ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

মালয়েশিয়া যেতে মেডিকেল কবে, কলিং ভিসা নিয়ে কী জানা গেল?

প্রবাসী ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৬ ১৪:৪২:০১
মালয়েশিয়া যেতে মেডিকেল কবে, কলিং ভিসা নিয়ে কী জানা গেল?

২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় কাজের জন্য কলিং ভিসা, মেডিকেল পরীক্ষা ও বিদেশযাত্রার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন অগ্রগতি এসেছে। ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তবে মেডিকেল পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ, ভিসা প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা এবং কর্মীদের যাত্রার সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়। অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত করার কাজও চলছে। ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা এলেও সব কর্মী কখন মেডিকেল করতে পারবেন এবং কবে কলিং ভিসা পাবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। [সূত্র: বাসস ও দ্য ডেইলি স্টার]

মালয়েশিয়া মেডিকেল কবে থেকে শুরু হবে ২০২৬?

মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য বাংলাদেশি কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা কবে থেকে শুরু হবে, তা জানতে আগ্রহীদের নজর এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার দিকে। ১৫ অক্টোবরের সরকারি ঘোষণায় কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর কথা বলা হলেও অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলমান থাকার তথ্য জানানো হয়েছে।

১৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে মালয়েশিয়ার বিদ্যমান অনুমোদিত তালিকায় থাকা মেডিকেল সেন্টারগুলোতে পরীক্ষা পরিচালনার ব্যবস্থা থাকবে। তবে বিতর্কিত বা আগের অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলো বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে মেডিকেল সেন্টার পরিদর্শন করবেন এবং নতুন তালিকা চূড়ান্ত করবেন।

অন্যদিকে, নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করা এজেন্সিগুলো মেডিকেল পরীক্ষা, কলিং ভিসা এবং সরকারি ছাড়পত্রের বিষয়ে আরও স্পষ্ট নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। তাই মেডিকেল কার্যক্রমের নির্দিষ্ট শুরুর তারিখ জানতে সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করা জরুরি। [সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার]

মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কবে চালু হবে?

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলেও কলিং ভিসা ইস্যু ও বিদেশযাত্রার প্রতিটি ধাপের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে সহায়তা করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রের কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হওয়া মানেই সবার কলিং ভিসা একসঙ্গে চালু হয়ে যাওয়া নয়। নিয়োগের চাহিদাপত্র, কর্মী নির্বাচন, মেডিকেল পরীক্ষা, ভিসা এবং বিএমইটির ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হবে। কোন কর্মী কখন ভিসা পাবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়। [সূত্র: বাসস]

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ

নতুন নিয়োগব্যবস্থায় মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল, ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং সহযোগী হিসেবে কাজ করার জন্য ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি।

তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ায় নিয়োগদাতা খোঁজা, চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ এবং বাংলাদেশ থেকে কর্মী বাছাইয়ের কাজ করতে পারবে। অন্যদিকে, ২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি কলিং ভিসা, ই-ভিসা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমে সহায়তা করবে।

এই ব্যবস্থার আওতায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও মেডিকেল পরীক্ষা, ভিসা প্রক্রিয়া ও বিদেশযাত্রার পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি সম্পর্কে আরও নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে।

১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে নেওয়ার বিষয়ে কী জানা গেছে?

বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া নীতিগতভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগ দিতে সম্মত হয়েছে বলে সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে।

তবে এই সুযোগ কারা পাবেন, কীভাবে কর্মী নির্বাচন করা হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাঁদের পাঠানো হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত যোগ্যতার শর্ত ও নির্বাচনপদ্ধতি এখনো স্পষ্ট নয়। তাই ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগের কথা শুনে সবাই এই সুবিধা পাবেন বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

এ ছাড়া, সাধারণ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কর্মীদের মোট অভিবাসন ব্যয় কত হবে, সে বিষয়েও সরকার এখনো বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করেনি। [সূত্র: বাসস ও দ্য ডেইলি স্টার]

মেডিকেল করার আগে যে বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য মেডিকেল পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রে অনুমোদিত কেন্দ্র বেছে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২ অক্টোবর ঢাকার পল্টনে হিউম্যান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টারকে অনুমোদন ছাড়া মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের পরীক্ষা ও মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৪ জন সম্ভাব্য কর্মীর মেডিকেল পরীক্ষা করেছিল।

এ ঘটনা থেকে স্পষ্ট, শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানে মালয়েশিয়ার মেডিকেল করা হচ্ছে বলে সেখানে পরীক্ষা করানো নিরাপদ ধরে নেওয়া যাবে না। [সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার]

মেডিকেল করানোর আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা এবং অনুমোদিত কেন্দ্রের তালিকা যাচাই করুন। একইভাবে, কলিং ভিসা বা চাকরির নিশ্চয়তার নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান টাকা চাইলে তাদের বৈধতা যাচাই না করে অর্থ লেনদেন করবেন না।

মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি এখন কীভাবে নেবেন?

যাঁরা ২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় কাজের জন্য যেতে চান, তাঁদের প্রথমে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে খোঁজ নিতে হবে। চাকরির চাহিদাপত্র, নিয়োগদাতার তথ্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে এগোনো উচিত।

মেডিকেল পরীক্ষা, কলিং ভিসা এবং বিএমইটি ছাড়পত্রের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট মেডিকেল সেন্টার বা এজেন্সির মাধ্যমে কাজ শুরু করার আগে সেটির অনুমোদন যাচাই করা প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা এলেও মেডিকেল পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ, সবার কলিং ভিসা পাওয়ার সময় এবং বিদেশযাত্রার সূচি এখনো নিশ্চিত নয়। তাই সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা প্রকাশের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. মালয়েশিয়া মেডিকেল কবে থেকে শুরু হবে ২০২৬?

মেডিকেল পরীক্ষার নির্দিষ্ট শুরুর তারিখ এখনো নিশ্চিতভাবে জানানো হয়নি। অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে।

২. মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কি চালু হয়েছে?

১৫ অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশ সরকার কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তবে সব কর্মীর কলিং ভিসা ইস্যু ও বিদেশযাত্রার নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

৩. মালয়েশিয়া যেতে মেডিকেল কোথায় করাতে হবে?

মালয়েশিয়ার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তালিকা ও নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

৪. মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী কি বিনা খরচে যেতে পারবেন?

সরকারি ঘোষণায় মালয়েশিয়া ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগ দিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে কারা এই সুযোগ পাবেন এবং নির্বাচন কীভাবে হবে, তার বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়।

৫. মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে কি মেডিকেল ও ভিসার জন্য টাকা দেওয়া উচিত?

আগে অনুমোদিত প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট এজেন্সি এবং মেডিকেল সেন্টারের বৈধতা যাচাই করুন। সরকারি নির্দেশনা ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ জমা দেবেন না।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: