ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদি আরবে কাজের ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে ২০২৬?

প্রবাসী ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৫:০৭:৪৩
সৌদি আরবে কাজের ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে ২০২৬?

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে কাজের ভিসায় যেতে কত টাকা খরচ হবে, তা নির্ভর করে চাকরির ধরন, নিয়োগকর্তা, ভিসার প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশে নিয়োগসংক্রান্ত খরচের ওপর। তাই সবার জন্য এক অঙ্কের খরচ নির্ধারণ করা ঠিক নয়। বিশেষ করে, কোনো এজেন্সি কয়েক লাখ টাকা দাবি করলেই সেটি সরকারি নির্ধারিত ব্যয়—এমনটি ধরে নেওয়া যাবে না।

সৌদি আরবে চাকরি নিয়ে যাওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরকারি অভিবাসন ব্যয়, নিয়োগকর্তার বহন করার কথা এমন খরচ এবং কর্মীর নিজের আনুষঙ্গিক খরচ আলাদা করে বোঝা। সৌদি আরবের শ্রমবিধি অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগ, ইকামা ও ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু এবং নবায়নের নির্ধারিত খরচ নিয়োগকর্তার বহন করার কথা।

সৌদি আরবে কাজের ভিসার খরচ কত টাকা?

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে কর্মী হিসেবে যেতে মোট কত টাকা লাগবে, তার নির্ভরযোগ্য হিসাব করতে হলে প্রথমে দেখতে হবে চাকরিটি কোন ধরনের এবং নিয়োগকর্তা কোন কোন খরচ বহন করছেন। সাধারণ শ্রমিক, নির্মাণকর্মী, ড্রাইভার, টেকনিশিয়ান ও গৃহকর্মীর ক্ষেত্রে নিয়োগের প্রক্রিয়া ও খরচের ধরন এক নয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণসংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ প্রকাশ করেছে। তাই বর্তমান খরচের অঙ্ক জানার ক্ষেত্রে ওই আদেশ ও সংশ্লিষ্ট চাকরির কাগজপত্র যাচাই করা জরুরি।

তুলনার বিষয়সরকারি বোয়েসেলবেসরকারি এজেন্সি
মোট খরচ সৌদি আরবের নির্দিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যাচাই করতে হবে প্রতিবেদনে উল্লেখিত হিসাবে প্রায় ৩.৫–৫ লাখ টাকা পর্যন্ত
সার্ভিস চার্জ সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী প্রযোজ্য ফি ও নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী
বিমান টিকিট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী চাকরির চুক্তি অনুযায়ী
অতিরিক্ত খরচ নির্ধারিত ফি ও রসিদ যাচাই করতে হবে প্রতিটি খাতের লিখিত হিসাব ও রসিদ নিতে হবে
নিরাপত্তা সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও শর্ত অনুসরণ করতে হবে এজেন্সির লাইসেন্স ও নিয়োগ অনুমতি যাচাই করতে হবে

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

গুরুত্বপূর্ণ: এসব খরচের তালিকা মানেই প্রতিটি খরচ কর্মীকে নিজেকেই দিতে হবে, এমন নয়। আবার সব খরচ যোগ করে একটি নির্দিষ্ট মোট অঙ্ক বলার জন্য সংশ্লিষ্ট চাকরির ধরন ও প্রযোজ্য সরকারি ব্যয়ের তালিকা যাচাই করা প্রয়োজন। যাচাই ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ককে ২০২৬ সালের সরকারি নির্ধারিত সৌদি আরবের ভিসা খরচ বলা ঠিক হবে না।

সৌদি আরবের ভিসার খরচ কে বহন করবেন?

সৌদি আরবের শ্রমবিধির ৪০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগের খরচ এবং ইকামা ও ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু ও নবায়নের নির্ধারিত ফি নিয়োগকর্তার বহন করার কথা। পেশা পরিবর্তন, নির্দিষ্ট কিছু ভিসা ফি এবং চুক্তি শেষে দেশে ফেরার টিকিটের ক্ষেত্রেও বিধিতে নিয়োগকর্তার দায়িত্ব উল্লেখ রয়েছে।

তবে বাংলাদেশে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি খরচের দায়িত্ব একইভাবে নির্ধারিত নয়। তাই চুক্তিতে কোন খরচ কার, তা লিখিতভাবে জেনে নেওয়া উচিত।

সৌদি আরবে যাওয়ার আগে যেসব কাগজপত্র যাচাই করবেন

বিদেশে চাকরির জন্য টাকা দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।

- চাকরির চুক্তি: বেতন, কাজের ধরন, কর্মঘণ্টা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা এবং ছুটির শর্ত দেখুন।

- ভিসার ধরন: ভিসাটি বৈধ কাজের ভিসা কি না নিশ্চিত করুন। ভিজিট বা ভ্রমণ ভিসাকে কাজের ভিসা হিসেবে গ্রহণ করবেন না।

- রিক্রুটিং এজেন্সি: এজেন্সির লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট চাকরির নিয়োগ অনুমতি যাচাই করুন।

- খরচের লিখিত হিসাব: ভিসা, মেডিকেল, টিকিট, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, তার বিস্তারিত নিন।

- রসিদ: প্রতিটি অর্থ পরিশোধের পর রসিদ বা প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

- বিএমইটি ছাড়পত্র: বিদেশে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় বহির্গমন ছাড়পত্র ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করুন।

সরকারি তথ্য কোথায় যাচাই করবেন?

[সরকারি ওয়েবসাইট দেখুন](https://probashi.gov.bd/)

[বিএমইটির ওয়েবসাইট দেখুন](https://bmet.gov.bd/)

সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়

[সৌদি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট দেখুন](https://www.hrsd.gov.sa/)

সৌদি আরবে কাজের ভিসা নিয়ে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

১. বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে কাজের ভিসায় যেতে মোট কত টাকা লাগে?

সবার জন্য এক রকম নয়। চাকরির ধরন, নিয়োগকর্তার দেওয়া সুবিধা, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রযোজ্য সরকারি অভিবাসন ব্যয়ের ওপর মোট খরচ নির্ভর করে। নির্দিষ্ট চাকরির কাগজপত্র না দেখে একটি নির্ভুল মোট অঙ্ক বলা সম্ভব নয়।

২. সৌদি আরবের কাজের ভিসা কি বিনা খরচে পাওয়া যায়?

নিয়োগকর্তা ভিসা ও নিয়োগের নির্দিষ্ট খরচ বহন করলে কর্মীর নিজের ব্যয় কমতে পারে। তবে মেডিকেল, প্রশিক্ষণ বা অন্যান্য প্রযোজ্য আনুষ্ঠানিক খরচ থাকতে পারে। কোন খরচ কার দায়িত্ব, তা আগে যাচাই করতে হবে।

৩. সৌদি আরবের ওয়ার্ক পারমিট ও ইকামার খরচ কে দেন?

সৌদি শ্রমবিধি অনুযায়ী, বিদেশি কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট ও ইকামা ইস্যু এবং নবায়নের নির্ধারিত খরচ নিয়োগকর্তার বহন করার কথা।

৪. সৌদি আরবে কাজের ভিসার নামে অতিরিক্ত টাকা চাইলে কী করবেন?

খরচের লিখিত বিবরণ ও রসিদ চাইবেন। এজেন্সির লাইসেন্স, চাকরির চুক্তি এবং সরকারি নিয়োগ অনুমতি যাচাই না করে টাকা দেবেন না। প্রয়োজনে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা বিএমইটির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

৫. সৌদি আরবে যাওয়ার আগে ভিসা আসল কি না যাচাই করা যায়?

হ্যাঁ। ভিসার নম্বর, পাসপোর্টের তথ্য ও নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট সৌদি সরকারি ভিসা সেবা এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করুন। শুধু এজেন্টের পাঠানো ছবি বা মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করবেন না।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ