ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

মেসির পাসে গোল, পেনাল্টি ঠেকিয়ে মায়ামির প্লে-অফ নিশ্চিত

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১০:৫৩:৫১
মেসির পাসে গোল, পেনাল্টি ঠেকিয়ে মায়ামির প্লে-অফ নিশ্চিত

মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করার ম্যাচে আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই নিজেদের কার্যকারিতা দেখিয়েছে ইন্টার মায়ামি। নিউইয়র্ক সিটি এফসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থান আরও সুসংহত করেছে দলটি। স্কোরশিটে নাম না উঠলেও জয়ে বড় অবদান রেখেছেন লিওনেল মেসি। তাঁর তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেছেন রদ্রিগো দে পল। অন্যদিকে, ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি ঠেকিয়ে দলের জয় অক্ষুণ্ন রাখেন গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার।

বুধবার নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বিরতির আগেই দুই গোলের ব্যবধান গড়ে নেয় মায়ামি। জার্মান বেরতেরামে ও দে পলের গোলেই আসে এই জয়। মে মাসের পর প্রথমবার গোলের দেখা পাওয়া বেরতেরামের জন্য ম্যাচটি ছিল গোলখরা কাটানোর উপলক্ষ। আর মেসির অসাধারণ পাস থেকে দে পলের গোলটি ম্যাচের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

বিরতির আগেই দুই গোল, ব্যবধান গড়ে দেন বেরতেরামে ও দে পল

ম্যাচের ২০ মিনিটে মায়ামির আক্রমণভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রথম সাফল্য আসে। ডি-বক্সের বাইরে বল পেয়ে মেসি সেটি দে পলের দিকে বাড়ান। এরপর দে পলের পাস পৌঁছায় লুইস সুয়ারেজের কাছে। উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ডের নিচু ক্রস থেকে খুব কাছের অবস্থানেই বল জালে পাঠান বেরতেরামে। তাঁর গোলেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ আসে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে। বল নিয়ে মাঝমাঠ পেরিয়ে আসা বেরতেরামের একটি পাস প্রত্যাশামতো না গেলেও সেটি শেষ পর্যন্ত মেসির কাছে পৌঁছে যায়। এরপর আর্জেন্টাইন অধিনায়কের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তৈরি হয় দ্বিতীয় গোলের পরিস্থিতি।

মেসিকে ঘিরে ধরেন নিউইয়র্কের তিন ডিফেন্ডার। সেই চাপের মধ্যেও বাঁ পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে সতীর্থের উদ্দেশে নিখুঁত পাস বাড়ান তিনি। বলটি পেয়ে জোরালো শট নেন দে পল। গোলরক্ষকের ডান পাশ দিয়ে বল জালে জড়ালে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মায়ামি।

ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও গোলের দেখা পায়নি মায়ামি

দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোলের লিড নিয়ে মাঠে নেমেও আক্রমণাত্মক খেলার চেষ্টা চালিয়ে যায় স্বাগতিক দল। মেসির পা থেকে আরও একটি গোল আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শট নিলেও বলটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে আবারও গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যান দে পল। মেসির ছোট কর্নার থেকে বল পেয়ে তিনি দূরের ওপরের কোণা লক্ষ্য করে শট নেন। তবে নিউইয়র্ক সিটি এফসির গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিস দুর্দান্ত প্রতিক্রিয়ায় ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি পোস্টে ঠেলে দেন। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে আর গোলের ব্যবধান বাড়াতে পারেনি মায়ামি।

শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি ঠেকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন সেন্ট ক্লেয়ার

ম্যাচের যোগ করা সময়ে নিউইয়র্ক সিটি এফসির সামনে ব্যবধান কমানোর বড় সুযোগ আসে। বদলি হিসেবে মাঠে নামা তালেস মাগনোকে নিজেদের ডি-বক্সে ফাউল করেন ইয়ান ফ্রে। রেফারির সিদ্ধান্তে পেনাল্টি পায় সফরকারী দল।

কিন্তু সেই সুযোগ থেকেও গোল আদায় করতে পারেনি নিউইয়র্ক। মায়ামির গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার পেনাল্টি শটটি আটকে দেন। তাঁর এই সেভে ব্যবধান ধরে রাখার পাশাপাশি ম্যাচে নিজেদের গোলবার অক্ষত রাখার কৃতিত্বও পায় স্বাগতিকেরা।

টানা দুই ম্যাচে গোল হজম করেনি মায়ামি

নিউইয়র্কের বিপক্ষে জয়টি মায়ামির জন্য একাধিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দলটি ইস্টার্ন কনফারেন্সের দ্বিতীয় অবস্থান আরও মজবুত করেছে। একই সঙ্গে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি তারা।

এর আগে টানা ১০ ম্যাচের প্রতিটিতেই অন্তত একটি করে গোল হজম করেছিল মায়ামি। সেই ধারার অবসানের পর এখন পরপর দুই ম্যাচে ক্লিনশিট নিয়ে মাঠ ছাড়ল দলটি। মেসির আক্রমণ তৈরির দক্ষতা, দে পলের গোল এবং সেন্ট ক্লেয়ারের পেনাল্টি ঠেকানোর সম্মিলিত অবদানেই নিউইয়র্ক সিটি এফসির বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ইন্টার মায়ামি ও নিউইয়র্ক সিটি এফসির ম্যাচের ফল কী?

ইন্টার মায়ামি ২-০ গোলে নিউইয়র্ক সিটি এফসিকে হারিয়েছে।

২. মায়ামির হয়ে গোল করেছেন কারা?

জার্মান বেরতেরামে ও রদ্রিগো দে পল প্রথমার্ধে গোল করেন।

৩. মেসি কি এই ম্যাচে গোল করেছেন?

না। মেসি গোল করেননি, তবে দে পলের গোলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাস দিয়েছেন এবং প্রথম গোলের আক্রমণ তৈরিতেও ভূমিকা রেখেছেন।

৪. মায়ামির গোলরক্ষক কীভাবে পেনাল্টি ঠেকান?

ম্যাচের যোগ করা সময়ে তালেস মাগনোকে ফাউল করায় নিউইয়র্ক পেনাল্টি পায়। সেই শট আটকে দেন ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার।

৫. এই জয়ের ফলে মায়ামির কী লাভ হয়েছে?

দলটি এমএলএসের প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে, ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থান আরও মজবুত করেছে এবং টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ক্লিনশিট পেয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ