ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

দুবাইয়ের কাজের ভিসা কীভাবে করবেন, কী কী কাগজপত্র লাগে?

প্রবাসী ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৫:২৭:১৯
দুবাইয়ের কাজের ভিসা কীভাবে করবেন, কী কী কাগজপত্র লাগে?

বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে কাজ করতে যেতে হলে প্রথমেই বৈধ চাকরির প্রস্তাব, পাসপোর্ট এবং নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু ভিজিট ভিসা নিয়ে দুবাইয়ে গিয়ে কাজ শুরু করা বৈধ নয়। সাধারণ চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাই কাজের অনুমতি ও কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রবেশ ভিসার প্রক্রিয়া শুরু করেন। এরপর দুবাইয়ে পৌঁছে মেডিকেল পরীক্ষা, এমিরেটস আইডি এবং বসবাসের অনুমতিসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়।

দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) একটি আমিরাত। তাই দুবাইয়ের কাজের ভিসার নিয়ম বুঝতে হলে দেশটির কেন্দ্রীয় শ্রম ও অভিবাসন বিধি এবং দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম—দুটিই বিবেচনায় রাখতে হবে। পেশা, নিয়োগকর্তা এবং চাকরিটি মূল ভূখণ্ডের কোম্পানি নাকি ফ্রি-জোন প্রতিষ্ঠানে, তার ওপর প্রক্রিয়ায় কিছু পার্থক্য হতে পারে।

দুবাইয়ের কাজের ভিসা করার নিয়ম

১. বৈধ চাকরি খুঁজুন

দুবাইয়ের কোনো বৈধ কোম্পানি, অনুমোদিত নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অথবা নির্ভরযোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে চাকরি খুঁজুন। চাকরির পদ, বেতন, কর্মঘণ্টা, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য সুবিধা আগে জেনে নিন।

২. চাকরির অফার ও চুক্তি যাচাই করুন

নিয়োগকর্তার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক চাকরির প্রস্তাব বা অফার লেটার নিন। বেতন, পদ, কাজের শর্ত ও অন্যান্য সুবিধা মিলিয়ে দেখুন। UAE-এর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের চাকরিতে অফারটি কর্মী ও নিয়োগকর্তার সম্মতিসহ প্রযোজ্য কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে নিবন্ধিত হতে হয়।

৩. নিয়োগকর্তা ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করবেন

কোম্পানি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপনার কাজের অনুমতির আবেদন করবে। বেসরকারি মূল ভূখণ্ডের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণত মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রণালয় (MoHRE) প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষ। ফ্রি-জোনের চাকরিতে সংশ্লিষ্ট ফ্রি-জোন কর্তৃপক্ষের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

৪. কাজের প্রবেশ ভিসা নিয়ে দুবাইয়ে যান

প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রবেশের অনুমতি নিয়ে যাত্রা করুন। ভিসার ধরন, মেয়াদ ও প্রবেশের শর্ত ভালোভাবে যাচাই করুন।

৫. মেডিকেল পরীক্ষা ও এমিরেটস আইডি সম্পন্ন করুন

দুবাইয়ে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান এবং এমিরেটস আইডির আবেদনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এরপর প্রযোজ্য নিয়মে রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতি চূড়ান্ত করা হয়।

দুবাইয়ের কাজের ভিসার জন্য কী কী কাগজপত্র লাগে?

দুবাইয়ের ওয়ার্ক পারমিটের আবেদনে সব পেশার জন্য একই কাগজপত্র লাগে না। সাধারণ বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নিচের নথিগুলো প্রস্তুত রাখা ভালো।

কাগজপত্রকেন প্রয়োজন
বৈধ পাসপোর্ট পরিচয় ও ভ্রমণের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য।
পাসপোর্টের কপি ওয়ার্ক পারমিট ও প্রবেশের অনুমতির আবেদনে।
সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের রঙিন ছবি ভিসা ও পরিচয়সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায়।
চাকরির অফার লেটার পদ, বেতন ও চাকরির শর্ত নিশ্চিত করতে।
চাকরির চুক্তিপত্র কর্মী ও নিয়োগকর্তার অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণে।
শিক্ষাগত সনদ চাকরির পদ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে।
অভিজ্ঞতার সনদ নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রয়োজন হলে।
পেশাগত লাইসেন্স চিকিৎসক, নার্স বা লাইসেন্সপ্রয়োজনীয় পেশার ক্ষেত্রে।
মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট UAE-তে বসবাসের অনুমতির প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে।
বিএমইটি নিবন্ধন ও বহির্গমন ছাড়পত্র বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে কর্মী হিসেবে বিদেশযাত্রার প্রযোজ্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে।

বিএমইটি নিবন্ধন ও বহির্গমন ছাড়পত্রের কাগজপত্র | বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে কর্মী হিসেবে বিদেশযাত্রার প্রযোজ্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে |

UAE-এর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ওয়ার্ক পারমিটের আবেদনে সাধারণত কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদি পাসপোর্টের কপি, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি এবং স্বাক্ষরিত চাকরির অফার লাগে। পদ অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও পেশাগত অনুমোদনও প্রয়োজন হতে পারে।

বাংলাদেশের দিক থেকে বিএমইটির নির্দেশনায় বিদেশগামী কর্মীর নিবন্ধন, ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটের কপি, চাকরির চুক্তিপত্র এবং প্রযোজ্য বহির্গমন ছাড়পত্রের কথা উল্লেখ রয়েছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো

মনে রাখবেন: সব কাগজপত্র প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। চাকরির ধরন, নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা নিশ্চিত করতে হবে।

দুবাইয়ের কাজের ভিসা করতে কোথায় যোগাযোগ করবেন?

UAE মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রণালয় (MoHRE)

বেসরকারি খাতের চাকরির অফার, ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম অধিকারসংক্রান্ত তথ্য।

[MoHRE-এর ওয়েবসাইট](https://www.mohre.gov.ae/)

দুবাইয়ের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (GDRFA Dubai)

দুবাইয়ে কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রবেশ ভিসা ও বসবাসের অনুমতির প্রক্রিয়া।

[GDRFA Dubai-এর ওয়েবসাইট](https://www.gdrfad.gov.ae/)

বাংলাদেশের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)

বিদেশগামী কর্মীর নিবন্ধন, ভিসা যাচাই, বহির্গমন ছাড়পত্র ও নিরাপদ অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য।

[বিএমইটির ওয়েবসাইট](https://bmet.gov.bd/)

দুবাইয়ের কাজের ভিসা করতে কত টাকা লাগে?

সব আবেদনকারীর জন্য এক নির্দিষ্ট অঙ্ক বলা যায় না। নিয়োগকর্তা, চাকরির ধরন, অনুমতির ধরন এবং বাংলাদেশে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর খরচ নির্ভর করে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, UAE-এর শ্রমবিধি অনুযায়ী কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রবেশ ভিসা, কর্মীকে UAE-তে আনার যাতায়াত খরচ এবং দেশটিতে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত নিয়োগসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার খরচ নিয়োগকর্তার বহন করার কথা।

তাই কোনো এজেন্সি যদি ভিসার নামে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করে, তাহলে খরচের লিখিত বিবরণ, চাকরির অফার, এজেন্সির লাইসেন্স এবং নিয়োগ অনুমতি যাচাই না করে টাকা দেওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশে প্রযোজ্য মেডিকেল, প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন ও বহির্গমনসংক্রান্ত ব্যয়ের হিসাব আলাদাভাবে জেনে নিন।

ভিসা জালিয়াতি এড়াতে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

- ভিজিট বা ট্যুরিস্ট ভিসাকে কাজের ভিসা হিসেবে গ্রহণ করবেন না।

- চাকরির অফার লেটারে উল্লেখিত বেতন ও কাজের শর্ত যাচাই করুন।

- নিয়োগকর্তার নাম, কোম্পানির ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য নিশ্চিত করুন।

- টাকা দিলে রসিদ এবং লিখিত চুক্তি সংগ্রহ করুন।

- শুধু ভিসার ছবি দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না; সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করুন।

- বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার আগে বিএমইটির প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করুন।

UAE-তে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করা আইনবিরুদ্ধ। এ কারণে চাকরির জন্য যাওয়ার আগে সঠিক ভিসার ধরন নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পাঠকদের সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

১. বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ের কাজের ভিসা কীভাবে করব?

প্রথমে বৈধ চাকরি ও নিয়োগকর্তা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর নিয়োগকর্তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ওয়ার্ক পারমিট ও কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রবেশের অনুমতির আবেদন করবেন। বাংলাদেশ থেকে যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় বিএমইটি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে।

২. দুবাইয়ের কাজের ভিসার জন্য পাসপোর্ট কত দিনের মেয়াদ থাকতে হবে?

সাধারণ ওয়ার্ক পারমিট আবেদনে পাসপোর্টের কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদ থাকার শর্ত রয়েছে। নির্দিষ্ট ভিসা ও প্রবেশের নিয়মও যাচাই করুন।

৩. ভিজিট ভিসায় দুবাই গিয়ে কি চাকরি করা যাবে?

না। বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ও প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া কাজ করা যাবে না। চাকরির উদ্দেশ্যে গেলে বৈধ কর্মসংস্থান প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

৪. দুবাইয়ের কাজের ভিসা পেতে কি শিক্ষাগত সনদ লাগে?

সব পেশায় লাগে না। চাকরির ধরন ও দক্ষতার স্তর অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অভিজ্ঞতার প্রমাণ বা পেশাগত লাইসেন্স প্রয়োজন হতে পারে।

৫. দুবাইয়ের কাজের ভিসার খরচ কে বহন করেন?

UAE-এর প্রযোজ্য শ্রমবিধি অনুযায়ী, কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রবেশ ভিসা, কর্মীকে আনার যাতায়াত এবং নির্ধারিত নিয়োগসংক্রান্ত খরচ নিয়োগকর্তার বহন করার কথা। তবে বাংলাদেশে কর্মীর নিজস্ব প্রক্রিয়ায় প্রযোজ্য খরচ আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ