ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়েছে? জেনে নিন নতুন কপি পাওয়ার উপায়
ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে সেটি ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা উচিত। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় হারানো লাইসেন্সের প্রতিলিপি সংগ্রহ করা যায়। এ ক্ষেত্রে সাধারণত থানায় করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি), ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স, নির্ধারিত আবেদন এবং ফি জমার প্রমাণ প্রয়োজন হয়।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন ও ফি দেওয়ার সুবিধাও রয়েছে। তাই লাইসেন্স হারিয়ে গেলে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে, কী কী কাগজপত্র লাগবে এবং ফি জমা দেওয়ার আগে কোন বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি—তা জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স হারালে প্রথমে যা করবেন
লাইসেন্স হারিয়ে গেলে প্রথম কাজ হলো ঘটনাটি নথিভুক্ত করা। এ জন্য নিকটস্থ থানায় গিয়ে জিডি করতে হবে। জিডিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স হারানোর বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিত। জিডির কপি সংরক্ষণ করুন, কারণ ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের আবেদন করার সময় এটি প্রয়োজন হবে।
এরপর সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করতে হবে। বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনায় হারানো লাইসেন্সের প্রতিলিপি পেতে জিডির কপির সঙ্গে ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে যেসব কাগজপত্র লাগবে
বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, হারানো ড্রাইভিং লাইসেন্সের ডুপ্লিকেট পেতে সাধারণত নিচের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে—
নির্ধারিত আবেদন ফরম।
ড্রাইভিং লাইসেন্স হারানোর বিষয়ে থানায় করা জিডির কপি।
প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স।
নির্ধারিত ফি জমার রসিদ।
সদ্য তোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিসে কাগজপত্রের বর্তমান চাহিদা যাচাই করে নেওয়া ভালো। আবেদনকারীর লাইসেন্সের ধরন বা রেকর্ড যাচাইয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিও চাওয়া হতে পারে।
অনলাইনে ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করবেন যেভাবে
বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন ও ফি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আবেদন করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
প্রথম ধাপ: বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে প্রবেশ করুন।
বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের ঠিকানা হলো bsp.brta.gov.bd। সেখানে নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপ: ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের সেবা নির্বাচন করুন।
পোর্টালে ড্রাইভিং লাইসেন্সসংক্রান্ত সেবার তালিকা থেকে ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের আবেদনসংক্রান্ত অপশন নির্বাচন করুন। এরপর প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন।
তৃতীয় ধাপ: প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত ও জমা দিন।
লাইসেন্সের রেকর্ডের সঙ্গে মিল রেখে তথ্য পূরণ করুন। জিডি, ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স, ছবি এবং পোর্টালে চাওয়া অন্যান্য নথি নির্ধারিত নিয়মে জমা দিন।
চতুর্থ ধাপ: নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন।
আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রদর্শিত ফি ও পরিশোধের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। অনলাইনে পেমেন্ট করলে লেনদেনের রসিদ বা প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
পঞ্চম ধাপ: আবেদন যাচাই ও পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
আবেদন জমা দেওয়ার পর পোর্টালে দেখানো অবস্থা এবং বিআরটিএর নির্দেশনা অনুসরণ করুন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করে আবেদন বা নথির বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন।
আরও পড়ুন:
জন্মনিবন্ধন সংশোধন না করলে পাসপোর্ট করতে কী সমস্যা হবে?
ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম ভুল? যেভাবে সংশোধন করবেন
অনলাইনে আবেদন করলেই সঙ্গে সঙ্গে ডুপ্লিকেট লাইসেন্স পাওয়া যাবে—এমন নয়। আবেদন যাচাই, অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রস্তুতের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হয়।
ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি কত?
ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি সম্পর্কে বিআরটিএর অনলাইন তথ্যপৃষ্ঠায় হাই-সিকিউরিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ৬৩৩ টাকা উল্লেখ রয়েছে। তবে ফি পরিবর্তিত হতে পারে এবং অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গেটওয়ে চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।
তাই আবেদন করার আগে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ ফি যাচাই করুন। পুরোনো ফি-তালিকা দেখে টাকা জমা না দিয়ে আবেদনকালে দেখানো নির্ধারিত অঙ্ক অনুসরণ করাই নিরাপদ।
ডুপ্লিকেট লাইসেন্স পেতে কত দিন লাগবে?
ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পাওয়ার নির্দিষ্ট সময় আবেদন যাচাই, নথির সঠিকতা এবং লাইসেন্স প্রস্তুতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে পারে। বিআরটিএর প্রকাশিত তথ্য থেকে সব আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করা যায়নি।
আবেদন জমা দেওয়ার পর পোর্টালে আবেদন-সংক্রান্ত তথ্য দেখুন। দীর্ঘ সময় কোনো অগ্রগতি না হলে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করে অবস্থার খোঁজ নিন।
লাইসেন্স হারালে কি আবার ড্রাইভিং পরীক্ষা দিতে হবে?
ড্রাইভিং লাইসেন্স হারানোর কারণে শুধু ডুপ্লিকেট কপি নেওয়ার জন্য নতুন করে পুরো লাইসেন্স প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়—এমন নির্দেশনা বিআরটিএর প্রকাশিত ডুপ্লিকেট লাইসেন্সসংক্রান্ত তথ্যপৃষ্ঠায় নেই। এখানে মূল বিষয় হলো আগের লাইসেন্সের রেকর্ড যাচাই করে প্রতিলিপি দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
তবে আবেদনকারীর লাইসেন্সের রেকর্ডে সমস্যা থাকলে বা কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
লাইসেন্স হারানোর পর গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা
ড্রাইভিং লাইসেন্স হারানোর পর জিডি করা বা ডুপ্লিকেটের আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ থাকলেই সেটি মূল লাইসেন্সের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হবে—এমন নিশ্চয়তা ধরে নেওয়া উচিত নয়। তাই বৈধ লাইসেন্স প্রদর্শনের প্রয়োজন হলে কী ধরনের অস্থায়ী প্রমাণ গ্রহণযোগ্য, তা বিআরটিএ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
লাইসেন্স হারানোর পর কেউ সেটি খুঁজে পেলে এবং পরে ডুপ্লিকেট লাইসেন্সও হাতে এলে পুরোনো লাইসেন্স ব্যবহারের বিষয়ে বিআরটিএর নির্দেশনা অনুসরণ করুন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য ও লাইসেন্স নম্বর অপরিচিত কারও কাছে অপ্রয়োজনে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স হারালে করণীয় সংক্ষেপে
ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে প্রথমে থানায় জিডি করুন। এরপর প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহ করে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল অথবা সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের আবেদন করুন। ফি দেওয়ার আগে সর্বশেষ নির্ধারিত অঙ্ক যাচাই করুন এবং আবেদন জমার প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
সঠিক নথি প্রস্তুত রাখা এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করলেই ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াটি সহজভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ড্রাইভিং লাইসেন্স হারালে প্রথমে কী করতে হবে?
প্রথমে নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স ও অন্যান্য নথি সংগ্রহ করে ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে।
২. ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য কী কী কাগজ লাগে?
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত আবেদন ফরম, জিডির কপি, ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স, ফি জমার রসিদ এবং সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি প্রয়োজন হয়।
৩. ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি কত?
বিআরটিএর একটি অনলাইন তথ্যপৃষ্ঠায় হাই-সিকিউরিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ৬৩৩ টাকা উল্লেখ আছে। তবে আবেদন করার সময় সার্ভিস পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ ফি যাচাই করতে হবে।
৪. অনলাইনে কি ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করা যায়?
হ্যাঁ। বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন ও ফি পরিশোধের সুবিধা রয়েছে।
৫. ডুপ্লিকেট লাইসেন্স পেতে কত দিন লাগে?
সবার জন্য প্রযোজ্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করা যায়নি। আবেদন যাচাই ও লাইসেন্স প্রস্তুতের অগ্রগতির ওপর সময় নির্ভর করতে পারে।
তানভির ইসলাম/