ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগবে, মেডিকেল কবে চালু হবে?

প্রবাসী ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৬ ১৪:৩৬:৪০
মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগবে, মেডিকেল কবে চালু হবে?

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও বিদেশযাত্রার মোট খরচ এবং মেডিকেল পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে নিয়োগের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়া যেতে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার কম লাগবে না বলে ধারণা করছেন দুই জনশক্তি রপ্তানিকারক। এই অঙ্কের পক্ষে অবশ্য এখনো কোনো সরকারি ব্যয় নির্ধারণ করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয়। প্রায় আড়াই বছর পর দেশটির শ্রমবাজারে আবার কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হলেও আগ্রহীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর এখনো মেলেনি—মালয়েশিয়া যেতে মোট কত টাকা প্রয়োজন এবং মেডিকেল পরীক্ষা কবে থেকে সম্পন্ন করা যাবে।

মালয়েশিয়া যাওয়ার খরচ এখনো অনির্ধারিত

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা এলেও অভিবাসন ব্যয়ের কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক জানায়নি সরকার। জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তির ধারণা, বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মীদের দেশটিতে যেতে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার কম খরচ হবে না। তবে এটি তাঁদের অনুমান, সরকার ঘোষিত কোনো নির্ধারিত ফি নয়।

এ বিষয়ে জানতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ফলে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য আগ্রহী কর্মীদের মোট ব্যয়ের বিষয়ে এখনো সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

মেডিকেল পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ তালিকা কবে পাওয়া যাবে?

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার প্রয়োজন। কিন্তু কেন্দ্রগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ কারণে মেডিকেল কার্যক্রম শুরুর নির্দিষ্ট তারিখও জানানো হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিনটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে। নতুন নীতিমালা অনুসারে মেডিকেল সেন্টারগুলো যাচাই-বাছাই করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ শুরু করবে ওই দল।

তবে মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় বাংলাদেশের অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের একটি তালিকা দেখা যায়। সেখানে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

১. এশিয়া ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার

২. ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতাল

৩. গ্লোবাল মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার

৪. হিউম্যান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার

৫. ইবনে ওমর মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার

৬. আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার

৭. জান্নাহ মেডিকেল সার্ভিসেস

৮. ল্যাব সায়েন্স ডায়াগনস্টিক

৯. লিডিং হেলথ চেকআপ

১০. পারফেক্ট মেডিকেয়ার

১১. পুষ্প ক্লিনিক

১২. সানলাইট ডায়াগনস্টিক সেন্টার

১৩. ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল

১৪. মেডিনেট মেডিকেল সার্ভিসেস

১৫. ইউনিকেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস

১৬. ডায়নামিক ল্যাব

১৭. গ্রিনল্যান্ড মেডিকেল সেন্টার

এফডব্লিউসিএমএসে তালিকা দেখা গেলেও মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কথা বলা হয়েছে। তাই মেডিকেল সেন্টার-সংক্রান্ত চূড়ান্ত অবস্থান বুঝতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কার কী দায়িত্ব?

মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার থেকে নিয়োগের চাহিদাপত্র সংগ্রহ করবে দেশটির অনুমোদিত, বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। এরপর সেই চাহিদার ভিত্তিতে কর্মী সংগ্রহ ও নির্বাচন করা হবে।

নিয়োগের পরবর্তী ধাপে কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং অন্যান্য নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার দায়িত্ব থাকবে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ও তালিকাভুক্ত ২৫টি এজেন্সির ওপর।

এ ছাড়া, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অনাপত্তিপত্রের জন্য সহযোগী এজেন্সিগুলোকে ছাড়পত্র দেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে তাদের।

সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমেও মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, নির্ধারিত এজেন্সিগুলোর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেও নিয়োগপ্রক্রিয়ার কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ২৫টি এজেন্সি

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২১ আগস্ট এফডব্লিউসিএমএস ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করে। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

১. বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড

২. বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট

৩. জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি

৪. মেসার্স ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস

৫. অ্যানেসা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল

৬. আত-তাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড

৭. আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড

৮. খান জাহান আলী ওভারসিজ

৯. মেসার্স আল-শোতুপ ওভারসিজ

১০. মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড

১১. রিফা ইন্টারন্যাশনাল

১২. ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল

১৩. এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল

১৪. আল-হায়াত ওভারসিজ

১৫. ভালুকা ওভারসিজ

১৬. ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড

১৭. চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল

১৮. কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি

১৯. গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড

২০. জুয়েল রিঙ্কু এন্টারপ্রাইজ

২১. মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল

২২. ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিঙ্ক

২৩. নেবারস অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড

২৪. তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল

২৫. অ্যাঙ্কর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন

পরবর্তী সময়ে গত ২৮ আগস্ট এই ২৫টি প্রতিষ্ঠানের সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশের আরও ৩১২টি এজেন্সির নাম জানানো হয়।

বন্ধ শ্রমবাজার আবার চালুর পথ যেভাবে তৈরি হলো

বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছিল ২০২৪ সালের ৩১ মে। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। সে সময় তৎকালীন প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল শ্রমবাজারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলেও সেই প্রচেষ্টায় বাজার খোলার বিষয়টি এগোয়নি।

পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়াকে বেছে নেন। ওই সফরের মধ্য দিয়ে দেশটির শ্রমবাজার আবার চালুর পথ সুগম হয়।

এরপর কর্মী পাঠানোর জন্য ২১ আগস্ট ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়। ২৮ আগস্ট ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগী হিসেবে আরও ৩১২টি এজেন্সির নাম জানানো হয়। এসব প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা আসে।

কর্মীদের এখন কোন বিষয়গুলোর দিকে নজর রাখা প্রয়োজন?

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হলেও বিদেশযাত্রার জন্য মোট কত টাকা খরচ হবে, তা এখনো সরকার নির্ধারণ করেনি। একই সঙ্গে মেডিকেল সেন্টারগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের কাজও বাকি রয়েছে।

বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে যেতে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা লাগতে পারে বলে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের ধারণা থাকলেও এই অঙ্ককে সরকারি ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। অন্যদিকে, মেডিকেল কার্যক্রমের নির্দিষ্ট শুরুর তারিখও এখনো জানানো হয়নি।

অতএব, মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের জন্য নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর খবরের পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ এবং মেডিকেল সেন্টারের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের বিষয় দুটি এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

১. মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া কি শুরু হয়েছে?

হ্যাঁ। বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

২. মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগবে?

সরকার এখনো নির্দিষ্ট অভিবাসন ব্যয় ঘোষণা করেনি। দুই জনশক্তি রপ্তানিকারকের ধারণা, বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে যেতে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার কম খরচ হবে না।

৩. মালয়েশিয়ার মেডিকেল কবে চালু হবে?

মেডিকেল কার্যক্রম শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী মেডিকেল সেন্টার যাচাই-বাছাই করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ বাকি রয়েছে।

৪. মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য কতটি এজেন্সি তালিকাভুক্ত?

গত ২১ আগস্ট ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে ২৮ আগস্ট তাদের সহযোগী হিসেবে আরও ৩১২টি এজেন্সির নাম জানানো হয়।

৫. বোয়েসেলের মাধ্যমে কি মালয়েশিয়া যাওয়া যাবে?

হ্যাঁ। সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমেও মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: