ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

Ultraviolette X-47 Venom: ৩৪৩ কিমি রেঞ্জ, দাম ও ফিচার

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৫:৪৭:৪৫
Ultraviolette X-47 Venom: ৩৪৩ কিমি রেঞ্জ, দাম ও ফিচার

এক চার্জে সর্বোচ্চ ৩৪৩ কিলোমিটার চলার দাবি, ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতি এবং রাডারনির্ভর নিরাপত্তা প্রযুক্তি—এই তিন বৈশিষ্ট্য নিয়ে ভারতের বাজারে এসেছে নতুন ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল Ultraviolette X-47 Venom। ২২ অক্টোবর ২০২৬-এ বাইকটি উন্মোচন ও বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয় নির্মাতা Ultraviolette Automotive। বেঙ্গালুরুতে এর প্রাথমিক এক্স-শোরুম দাম শুরু হয়েছে ২.৬৫ লাখ রুপি থেকে। উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী মোটর ও দীর্ঘ রেঞ্জের কারণে নতুন এই বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

X-47 Venom-এর অন্যতম আকর্ষণ হলো এর নতুন VX-100 প্ল্যাটফর্ম, সর্বোচ্চ ১১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারির বিকল্প এবং UV Hypersense নামের রাডারভিত্তিক সহায়তা প্রযুক্তি। তবে সব ভ্যারিয়েন্টে একই ব্যাটারি, চার্জিং সুবিধা ও নিরাপত্তা ফিচার নেই। তাই বাইকটি কেনার কথা ভাবলে দাম ও ফিচারের পাশাপাশি ভ্যারিয়েন্টের পার্থক্যও জানা জরুরি।

Ultraviolette X-47 Venom-এর দাম কত?

ভারতের বেঙ্গালুরুতে X-47 Venom-এর চারটি ভ্যারিয়েন্টের প্রাথমিক এক্স-শোরুম দাম প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যাটারির ক্ষমতা, চার্জার ও রঙের বিকল্প অনুযায়ী দাম আলাদা।

X-47 Venom: ২.৬৫ লাখ থেকে ২.৭৮ লাখ রুপি

X-47 Venom+: ৩.১৫ লাখ থেকে ৩.২৮ লাখ রুপি

X-47 Venom Recon: ৩.৭৫ লাখ থেকে ৩.৮৮ লাখ রুপি

X-47 Venom Recon+: ৪ লাখ থেকে ৪.১২ লাখ রুপি

এই দামগুলো বেঙ্গালুরুর এক্স-শোরুমের প্রাথমিক মূল্য। প্রথম ৫ হাজার ক্রেতার জন্য ঘোষিত অফারের আওতায় দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্মাতার ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, অফার শেষ হলে ভ্যারিয়েন্টভেদে দাম ৩৫ হাজার রুপি পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে এগুলোকে স্থায়ী বা সব অঞ্চলের চূড়ান্ত দাম হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

ব্যাটারি ও রেঞ্জ: সর্বোচ্চ ৩৪৩ কিলোমিটারের দাবি

Ultraviolette X-47 Venom-এ দুটি ব্যাটারি ধারণক্ষমতার বিকল্প রয়েছে। সাধারণ ভ্যারিয়েন্টগুলোতে ৭.৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা এবং Recon সিরিজে ১১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে।

কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৭.৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারির ভ্যারিয়েন্টে IDC পরীক্ষার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২২৭ কিলোমিটার রেঞ্জ দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারির ভ্যারিয়েন্টে এই দাবি সর্বোচ্চ ৩৪৩ কিলোমিটার।

এখানে IDC রেঞ্জের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এটি নির্দিষ্ট পরীক্ষাপদ্ধতিতে পাওয়া পরিসংখ্যান; বাস্তবে প্রতিবার চার্জে একই দূরত্ব চলার নিশ্চয়তা নয়। গতি, রাস্তার অবস্থা, তাপমাত্রা, আরোহীর ওজন এবং চালানোর ধরন অনুযায়ী প্রকৃত রেঞ্জ কমবেশি হতে পারে।

মোটরের ক্ষমতা ও সর্বোচ্চ গতি

বাইকটিতে নতুন VX-100 প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে UV LIGHTFURY ইলেকট্রিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। নির্মাতার তথ্য অনুযায়ী, মোটরটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা ৩০ কিলোওয়াট বা প্রায় ৪০ হর্সপাওয়ার। পেছনের চাকায় টর্কের পরিমাণ ৫৫০ নিউটন-মিটার বলে দাবি করা হয়েছে।

পারফরম্যান্সের দিক থেকে কোম্পানির প্রকাশিত পরিসংখ্যানগুলো হলো—

০ থেকে ৬০ কিমি/ঘণ্টা গতি তুলতে সময়: ২.৭ সেকেন্ড

০ থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতি তুলতে সময়: ৫.৯ সেকেন্ড

সর্বোচ্চ গতি: ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার

ঘোষিত ওজন: বেস ভ্যারিয়েন্টে প্রায় ১৮০ কেজি

এগুলো নির্মাতার দেওয়া পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান; স্বাধীন বাস্তব পরীক্ষার ফল হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ব্যাটারির চার্জ ও রাইডিং মোডের ওপরও পারফরম্যান্স নির্ভর করতে পারে।

রাডার প্রযুক্তিতে কী সুবিধা মিলবে?

X-47 Venom-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো UV Hypersense রাডারভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থা। তবে এই প্রযুক্তি সব ভ্যারিয়েন্টে নেই; নির্মাতার প্রকাশিত ভ্যারিয়েন্ট তালিকা অনুযায়ী এটি Recon ও Recon+ মডেলে পাওয়া যায়।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় কয়েক ধরনের সতর্কতামূলক সুবিধা রয়েছে।

ব্লাইন্ড স্পট মনিটরিং: বাইকের পাশের এমন জায়গায় অন্য যানবাহন থাকলে, যা আয়নায় সহজে চোখে পড়ে না, সে বিষয়ে রাইডারকে সতর্ক করতে পারে।

লেন পরিবর্তনের সহায়তা: পাশের লেনে অন্য যানবাহনের অবস্থান সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়ে লেন পরিবর্তনের সময় বাড়তি সহায়তা দিতে পারে।

ওভারটেক সতর্কতা: দ্রুত এগিয়ে আসা যানবাহন সম্পর্কে রাইডারকে সতর্ক করার সুবিধা রয়েছে।

পেছন থেকে সংঘর্ষের সতর্কতা: পেছন থেকে কোনো যানবাহন দ্রুত কাছে চলে এলে সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

এই প্রযুক্তিগুলো রাইডারের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য তৈরি। তবে এগুলো দুর্ঘটনা ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না এবং আয়না দেখা, নিরাপদ দূরত্ব রাখা কিংবা ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিকল্প নয়।

৭ ইঞ্চি টাচস্ক্রিন, ড্যাশক্যাম ও ক্রুজ কন্ট্রোল

বাইকটির প্রযুক্তিগত সুবিধার তালিকায় রয়েছে ৭ ইঞ্চি টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে, নেভিগেশন এবং সামনের ও পেছনের ক্যামেরা ব্যবহার করে ড্যাশক্যাম রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টে ক্যামেরার লাইভ ফিড কাজে লাগিয়ে পার্কিংয়ের সময় বাইক পেছনে নেওয়ার সহায়তাও পাওয়া যায়।

এ ছাড়া নির্বাচিত ভ্যারিয়েন্টে ক্রুজ কন্ট্রোল রয়েছে। দীর্ঘ পথে নির্দিষ্ট গতি ধরে রাখতে এই ফিচার কাজে লাগতে পারে। বাইকটিতে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, ডুয়াল-চ্যানেল ABS এবং রিজেনারেটিভ ব্রেকিংয়ের মতো সুবিধাও রয়েছে। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী এসব ফিচারের ধরন ও প্রাপ্যতায় পার্থক্য থাকতে পারে।

রিজেনারেটিভ ব্রেকিংয়ের মাধ্যমে গতি কমানোর সময় কিছু শক্তি পুনরুদ্ধার করে ব্যাটারিতে ফেরত পাঠানো যায়। তবে এই ব্যবস্থা ব্যবহারে ব্যাটারির চার্জ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

চার্জিং সুবিধা কেমন?

Ultraviolette X-47 Venom-এ সাধারণ চার্জিংয়ের পাশাপাশি দ্রুত চার্জ করার সুবিধাও রয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টে ১২ কিলোওয়াট DC ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করা হয়। কিছু মডেলে অনবোর্ড চার্জারও রয়েছে, যার ক্ষমতা ১.৬ কিলোওয়াট পর্যন্ত।

তবে সব ভ্যারিয়েন্টে চার্জারের ধরন এক নয়। চার্জিংয়ের প্রকৃত সময় নির্ভর করবে ব্যাটারির আকার, চার্জারের ক্ষমতা, ব্যাটারির বর্তমান চার্জ এবং চার্জিং অবকাঠামোর ওপর। তাই শুধু ফাস্ট চার্জিং সমর্থনের তথ্য দেখে সব পরিস্থিতিতে একই সময়ে চার্জ হবে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

ডিজাইন ও চালানোর সুবিধা

X-47 Venom-কে স্পোর্টস মোটরসাইকেলের পারফরম্যান্স, শহরের রাস্তায় চালানোর সুবিধা এবং অ্যাডভেঞ্চার বাইকের কিছু বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এতে সোজা হয়ে বসার উপযোগী রাইডিং পজিশন, দীর্ঘ ট্রাভেলের সাসপেনশন এবং তুলনামূলক বেশি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্সের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, বাইকটির সিটের উচ্চতা ৮২০ মিলিমিটার। এই উচ্চতা সব উচ্চতার রাইডারের জন্য সমান স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক নাও হতে পারে। তাই কেনার আগে নিজে বসে দেখা এবং নিয়ন্ত্রণে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ হচ্ছে কি না যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে Ultraviolette X-47 Venom-এর দাম কত হতে পারে?

বাংলাদেশে Ultraviolette X-47 Venom-এর আনুষ্ঠানিক দাম, বাজারজাতকরণ বা বিক্রির নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ভারতের ২.৬৫ লাখ রুপির প্রাথমিক দামকে সরাসরি বাংলাদেশি বাজারমূল্য হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশে বাইকটি বিক্রি হলে আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর, নিবন্ধনসংক্রান্ত নিয়ম, পরিবেশক ও বিক্রয়োত্তর সেবার খরচের কারণে দাম আলাদা হতে পারে। পাশাপাশি ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলটির আমদানি ও নিবন্ধনের যোগ্যতা, অনুমোদিত বিক্রেতা, ওয়ারেন্টি এবং যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে কেমন Ultraviolette X-47 Venom?

দীর্ঘ রেঞ্জের দাবি, ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতি, ৩০ কিলোওয়াট মোটর এবং রাডারভিত্তিক নিরাপত্তা সহায়তা—সব মিলিয়ে Ultraviolette X-47 Venom প্রযুক্তিনির্ভর ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল হিসেবে নজর কাড়ার মতো। তবে এর সর্বোচ্চ রেঞ্জ ও পারফরম্যান্স নির্মাতার ঘোষিত পরিসংখ্যান। বাস্তব ব্যবহারে ফল ভিন্ন হতে পারে।

বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় বাজারে বাইকটির আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি, দাম, আমদানি ও নিবন্ধনের সুযোগ এবং বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষা করা।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

১. Ultraviolette X-47 Venom-এর দাম কত?

ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাইকটির ঘোষিত প্রাথমিক এক্স-শোরুম দাম ২.৬৫ লাখ রুপি থেকে শুরু। ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী দাম সর্বোচ্চ ৪.১২ লাখ রুপি পর্যন্ত।

২. Ultraviolette X-47 Venom এক চার্জে কত কিলোমিটার চলে?

কোম্পানির IDC পরীক্ষাভিত্তিক দাবি অনুযায়ী, ৭.৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারির ভ্যারিয়েন্টে সর্বোচ্চ ২২৭ কিলোমিটার এবং ১১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারির ভ্যারিয়েন্টে সর্বোচ্চ ৩৪৩ কিলোমিটার রেঞ্জ পাওয়া যায়।

৩. বাইকটির সর্বোচ্চ গতি কত?

নির্মাতার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, Ultraviolette X-47 Venom-এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার।

৪. সব ভ্যারিয়েন্টে কি রাডার প্রযুক্তি রয়েছে?

না। কোম্পানির প্রকাশিত ভ্যারিয়েন্ট তালিকা অনুযায়ী, UV Hypersense রাডারভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থা Recon ও Recon+ ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে।

৫. Ultraviolette X-47 Venom কি বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে?

বাংলাদেশে বাইকটির আনুষ্ঠানিক দাম ও বিক্রির তথ্য নিশ্চিত নয়। কেনার আগে আমদানি, নিবন্ধন, ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবার বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন।

আল -মামুন/

পাঠকের মতামত: