকর্ডীয় মালিক মারা গেলে তাঁর প্রযোজ্য উত্তরাধিকার আইনের ভিত্তিতে উত্তরাধিকারীদের নামে খতিয়ান খোলা এবং তাদের আইনগত অংশ উল্লেখ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

তবে কোনো জমি শুধু উত্তরাধিকারসূত্রে এসেছে, নাকি জীবদ্দশায় মালিক বৈধভাবে দলিল করে দিয়েছেন, উইল/হেবা/দান করেছেন কিংবা অন্য কোনো বৈধ হস্তান্তর করেছেন—তার ওপর ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করে।

শুধু ভাইয়ের নামে খতিয়ান থাকলেই কি তিনি একক মালিক?

না, শুধু খতিয়ানে একজনের নাম থাকা দিয়ে সব পরিস্থিতিতে একক মালিকানা চূড়ান্ত হয়ে যায় না।

যদি জমিটির মূল মালিক ছিলেন বাবা, মা বা অন্য কোনো ব্যক্তি এবং তাঁর মৃত্যুর পর একাধিক ব্যক্তি আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারী হন, তাহলে শুধু একজন ভাইয়ের নামে নামজারি হয়ে যাওয়ার কারণেই অন্য ওয়ারিশের আইনগত অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায় না।

ভূমি প্রশাসনের সরকারি নির্দেশিকায়ও উত্তরাধিকারসূত্রে পরিবর্তিত মালিকানা অনুযায়ী খতিয়ান হালনাগাদের কথা বলা হয়েছে। নামজারি প্রক্রিয়ায় ওয়ারিশ সনদসহ সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

অর্থাৎ, ‘খতিয়ানে কার নাম আছে’ এবং ‘আইন অনুযায়ী প্রকৃত মালিকানা কার কতটুকু’—এই দুটি বিষয় সবসময় এক নয়।

কখন অন্য ওয়ারিশের দাবি জোরালো হতে পারে?

ধরা যাক, কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার সময় তাঁর নামে জমি ছিল। তিনি স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে বা অন্যান্য আইনগত উত্তরাধিকারী রেখে গেছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কোনোভাবে শুধু একজন ছেলের নামে জমির নামজারি হয়েছে।

এ অবস্থায় অন্য উত্তরাধিকারীরা যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তাঁরাও ওই মৃত মালিকের বৈধ উত্তরাধিকারী এবং তাঁদের অংশ রয়েছে, তাহলে তারা নিজেদের অংশ দাবি করতে পারেন।

সরকারি জরিপ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আপস-বণ্টন বা আদালতের বাটোয়ারা ডিক্রি না থাকলে এজমালি উত্তরাধিকারী জমির নির্দিষ্ট কোনো দাগকে শুধু একজন শরিকের একক মালিকানা হিসেবে দেখানো উচিত নয়; সংশ্লিষ্ট শরিকদের অংশ বিবেচনা করতে হয়।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোন উত্তরাধিকারী কত অংশ পাবেন, তা সবার জন্য একই নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ধর্মীয়/ব্যক্তিগত উত্তরাধিকার আইন, মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারী এবং সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা—এসবের ওপর অংশ নির্ধারিত হয়।

ভাইয়ের নামে নামজারি হয়ে গেলে অন্য ওয়ারিশ কী করতে পারেন?

প্রথমে জমির প্রকৃত ইতিহাস যাচাই করা জরুরি। শুধু বর্তমান খতিয়ান দেখলেই সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়।

সাধারণভাবে দেখতে হবে—

মূল জমির মালিক কে ছিলেন;

তিনি কবে মারা গেছেন;

তাঁর বৈধ উত্তরাধিকারী কারা;

কোন খতিয়ানে জমিটি ছিল;

ভাইয়ের নামে কীভাবে নামজারি হয়েছে;

কোনো রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে জমি ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল কি না;

ওয়ারিশ সনদে কারা আছেন;

ভূমি উন্নয়ন কর ও অন্যান্য রেকর্ডে কী তথ্য রয়েছে;

আগে কোনো বণ্টননামা, আপসনামা বা আদালতের ডিক্রি হয়েছিল কি না।

ভূমি প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী উত্তরাধিকার বা রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নামজারি, জমাভাগ বা জমা একত্রীকরণের প্রয়োজন হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট খতিয়ান, ওয়ারিশ সনদ, দলিল, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়।

সবাই রাজি থাকলে কীভাবে সমাধান হতে পারে?

সব উত্তরাধিকারী যদি নিজেদের অংশ নিয়ে একমত হন, তাহলে পারিবারিকভাবে বণ্টনের মাধ্যমে বিরোধ মেটানো সম্ভব হতে পারে। প্রয়োজনীয় আইনগত ও রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বণ্টনের বিষয়টি রেকর্ডেও প্রতিফলিত করা যায়।

আরও পড়ুন:

খতিয়ানে নিজের নাম আছে কি না? ঘরে বসেই যেভাবে জানবেন

খতিয়ান, পর্চা ও দাগ নম্বর—কোনটির কাজ কী?

সরকারি জরিপ নির্দেশিকায়ও আপস-বণ্টন কার্যকর হওয়ার কথা এবং আদালতের বাটোয়ারা ডিক্রি না থাকলে এজমালি সম্পত্তির ক্ষেত্রে পৃথক শরিকের নামে নির্দিষ্ট দাগের একক মালিকানা দেখানোর বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

তবে মৌখিকভাবে ‘ভাইকে জমি দিয়ে দিয়েছি’ বলা আর আইনগতভাবে কার্যকর বণ্টন বা হস্তান্তর এক বিষয় নয়। ভবিষ্যতে বিরোধ এড়াতে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সঠিকভাবে সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

ভাই একাই জমি বিক্রি করে দিলে কী হবে?

এখানেই সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

যদি জমিটি প্রকৃতপক্ষে একাধিক ওয়ারিশের যৌথ সম্পত্তি হয়, কিন্তু একজন ভাই নিজেকে একক মালিক দেখিয়ে পুরো জমি বিক্রি করে দেন, তাহলে ক্রেতার দলিল, বিক্রেতার প্রকৃত মালিকানা এবং অন্য শরিকদের অধিকার—সবকিছু নিয়ে বিরোধ দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে, যদি প্রমাণ থাকে যে জমির প্রকৃত মালিক জীবদ্দশায় বৈধভাবে ভাইয়ের কাছে জমি হস্তান্তর করেছিলেন, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে জমির মালিকানা নির্ধারণে শুধু রেকর্ডের ওপর নির্ভর না করে দলিল ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ বিবেচনার বিষয়টি উঠে এসেছে। একটি রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, যথাযথ দেওয়ানি আদালত বাতিল না করা পর্যন্ত নিবন্ধিত দলিলের গুরুত্ব থাকে এবং শুধু SA/RS রেকর্ডকে মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে।

তাই ‘ভাইয়ের নামে খতিয়ান আছে’—এই একটি তথ্য দিয়ে তিনি পুরো জমি বৈধভাবে বিক্রি করতে পারবেন কি না, তা নির্ধারণ করা যায় না।

নামজারি কি মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ?

নামজারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমি-প্রশাসনিক রেকর্ড হলেও এটিকে সব ক্ষেত্রে মালিকানার চূড়ান্ত উৎস হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

নামজারি মূলত ভূমি রেকর্ড হালনাগাদ, ভূমি উন্নয়ন কর আদায় এবং মালিকানা পরিবর্তনের প্রশাসনিক রেকর্ড সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। সরকারি ভূমি প্রশাসন নির্দেশিকাতেও উত্তরাধিকার ও রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নামজারি প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, মালিকানা নিয়ে গুরুতর বিরোধ দেখা দিলে সেটি দেওয়ানি আদালতে নিষ্পত্তির প্রয়োজন হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি মামলাতেও উত্তরাধিকারসূত্রে জমির অংশ দাবি এবং রেকর্ডে ভুলভাবে একজনের নাম থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাটোয়ারার প্রশ্ন আদালতে এসেছে।

অন্য ওয়ারিশের নাম বাদ পড়লে কী করবেন?

প্রথম ধাপে জমির সব কাগজপত্র সংগ্রহ করে পরিস্থিতি পরিষ্কার করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে সংগ্রহ করা উচিত—

যে কাগজপত্র দেখবেনকেন গুরুত্বপূর্ণ
CS/SA/RS/BRS খতিয়ান জমির আগের রেকর্ড যাচাই
বর্তমান খতিয়ান বর্তমানে কার নামে রেকর্ড আছে তা জানতে
ওয়ারিশ সনদ মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী শনাক্ত করতে
মূল দলিল ও বায়া দলিল মালিকানা কীভাবে এসেছে তা বুঝতে
নামজারি খতিয়ান/আদেশ কার নামে ও কী ভিত্তিতে নামজারি হয়েছে তা জানতে
ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রেকর্ডের সহায়ক তথ্য হিসেবে
বণ্টননামা/আপসনামা আগে সম্পত্তি ভাগ হয়েছিল কি না যাচাই করতে
আদালতের ডিক্রি আগে কোনো মামলা বা বাটোয়ারা হয়ে থাকলে তা যাচাই করতে

ভূমি প্রশাসনের সরকারি নির্দেশনায় নামজারি-জমাভাগের ক্ষেত্রে খতিয়ানের কপি, ওয়ারিশ সনদ, মূল দলিল, বায়া/পিট দলিল, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আদালতের রায় বা ডিক্রির কপি দাখিলের কথা বলা হয়েছে।

আপত্তি থাকলে নামজারি প্রক্রিয়ায় কী হয়?

নামজারি কোনো বিরোধপূর্ণ বিষয় হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও কাগজপত্র যাচাই করার সুযোগ থাকে। সরকারি নির্দেশনায় আপত্তির বিষয়ে আবেদনকারীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, অন্য কোনো ওয়ারিশ দাবি করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর দাবি মেনে নেওয়া হবে—এমন নয়; আবার শুধু ভাইয়ের নামে আবেদন বা নামজারি থাকলেই অন্য ওয়ারিশের দাবি বাতিল হয়ে যাবে—এমনও নয়। সংশ্লিষ্ট নথি, উত্তরাধিকার এবং আইনি অধিকারের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করতে হবে।

বিরোধ মিটতে না চাইলে আদালতে যেতে হতে পারে

যদি এক বা একাধিক ওয়ারিশ তাঁদের অংশ দাবি করেন এবং অন্য শরিক তা স্বীকার না করেন, তাহলে বিষয়টি দেওয়ানি আদালতে যেতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী মালিকানা ঘোষণা, বাটোয়ারা বা দখল-সংক্রান্ত প্রতিকার চাওয়া হতে পারে।

কোন ধরনের মামলা করা হবে, তা নির্ভর করে জমির বর্তমান রেকর্ড, দলিল, দখল, উত্তরাধিকার এবং বিরোধের প্রকৃতির ওপর। ভুল ধরনের মামলা বা অসম্পূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে এগোনোর পরিবর্তে জমির নথি দেখে একজন অভিজ্ঞ ভূমি/দেওয়ানি আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

উচ্চ আদালতের বিভিন্ন মামলায় ভুল রেকর্ড, উত্তরাধিকারসূত্রে অংশ দাবি, মালিকানা ঘোষণা ও বাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার উদাহরণ রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা

ভাইয়ের নামে জমির খতিয়ান থাকা মানেই অন্য ওয়ারিশের অধিকার শেষ—এমন ধারণা ঠিক নয়। আবার অন্য ওয়ারিশ দাবি করলেই তিনি জমিতে অংশ পাবেন—এটিও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

জমিটি কীভাবে ভাইয়ের নামে এসেছে, মূল মালিক কে ছিলেন, তাঁর মৃত্যুর সময় কারা জীবিত ছিলেন, কোনো বৈধ হস্তান্তর বা বণ্টন হয়েছিল কি না এবং বর্তমান রেকর্ড কী বলছে—এসব তথ্য একসঙ্গে যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বিশেষ করে জমি বিক্রি, হস্তান্তর বা মামলা করার আগে CS, SA, RS, BRS খতিয়ান, নামজারি, ওয়ারিশ সনদ ও সংশ্লিষ্ট দলিল মিলিয়ে দেখা জরুরি। কারণ একটি মাত্র খতিয়ান বা নামজারি দেখে জমির চূড়ান্ত মালিকানা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

নোট: উত্তরাধিকার আইন ব্যক্তির প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন এবং পারিবারিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনো জমিতে কে কত অংশ পাবেন—তা কাগজপত্র না দেখে সাধারণভাবে নির্ধারণ করা যায় না। বাস্তব বিরোধে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র নিয়ে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: ভাইয়ের নামে খতিয়ান থাকলে অন্য ওয়ারিশ কি জমি দাবি করতে পারেন?

উত্তর: যদি জমিটি উত্তরাধিকারসূত্রে একাধিক ব্যক্তির পাওয়ার কথা হয় এবং অন্য ওয়ারিশের আইনগত অংশ থাকে, তাহলে শুধু একজনের নামে খতিয়ান থাকার কারণে সেই দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। তবে প্রকৃত অধিকার নির্ধারণে দলিল ও উত্তরাধিকার পরিস্থিতি যাচাই করতে হবে।

প্রশ্ন: নামজারি কি জমির মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ?

উত্তর: নামজারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমি রেকর্ড হলেও মালিকানার উৎস হিসেবে মূল দলিল, উত্তরাধিকার এবং অন্যান্য আইনগত প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ। মালিকানা নিয়ে বিরোধ হলে দেওয়ানি আদালতের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হতে পারে।

প্রশ্ন: অন্য ওয়ারিশের নাম খতিয়ানে না থাকলে কী করা যায়?

উত্তর: প্রথমে ওয়ারিশ সনদ, পূর্বের খতিয়ান, বর্তমান নামজারি, দলিল ও অন্যান্য নথি যাচাই করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী নামজারি সংশোধন বা বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

প্রশ্ন: একজন ভাই কি পুরো উত্তরাধিকারী জমি একাই বিক্রি করতে পারেন?

উত্তর: তিনি পুরো জমির একক মালিক কি না, সেটিই আগে নির্ধারণ করতে হবে। যৌথ উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে অন্য শরিকদের আইনগত অংশ থাকলে বিষয়টি জটিল হতে পারে। তাই বিক্রয়ের আগে মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই করা জরুরি।

প্রশ্ন: ওয়ারিশদের মধ্যে সমঝোতা না হলে কী হবে?

উত্তর: পারিবারিকভাবে বণ্টন সম্ভব না হলে বিরোধের ধরন অনুযায়ী দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা বা মালিকানা-সংক্রান্ত প্রতিকার চাওয়া হতে পারে। কোন মামলা উপযুক্ত হবে, তা নথিপত্র দেখে আইনজীবী নির্ধারণ করতে পারবেন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: