ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

জমি কেনার আগে কয়েক ধাপে পুরো জমি যাচাই করবেন যেভাবে

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩০ ১১:৫২:২৬
জমি কেনার আগে কয়েক ধাপে পুরো জমি যাচাই করবেন যেভাবে

জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো বিক্রেতা সত্যিই জমিটির বৈধ মালিক কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া। শুধু দলিল, খতিয়ান কিংবা নামজারির কাগজ দেখেই নিশ্চিন্ত হওয়া ঠিক নয়। কারণ একই জমি একাধিকবার বিক্রি, বন্ধক, মামলা কিংবা সরকারি অধিগ্রহণের আওতায় থাকতে পারে। আবার কাগজে উল্লেখ করা দাগ নম্বরের সঙ্গে সরেজমিনে দেখানো জমির অমিলও থাকতে পারে।

এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে জমি কেনার আগে কয়েকটি ধাপে মালিকানার ইতিহাস, দলিল, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, দখল, নকশা এবং আইনি জটিলতা যাচাই করতে হবে। এসব তথ্য মিলিয়ে দেখার পরই বায়না বা অগ্রিম টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ।

প্রথম ধাপ: বিক্রেতার পরিচয় ও মালিকানা যাচাই করুন

জমি কেনার আগে প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে, যিনি জমি বিক্রি করছেন তিনি প্রকৃত মালিক কি না। এ জন্য বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে দলিল ও সর্বশেষ খতিয়ানে থাকা নাম, পিতার নাম এবং অন্যান্য পরিচয় মিলিয়ে দেখুন।

বিক্রেতা নিজে মালিক না হয়ে অন্য কারও প্রতিনিধি হলে তাঁর কাছে বৈধ আমমোক্তারনামা বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আছে কি না যাচাই করতে হবে। সেই দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

জমিটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া হলে শুধু একজন ওয়ারিশের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করবেন না। মৃত মালিকের ওয়ারিশ কারা, প্রত্যেকের অংশ কত এবং বিক্রেতা নিজের অংশের বাইরে অন্যের জমি বিক্রি করছেন কি না, তা যাচাই করুন। জমি বণ্টন হয়ে থাকলে নিবন্ধিত বণ্টননামা বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রও পরীক্ষা করতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: মূল দলিল ও আগের মালিকানার ধারাবাহিকতা দেখুন

জমির বর্তমান দলিল দেখেই কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বিক্রেতা কীভাবে জমিটির মালিক হয়েছেন, তার আগের মালিক কে ছিলেন এবং এক মালিক থেকে অন্য মালিকের কাছে জমি কীভাবে হস্তান্তর হয়েছে—সেই ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করতে হবে।

এ জন্য সংগ্রহ করুন—

বিক্রেতার নামে থাকা বর্তমান দলিল;

আগের মালিকদের দলিল বা বায়া দলিল;

জমি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া হলে পূর্ববর্তী মালিকের দলিল ও ওয়ারিশসংক্রান্ত নথি;

জমি ভাগ হয়ে থাকলে বণ্টননামা;

আদালতের রায় বা অন্য কোনো বৈধ সূত্রে মালিকানা এলে সংশ্লিষ্ট নথি।

দলিলের নম্বর, নিবন্ধনের তারিখ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, মৌজা, খতিয়ান ও দাগ নম্বর মিলিয়ে দেখতে হবে। শুধু ফটোকপি দেখে সন্তুষ্ট না হয়ে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করে যাচাই করা ভালো।

বিশেষ সতর্কতা: একই জমি আগে অন্য কারও কাছে বিক্রি করা হয়েছে কি না, কোনো দান বা হস্তান্তর দলিল আছে কি না, সেটিও খুঁজে দেখতে হবে।

তৃতীয় ধাপ: সর্বশেষ খতিয়ান ও নামজারি মিলিয়ে নিন

জমির রেকর্ড যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বশেষ জরিপের খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ। জমিটি কোন জরিপে রেকর্ড হয়েছে, যেমন সিএস, এসএ, আরএস, বিএস বা প্রযোজ্য অন্য জরিপ—তা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান সংগ্রহ করুন।

এরপর দেখুন—

সর্বশেষ খতিয়ানে কার নাম রয়েছে;

বিক্রেতার দলিলের সঙ্গে খতিয়ানের তথ্য মেলে কি না;

জমির দাগ নম্বর ও পরিমাণ ঠিক আছে কি না;

আগের মালিক থেকে বর্তমান মালিকের কাছে মালিকানা আসার ধারাবাহিকতা রয়েছে কি না;

বিক্রেতার নামে নামজারি হয়েছে কি না।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খতিয়ান হলো জমির রেকর্ড অব রাইটস বা স্বত্বলিপি। এটি জমির পরিচয়, রেকর্ডীয় মালিকানা ও অন্যান্য তথ্যের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়; তবে খতিয়ান নিজে মালিকানার দলিল নয়। তাই শুধু খতিয়ান দেখে জমি কেনা উচিত নয়।

https://minland.gov.bd/pages/static-pages/694032dc35ce18e1c056393d

খতিয়ান অনলাইনে যাচাই ও সংগ্রহের জন্য সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করতে পারেন:

https://www.eporcha.gov.bd/

https://settlement.gov.bd/Khatian/

চতুর্থ ধাপ: ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা পরীক্ষা করুন

বিক্রেতা জমির ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা নিয়মিত পরিশোধ করছেন কি না, তা যাচাই করুন। সর্বশেষ দাখিলায় জমির মালিক বা হোল্ডিংয়ের তথ্য, জমির পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিবরণ মিলিয়ে দেখুন।

তবে খাজনার দাখিলা থাকলেই জমির মালিকানা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয় না। এটি মূলত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের প্রমাণ। তাই দলিল, খতিয়ান ও নামজারির সঙ্গে মিলিয়ে দাখিলা যাচাই করতে হবে।

সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টাল:

https://ldtax.gov.bd/

পঞ্চম ধাপ: সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বন্ধক ও অন্য হস্তান্তরের তথ্য খুঁজুন

জমিটি অন্য কারও কাছে বিক্রি করা হয়েছে কি না, বন্ধক রাখা হয়েছে কি না কিংবা একই জমি নিয়ে অন্য কোনো নিবন্ধিত হস্তান্তর দলিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন:

অন্যের জমিতে নিজের নামে দলিল হলে কী করবেন?

আপনার জমি অন্য কেউ দখল করলে ফেরত পাবেন যেভাবে

জমি রেজিস্ট্রি করতে কত টাকা লাগে? জেনে নিন হিসাব

এ জন্য সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের তথ্য ধরে তল্লাশি করার বিষয়ে জানতে পারেন। বিক্রেতার মালিকানা অর্জনের সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক দলিলের তথ্য খুঁজে দেখা ভালো। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তায় নিবন্ধিত দলিলের সূচি ও রেকর্ড পরীক্ষা করুন।

বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন—

জমিটি আগে অন্য কারও কাছে বিক্রি হয়েছে কি না;

জমির ওপর নিবন্ধিত বন্ধক রয়েছে কি না;

কোনো দান, হেবা বা বণ্টন দলিল রয়েছে কি না;

জমি বিক্রির ক্ষমতা দেওয়া কোনো আমমোক্তারনামা আছে কি না;

একই জমি নিয়ে একাধিক দলিলের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না।

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৫৩ডি ধারায় নিবন্ধিত বন্ধকের অধীন স্থাবর সম্পত্তি বন্ধকগ্রহীতার লিখিত সম্মতি ছাড়া বিক্রি বা পুনরায় বন্ধক দেওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই বন্ধকের তথ্য যাচাই না করে জমি কেনার ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।

https://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-print-48.html

ষষ্ঠ ধাপ: জমির মামলা, সরকারি অধিগ্রহণ ও বিশেষ বিধিনিষেধ যাচাই করুন

জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে কি না, জমিটি সরকারি অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে কি না কিংবা কোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখতে হবে।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং প্রয়োজনে আদালতের নথি যাচাই করুন। জমিটি খাস, অর্পিত বা অন্য কোনো বিশেষ শ্রেণির সম্পত্তি কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

বিশেষভাবে যাচাই করুন—

জমি নিয়ে কোনো দেওয়ানি মামলা বা বণ্টন মামলা আছে কি না;

আদালতের অস্থায়ী বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না;

জমিটি সরকারি অধিগ্রহণের প্রস্তাব বা প্রক্রিয়ার আওতায় আছে কি না;

জমিটি খাস বা অর্পিত সম্পত্তি কি না;

জমির ওপর কোনো সরকারি দাবি বা বিধিনিষেধ রয়েছে কি না।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি নির্দেশিকাতেও আবেদন করা জমির মালিকানার ধারাবাহিকতা, দখল, আংশিক খাস বা অধিগ্রহণ এবং দেওয়ানি মামলা আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। https://mutation.land.gov.bd/nirdeshika

সপ্তম ধাপ: মৌজা নকশা ও সরেজমিনে জমির অবস্থান মিলিয়ে দেখুন

কাগজপত্র ঠিক থাকলেও সরেজমিনে জমি না দেখে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। অনেক সময় বিক্রেতা এক জায়গার জমি দেখান, কিন্তু দলিলে অন্য দাগ বা ভিন্ন পরিমাণ জমি উল্লেখ থাকে।

এ ধরনের ভুল এড়াতে মৌজা নকশা সংগ্রহ করে দলিলের দাগ নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। এরপর সরেজমিনে গিয়ে জমির সীমানা, অবস্থান, পাশের জমি, রাস্তা ও আশপাশের স্থাপনা যাচাই করুন।

প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আমিন বা সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মাপিয়ে নিতে পারেন। বিশেষ করে জমির পরিমাণ, সীমানা বা দাগ নম্বর নিয়ে সন্দেহ থাকলে এই কাজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি মৌজা ম্যাপ ও দাগসংক্রান্ত তথ্য দেখার জন্য:

https://settlement.gov.bd/map/mapsearch

অষ্টম ধাপ: জমির প্রকৃত দখল ও চলাচলের রাস্তা যাচাই করুন

জমিটি বর্তমানে কার দখলে রয়েছে, সেটিও কেনার আগে নিশ্চিত হতে হবে। বিক্রেতা জমির মালিক হলেও অন্য কেউ সেখানে বসবাস, চাষাবাদ বা অন্য কোনোভাবে দখল করে থাকতে পারেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখুন—

জমির দখল বিক্রেতার কাছে আছে কি না;

অন্য কেউ জমি ব্যবহার বা ভোগদখল করছেন কি না;

জমিতে কোনো ঘরবাড়ি, স্থাপনা বা ফসল রয়েছে কি না;

জমিতে যাওয়ার বৈধ রাস্তা আছে কি না;

সীমানা নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ রয়েছে কি না।

জমিতে যাওয়ার রাস্তা না থাকলে বা চলাচলের অধিকার নিয়ে বিরোধ থাকলে ভবিষ্যতে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই জমির দখল ও রাস্তার অধিকার দুটিই যাচাই করা প্রয়োজন।

নবম ধাপ: বিক্রেতার কাছে প্রয়োজনীয় ঘোষণা ও নথি নিন

জমি কেনার আগে বিক্রেতার কাছ থেকে লিখিতভাবে কিছু তথ্য নেওয়া যেতে পারে। যেমন, জমিটি আগে অন্য কারও কাছে বিক্রি বা বন্ধক দেওয়া হয়নি, মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ বা মামলা নেই এবং বিক্রির আইনগত অধিকার তাঁর রয়েছে—এ ধরনের ঘোষণা।

তবে শুধু লিখিত ঘোষণা পেলেই সব ঝুঁকি দূর হয় না। দলিল, সরকারি রেকর্ড ও বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এসব তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে।

জমি কেনার আগে যে ৫টি ভুল এড়িয়ে চলবেন

১. শুধু খতিয়ান দেখে জমি কিনবেন না। খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড হলেও এটি একা মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

২. বায়না বা অগ্রিম টাকা দেওয়ার আগে যাচাই বাদ দেবেন না। আগে দলিল, মালিকানা ও জমির অবস্থান নিশ্চিত করুন।

৩. সরেজমিনে জমি না দেখে চুক্তি করবেন না। দলিলের দাগ ও বাস্তব জমির অবস্থান মিলিয়ে নিন।

৪. উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমিতে সব ওয়ারিশের হিসাব যাচাই করুন। বিক্রেতার অংশ কত, তা নিশ্চিত না হয়ে পুরো জমি কেনার চুক্তি করবেন না।

৫. মামলা বা বন্ধকের তথ্য উপেক্ষা করবেন না। জমি নিয়ে বিরোধ বা নিবন্ধিত বন্ধক থাকলে কেনার আগে আইনগত অবস্থা পরিষ্কার করুন।

জমি কেনার আগে আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া কেন জরুরি?

জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাইয়ের জন্য ভূমি বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া ভালো। বিশেষ করে জমি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া হলে, একাধিকবার হাতবদল হলে, পুরোনো দলিল থাকলে কিংবা মামলা বা বন্ধকের সন্দেহ থাকলে পেশাদার যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ৫২এ ধারায় জমি বিক্রির দলিলে সর্বশেষ খতিয়ান, জমির প্রকৃতি, মূল্য, নকশা ও সীমানা এবং পূর্ববর্তী ২৫ বছরের মালিকানার সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ নির্দিষ্ট তথ্য সংযুক্ত করার বিধান রয়েছে। একই ধারায় বিক্রেতার বৈধ মালিকানা ও আগে অন্য কারও কাছে হস্তান্তর না করার বিষয়ে হলফনামার কথাও বলা হয়েছে।

https://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-print-90.html

অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৫৩সি ধারায় সর্বশেষ খতিয়ানে মালিক বা উত্তরাধিকারসূত্রে মালিক হলে তাঁর পূর্বসূরির নাম থাকার বিষয়টি জমি বিক্রির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ করা হয়েছে।

https://bdlaws.minlaw.gov.bd/act-print-48.html

তাই জমি কেনার আগে শুধু কাগজ সংগ্রহ নয়, সেগুলোর মধ্যে তথ্যের মিল, মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং জমির বাস্তব অবস্থা যাচাই করাই সবচেয়ে জরুরি।

জমি কেনার আগে কয়েকটি ধাপে যাচাই করলে প্রতারণা, দ্বৈত বিক্রি, ভুল দাগ, জাল দলিল, বন্ধক কিংবা মামলা-সংক্রান্ত ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। প্রথমে বিক্রেতার পরিচয় ও মালিকানা যাচাই করুন, এরপর দলিলের ধারাবাহিকতা, খতিয়ান, নামজারি ও ভূমি করের তথ্য মিলিয়ে নিন। সবশেষে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড, মামলা-অধিগ্রহণের তথ্য, মৌজা নকশা এবং সরেজমিনে দখল পরীক্ষা করুন।

সব তথ্য যাচাই না হওয়া পর্যন্ত বায়না বা অগ্রিম টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। জমির কাগজপত্রে সামান্য অসংগতি থাকলেও তা উপেক্ষা না করে আইনজীবীর মাধ্যমে যাচাই করাই নিরাপদ।

প্রাসঙ্গিক প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. জমি কেনার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন কাগজ যাচাই করতে হবে?

বিক্রেতার মূল বা সার্টিফায়েড দলিল, আগের মালিকানার দলিল, সর্বশেষ খতিয়ান, নামজারি খতিয়ান এবং ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডও পরীক্ষা করা জরুরি।

২. শুধু খতিয়ান দেখে কি জমি কেনা নিরাপদ?

না। খতিয়ান জমির রেকর্ডের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হলেও এটি একা মালিকানার চূড়ান্ত দলিল নয়। দলিলের ধারাবাহিকতা, নামজারি, দখল ও অন্যান্য নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

৩. জমির দলিল আসল কি না, কীভাবে বুঝব?

সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের তথ্য যাচাই করুন এবং প্রয়োজনে সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করুন। দলিল নম্বর, তারিখ, পক্ষগুলোর নাম, দাগ ও খতিয়ানের তথ্য মিলিয়ে দেখুন।

৪. জমির ওপর মামলা বা বন্ধক আছে কি না, কীভাবে জানব?

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত দলিল ও বন্ধকের তথ্য তল্লাশি করুন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আদালত ও ভূমি অফিসে জমি নিয়ে মামলা, নিষেধাজ্ঞা বা সরকারি অধিগ্রহণের তথ্য যাচাই করুন।

৫. জমি কেনার আগে আইনজীবী দিয়ে যাচাই করানো কি জরুরি?

সব ক্ষেত্রে আইনজীবী নিয়োগ বাধ্যতামূলক নয়। তবে জমির মালিকানা, পুরোনো দলিল, উত্তরাধিকার, বন্ধক বা মামলা নিয়ে জটিলতা থাকলে ভূমি বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে কাগজপত্র যাচাই করানো অত্যন্ত ভালো সিদ্ধান্ত।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: