ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

খতিয়ান, পর্চা নাকি দাগ নম্বর—কোনটির কাজ কী? জানুন সব কিছু

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ২১:১১:৫৭
খতিয়ান, পর্চা নাকি দাগ নম্বর—কোনটির কাজ কী? জানুন সব কিছু

জমি কেনার আগে কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির হিসাব যাচাই করতে গিয়ে অনেকেই খতিয়ান, পর্চা ও দাগ নম্বর নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। তিনটি বিষয়ই জমি শনাক্ত ও রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এগুলোর কাজ এক নয়। খতিয়ানে জমির স্বত্বসংশ্লিষ্ট তথ্য ও মালিকের অংশের বিবরণ থাকে, পর্চা হলো সেই রেকর্ডের অনুলিপি বা নির্দিষ্ট পর্যায়ে প্রস্তুত করা রেকর্ডের কপি, আর দাগ নম্বর দিয়ে মৌজা নকশায় নির্দিষ্ট জমির খণ্ড চিহ্নিত করা হয়।

এই পার্থক্য জানা জরুরি, কারণ শুধু একটি খতিয়ান বা পর্চা দেখে জমির মালিকানা, সীমানা কিংবা বিক্রেতার অধিকার সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। জমির দলিল, সংশ্লিষ্ট জরিপের রেকর্ড, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, নামজারি, দখল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি মিলিয়ে দেখলেই জমির পরিচয় ও স্বত্ব সম্পর্কে তুলনামূলক নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া যায়।

খতিয়ান কী, এতে কী তথ্য থাকে?

খতিয়ান হলো ভূমি জরিপের মাধ্যমে প্রস্তুত করা স্বত্বলিপি বা Record of Rights। এতে নির্দিষ্ট জমি বা জমির অংশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মালিক বা স্বত্বসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম এবং জমির বিবরণ লিপিবদ্ধ থাকে। বাংলাদেশের ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খতিয়ান জমি শনাক্ত করা, দখল ও স্বত্বসংশ্লিষ্ট তথ্য রেকর্ড করা এবং ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণের কাজে ব্যবহৃত হয়।

একটি খতিয়ানে সাধারণত যেসব তথ্য পাওয়া যেতে পারে, সেগুলো হলো—

খতিয়ান নম্বর ও সংশ্লিষ্ট মৌজার পরিচয়

মালিক বা স্বত্বসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম এবং প্রাসঙ্গিক পরিচিতি

সংশ্লিষ্ট দাগ নম্বর

জমির পরিমাণ ও শ্রেণি

একাধিক মালিক থাকলে তাঁদের অংশের বিবরণ

ভূমি উন্নয়ন কর বা জমির অন্যান্য রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য

সব খতিয়ানে সব তথ্য একইভাবে বা একই পরিমাণে থাকবে, এমন নয়। জরিপের ধরন, রেকর্ডের সময় এবং সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী তথ্যের বিন্যাসে পার্থক্য হতে পারে।

খতিয়ান কেন প্রয়োজন?

জমির রেকর্ডে কার নাম রয়েছে, কোন দাগে কতটুকু জমি উল্লেখ আছে এবং একাধিক ব্যক্তির মধ্যে কার কত অংশ দেখানো হয়েছে—এসব যাচাই করতে খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ। জমি কেনার আগে বিক্রেতার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে খতিয়ানের তথ্য মেলে কি না, তা পরীক্ষা করা যায়।

তবে খতিয়ান নিজে মালিকানা হস্তান্তরের দলিল নয়। খতিয়ানে কারও নাম থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হলেও শুধু সেই তথ্যের ভিত্তিতে সব পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত মালিকানা নিশ্চিত করা যায় না। জমির দলিল, উত্তরাধিকারসূত্রে স্বত্ব অর্জনের নথি, হস্তান্তরের ইতিহাস ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণও যাচাই করতে হয়।

পর্চা কী? খতিয়ানের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

পর্চা বলতে সাধারণভাবে খতিয়ানের অনুলিপি বা কপিকে বোঝানো হয়। ভূমি জরিপের সময় প্রস্তুত করা খসড়া রেকর্ডের যে কপি মালিককে যাচাইয়ের জন্য দেওয়া হয়, সেটিও মাঠ পর্চা নামে পরিচিত। অন্যদিকে, চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত রেকর্ডের অনুলিপি সংগ্রহের ক্ষেত্রেও পর্চা শব্দটি প্রচলিত।

এ কারণে খতিয়ান ও পর্চাকে সব সময় দুটি সম্পূর্ণ আলাদা নথি ভাবা ঠিক নয়। খতিয়ান হলো রেকর্ড; পর্চা সাধারণত সেই রেকর্ডের কপি বা নির্দিষ্ট জরিপপর্যায়ে সরবরাহ করা নথি। কথাবার্তায় অনেকে খতিয়ানের কপিকেও খতিয়ান বলে উল্লেখ করেন।

পর্চা কোন কাজে লাগে?

জমির রেকর্ডের তথ্য নিজের কাছে রাখা, জমি কেনাবেচার আগে তথ্য যাচাই করা, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং প্রয়োজনে সরকারি ভূমি সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে পর্চা কাজে লাগে।

তবে পর্চাটি কোন জরিপের, সেটি খসড়া নাকি চূড়ান্ত রেকর্ডের কপি এবং সেটি সত্যায়িত কি না—এসব বিষয় খেয়াল করা জরুরি। শুধু হাতে থাকা একটি পুরোনো বা অসত্যায়িত কপি দেখে জমির বর্তমান রেকর্ড নিশ্চিত ধরে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থায় তথ্য যাচাই এবং সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করা যেতে পারে।

দাগ নম্বর কী, এটি দিয়ে কী বোঝা যায়?

জরিপের সময় একটি মৌজার জমিকে পৃথক পৃথক ভূমিখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব ভূমিখণ্ডকে শনাক্ত করার জন্য মৌজা নকশায় যে নম্বর দেওয়া হয়, সেটিই দাগ নম্বর।

সহজভাবে বললে, খতিয়ান থেকে জমির রেকর্ড ও স্বত্বসংশ্লিষ্ট তথ্য জানা যায়, আর দাগ নম্বরের সাহায্যে মৌজা নকশায় নির্দিষ্ট জমির অবস্থান ও সীমানা শনাক্ত করা যায়।

একটি দাগ নম্বরের সঙ্গে জমির পরিমাণ, শ্রেণি ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডের তথ্য মিলিয়ে নির্দিষ্ট ভূমিখণ্ড সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে শুধু দাগ নম্বর জানলেই জমির মালিকের নাম, বর্তমান স্বত্ব কিংবা জমির ওপর বিক্রেতার আইনগত অধিকার নিশ্চিত হয়ে যায় না। এসব তথ্যের জন্য খতিয়ান, দলিল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি দেখতে হয়।

একই জমির দাগ নম্বর কি বদলাতে পারে?

হ্যাঁ, বিভিন্ন সময়ে নতুন জরিপ হলে পুরোনো দাগ নম্বরের সঙ্গে নতুন দাগ নম্বরের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। জমি বিভক্ত হওয়া, একাধিক ভূমিখণ্ড একত্র করা বা জরিপের পদ্ধতিগত পরিবর্তনের কারণে দাগ নম্বরের পার্থক্য দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন:

একই জমির দুটি দলিল, কার মালিকানা বৈধ? জানুন করণীয়

জমির দলিল হারালে নকল তুলতে কত টাকা খরচ হবে?

জমি কেনার আগে কীভাবে যাচাই করবেন? জেনে নিন ধাপগুলো

তাই পুরোনো দলিলে থাকা দাগ নম্বরের সঙ্গে বর্তমান রেকর্ডের দাগ নম্বর না মিললেই জমিটি আলাদা—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আবার নম্বর কাছাকাছি বা একই দেখালেই দুটি নথিতে বর্ণিত জমি একই, সেটিও ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট মৌজা, জরিপের ধরন, সাবেক-হাল দাগের সম্পর্ক এবং মৌজা নকশা মিলিয়ে দেখতে হবে।

খতিয়ান, পর্চা ও দাগ নম্বরের মূল পার্থক্য

সহজভাবে বিষয়টি এভাবে বোঝা যায়—

খতিয়ান: জমির স্বত্বসংশ্লিষ্ট রেকর্ড; এতে মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, দাগ, জমির পরিমাণ ও অংশের মতো তথ্য থাকতে পারে।

পর্চা: খতিয়ানের কপি বা জরিপের নির্দিষ্ট পর্যায়ে সরবরাহ করা রেকর্ডের অনুলিপি।

দাগ নম্বর: মৌজা নকশায় নির্দিষ্ট ভূমিখণ্ড শনাক্ত করার নম্বর।

অর্থাৎ, খতিয়ান জমির রেকর্ডের তথ্য বুঝতে সাহায্য করে, পর্চা সেই রেকর্ডের অনুলিপি হিসেবে কাজে লাগে এবং দাগ নম্বর জমির অবস্থান শনাক্ত করতে সহায়তা করে। জমির সঠিক পরিচয় যাচাই করতে সাধারণত এই তথ্যগুলো একসঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

CS, SA, RS ও BS খতিয়ান বলতে কী বোঝায়?

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে ভূমি জরিপ পরিচালিত হয়েছে। সেই জরিপগুলোর ভিত্তিতে তৈরি খতিয়ানকে সাধারণভাবে CS, SA, RS ও BS খতিয়ান নামে চেনা হয়। এগুলো একই ধরনের নথির আলাদা নামমাত্র নয়; বিভিন্ন সময়ের জরিপ ও রেকর্ড প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্ত।

CS খতিয়ান: Cadastral Survey বা প্রাথমিক ক্যাডাস্ট্রাল জরিপের রেকর্ড।

SA খতিয়ান: State Acquisition-সংক্রান্ত রেকর্ড, যা জমিদারি অধিগ্রহণ-পরবর্তী ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।

RS খতিয়ান: Revisional Survey বা সংশোধনী জরিপের রেকর্ড।

BS খতিয়ান: Bangladesh Survey নামে পরিচিত জরিপের রেকর্ড।

কোনো জমির ক্ষেত্রে একাধিক জরিপের খতিয়ান থাকতে পারে। পুরোনো রেকর্ডে থাকা তথ্য পরবর্তী জরিপে সংশোধিত বা পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে। তাই শুধু খতিয়ানের নাম দেখে কোন নথি চূড়ান্তভাবে সঠিক, তা নির্ধারণ করা ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার জরিপের অবস্থা, চূড়ান্ত প্রকাশনার তথ্য, দলিল ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।

জমি কেনার আগে কোন নথি কীভাবে মিলিয়ে দেখবেন?

জমি কেনার সময় শুধু বিক্রেতার দেওয়া পর্চা বা খতিয়ান দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধাপে ধাপে যাচাই করা উচিত।

প্রথমে জমির পরিচয় নিশ্চিত করুন। দলিলে উল্লেখ করা মৌজার নাম, জেএল নম্বর প্রযোজ্য হলে সেটি, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও চৌহদ্দি মিলিয়ে দেখুন।

এরপর খতিয়ান ও পর্চার তথ্য যাচাই করুন। সংশ্লিষ্ট জরিপের রেকর্ডে কার নাম রয়েছে, জমির পরিমাণ কত এবং বিক্রেতার দাবির সঙ্গে তথ্যের মিল আছে কি না দেখুন। একাধিক মালিক থাকলে বিক্রেতা ঠিক কতটুকু জমি বিক্রি করার অধিকার রাখেন, তা যাচাই করা জরুরি।

দলিল ও স্বত্বের ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করুন। বিক্রেতা কীভাবে জমির মালিক হয়েছেন, আগের দলিলগুলো কী বলছে এবং পরবর্তী কোনো হস্তান্তর হয়েছে কি না, তা যাচাই করুন। উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পেলে উত্তরাধিকার ও বণ্টনসংক্রান্ত কাগজপত্রও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

মৌজা নকশা ও সরেজমিনের জমি মিলিয়ে দেখুন। দাগ নম্বর অনুযায়ী জমির অবস্থান, আয়তন ও সীমানা বাস্তবে মেলে কি না, প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আমিন বা সার্ভেয়ারের সহায়তায় পরীক্ষা করুন। কাগজের দাগ ও মাঠের জমির মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে কারণ পরিষ্কার না করে লেনদেন করা ঝুঁকিপূর্ণ।

নামজারি, কর ও বিরোধের তথ্য যাচাই করুন। নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করের নথি সহায়ক হলেও এগুলো একা মালিকানা প্রমাণের বিকল্প নয়। জমি নিয়ে মামলা, অধিগ্রহণ, বন্ধক বা অন্য কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, তা পরিস্থিতি অনুযায়ী খোঁজ নেওয়া উচিত।

অনলাইনে খতিয়ান ও দাগ নম্বরের তথ্য কোথায় দেখবেন?

বাংলাদেশের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সরকারি পোর্টাল settlement.gov.bd-এ খতিয়ান অনুসন্ধান ও মৌজা ম্যাপ দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে চলমান জরিপের খসড়া রেকর্ডও দেখা যায়। পোর্টালটির নির্দেশনা অনুযায়ী, চলমান জরিপের প্রদর্শিত খতিয়ানগুলো খসড়া হতে পারে; জরিপের বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্য পরিবর্তিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত রেকর্ডের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি ভূমি রেকর্ড সেবা ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে খতিয়ানের কপি বা সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করা যায়। অনলাইনে তথ্য দেখা আর কোনো নথির সার্টিফায়েড কপি হাতে পাওয়া এক বিষয় নয়—কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সেবাটি বেছে নেওয়া জরুরি।

খতিয়ানে নাম থাকলেই কি জমির মালিক হওয়া যায়?

খতিয়ান একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভূমি রেকর্ড। বাংলাদেশের State Acquisition and Tenancy Act, 1950-এর ১৪৪এ ধারায় রেকর্ড-অব-রাইটসের এন্ট্রির বিষয়ে প্রমাণমূল্য ও সঠিকতার অনুমানের বিধান রয়েছে; তবে প্রমাণ দিয়ে এন্ট্রিটি ভুল দেখানো যেতে পারে। অর্থাৎ, খতিয়ানের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা সব পরিস্থিতিতে অখণ্ডনীয় নয়।

জমির মালিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দলিল, স্বত্ব অর্জনের ইতিহাস, উত্তরাধিকার বা হস্তান্তরের কাগজপত্র, দখল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যও বিবেচনা করতে হয়। কোনো রেকর্ডে ভুল, বিরোধ বা একাধিক দাবিদার থাকলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা ভূমি আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যুক্তিযুক্ত।

খতিয়ান, পর্চা ও দাগ নম্বর জমি শনাক্ত ও রেকর্ড যাচাইয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। খতিয়ান থেকে স্বত্বসংশ্লিষ্ট রেকর্ডের তথ্য পাওয়া যায়, পর্চা সেই রেকর্ডের কপি হিসেবে কাজে লাগে, আর দাগ নম্বর দিয়ে মৌজা নকশায় নির্দিষ্ট জমি শনাক্ত করা হয়।

জমি কেনার আগে এই তিনটির তথ্য দলিল, বর্তমান রেকর্ড, নামজারি, দখল ও জমির বাস্তব সীমানার সঙ্গে মিলিয়ে দেখাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। কোনো একটি কাগজের ওপর নির্ভর না করে সব প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করলে ভুল জমি কেনা, পরিমাণে গরমিল বা মালিকানা নিয়ে বিরোধের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ও উত্তর

১. খতিয়ান ও পর্চা কি একই জিনিস?

পুরোপুরি আলাদা নয়। খতিয়ান হলো ভূমি রেকর্ড, আর পর্চা বলতে সাধারণত সেই রেকর্ডের অনুলিপি বা নির্দিষ্ট জরিপপর্যায়ে সরবরাহ করা কপিকে বোঝায়।

২. শুধু দাগ নম্বর দিয়ে কি জমির মালিকের নাম জানা যায়?

দাগ নম্বর দিয়ে মৌজা নকশায় নির্দিষ্ট জমি শনাক্ত করা যায়। মালিক বা স্বত্বসংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান ও অন্যান্য রেকর্ডও যাচাই করতে হবে।

৩. খতিয়ানে নাম থাকলেই কি জমির চূড়ান্ত মালিক হওয়া যায়?

না। খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড হলেও এটি নিজে মালিকানা হস্তান্তরের দলিল নয়। দলিল, স্বত্বের ধারাবাহিকতা, উত্তরাধিকার বা হস্তান্তরের নথি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণও যাচাই করা প্রয়োজন।

৪. একই জমির একাধিক খতিয়ান বা দাগ নম্বর থাকতে পারে?

বিভিন্ন সময়ের জরিপে একই জমির জন্য আলাদা খতিয়ান বা দাগ নম্বর পাওয়া যেতে পারে। সাবেক ও হাল দাগের সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট মৌজা নকশা যাচাই করে জমির পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়।

৫. অনলাইনে খতিয়ান ও দাগ নম্বরের তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে?

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সরকারি পোর্টাল settlement.gov.bd-এ খতিয়ান অনুসন্ধান ও মৌজা ম্যাপ দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে চলমান জরিপের রেকর্ড খসড়া হতে পারে; প্রয়োজন অনুযায়ী চূড়ান্ত রেকর্ড ও সার্টিফায়েড কপি যাচাই করুন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: