বোরকা পরে বাজার করেছিলেন শাবনূর, জানালেন অজানা গল্প
তারকা পরিচয়ের বাইরে সাধারণ মানুষের মতো জীবন উপভোগ করার আলাদা আনন্দ আছে। সেই স্বাদ পেতে একবার বোরকা পরে রিকশায় চড়ে বাজার করেছেন, রাস্তার পাশ থেকে কিনে খেয়েছেন ঝালমুড়ি। আবার বান্ধবীকে নিয়ে শ্যামলী বাসে চড়ে ঘুরেছেন পুরো ঢাকা শহর। ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূরের জীবনের এমন কিছু অভিজ্ঞতার পেছনে রয়েছে শৈশবের অপূর্ণতা। ছোটবেলায় সাধারণ আর দশজনের মতো ঘুরে বেড়ানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ না পাওয়ায় এখনো সেই দিনগুলোর অভাব অনুভব করেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি চলচ্চিত্রে ফেরার প্রস্তুতি এবং নিজেই সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
নতুন গল্পের অপেক্ষা শেষ করে অভিনয়ে ফেরার ইঙ্গিত
দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো চলচ্চিত্রে দেখা যাচ্ছে না শাবনূরকে। তবে অভিনয় থেকে তাঁর এই বিরতিকে স্থায়ী দূরত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ভালো গল্পের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। তাঁর কাছে শিল্পীদের জীবনে ফিরে আসার বিষয়টি আলাদা কোনো ঘটনা নয়; পছন্দের কাজের সুযোগ তৈরি হলেই আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো সম্ভব।
শাবনূর জানিয়েছেন, একজন অভিনয়শিল্পীর সব সময়ই ভালো গল্পের প্রতি আগ্রহ থাকে। নিজের মনের মতো কোনো গল্প হাতে পেলেই কাজে নেমে পড়তে চান তিনি। সেই অপেক্ষার মধ্যেই সম্প্রতি বেশ কয়েকজন নির্মাতা তাঁর কাছে চলচ্চিত্রের গল্প নিয়ে এসেছেন। এসব প্রস্তাব পাওয়ার পর আবারও অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে তাঁর।
বয়স বাড়লেও অভিনয় থামাতে চান না
শুধু পর্দায় ফেরাই নয়, দীর্ঘদিন অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন শাবনূর। তাঁর দৃষ্টিতে অভিনয়শিল্পীদের জন্য বয়স কোনো সীমারেখা নয়। যেকোনো বয়সে উপযুক্ত চরিত্রের সন্ধান পেলে একজন শিল্পী কাজে ফিরতে পারেন।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে তিনি বলেছেন, বয়স যতই হোক না কেন, অভিনয় চালিয়ে যাবেন। শিল্পীদের কাজের সঙ্গে সম্পর্ক আজীবনের। তাই জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত কাজের মধ্যে ডুবে থাকার মানসিকতাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
পুরোনো স্বপ্ন পূরণে সিনেমা নির্মাণের ভাবনা
অভিনয়ের বাইরে চলচ্চিত্র নির্মাণের ইচ্ছাও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে শাবনূরের পরিকল্পনায়। এর আগেও সিনেমা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তখন চলচ্চিত্র জগতের পরিস্থিতি কোনো দিক থেকেই অনুকূলে ছিল না। ফলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোনো সম্ভব হয়নি।
এখনকার পরিস্থিতি দেখে তাঁর মনে হচ্ছে, চলচ্চিত্রের সুদিন আবার ফিরতে শুরু করেছে। সেই পরিবর্তন তাঁকে নিজের পুরোনো ইচ্ছা পূরণের বিষয়ে ভাবাচ্ছে। এবার হয়তো চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজে হাত দেবেন তিনি। তবে ভালো কিছু তৈরি করতে চান বলে তাড়াহুড়ো না করে প্রয়োজনীয় সময় নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
আইজেনকে নিয়ে শাবনূরের অন্যরকম ভালো লাগা
কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বাইরে শাবনূরের ব্যক্তিগত জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে তাঁর একমাত্র ছেলে আইজেন। ছেলের প্রতি ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, আইজেন বেশ অভিমানী হলেও ভীষণ মেধাবী।
বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে ছেলের আধো আধো কথা শুনতে তাঁর খুব ভালো লাগে। অল্প বয়স থেকেই আইজেন মায়ের খেয়াল রাখে। শাবনূরের কাছে ছেলের এই যত্নশীল আচরণ বিশেষ আবেগের। কখনো কখনো তাঁর মনে হয়, মা হিসেবে তিনিই শুধু ছেলের দেখভাল করছেন না, বরং আইজেনই যেন তাঁর অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করছে। ছেলেকে নিয়ে নিজের সুখের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তারকাখ্যাতির আড়ালে যে শৈশব অধরা ছিল
শাবনূরের জীবনের গল্প অন্যদের চেয়ে আলাদা হওয়ার পেছনে রয়েছে খুব ছোট বয়সে চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা। যখন নিজের মতো করে জীবনকে চিনতে ও বুঝতে শুরু করেছেন, তখনই চলে এসেছেন সিনেমার জগতে। ফলে সাধারণ শিশু-কিশোরদের মতো খেলাধুলা, বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি কিংবা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি, বাদাম ও আইসক্রিম খাওয়ার স্মৃতি তাঁর শৈশবে খুব একটা নেই।
ছোট বয়সে মেয়েদের ছেলেদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া কিংবা প্রেম করার মতো অভিজ্ঞতাও হয়নি তাঁর। এসব না পাওয়ার আক্ষেপ এখনো অনুভব করেন এই অভিনেত্রী। তাই সুযোগ পেলেই অতীতের সেই অপূর্ণতাগুলো নিজের মতো করে পূরণ করার চেষ্টা করেন।
গতবার দেশে এসে এমন কয়েকটি ইচ্ছা পূরণ করেছিলেন শাবনূর। পরিচিত তারকা পরিচয় আড়াল করতে বোরকা পরে রিকশায় ঘুরেছেন এবং বাজার করেছেন। রাস্তার পাশ থেকে ঝালমুড়ি কিনে খাওয়ার অভিজ্ঞতাও নিয়েছেন। আশপাশের কেউ তাঁকে চিনতে পারেননি। সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে এভাবে সময় কাটানো তাঁর কাছে ছিল অন্যরকম আনন্দের।
এরপর একদিন ইচ্ছা হয়, মুড়ির টিন মার্কা বাসে চড়ে মায়ের বাসায় যাবেন। বাসে চড়ার অভিজ্ঞতা কেমন, সেটিও নিজের মতো করে উপভোগ করতে চেয়েছিলেন। সেই ইচ্ছা পূরণে এক বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যামলী বাসে ওঠেন। ঢাকা শহরের রাজপথে ঘুরে বেড়ানোর সেই সময়টিও বেশ উপভোগ করেন তিনি।
জীবনের এই সাধারণ অথচ আনন্দময় মুহূর্তগুলোর কথা বলতে গিয়ে শাবনূরের কণ্ঠে উঠে আসে, ‘ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো...।’ তাঁর কাছে শৈশবের সেই না-পাওয়া দিনগুলোতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা এখনো আনন্দের একটি বিশেষ উপলক্ষ।
FAQ
১. শাবনূর কি আবার চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন?
হ্যাঁ। কয়েকজন নির্মাতা তাঁর কাছে গল্প নিয়ে আসছেন। আবার অভিনয়ে ব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
২. শাবনূর কি চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন?
চলচ্চিত্র নির্মাণের পুরোনো ইচ্ছা পূরণের কথা ভাবছেন তিনি। তবে ভালো কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সময় নিতে চান।
৩. শাবনূর কেন বোরকা পরে বাজার করেছিলেন?
শৈশবে সাধারণ মানুষের মতো ঘোরাঘুরি ও বাজার করার সুযোগ পাননি। সেই অপূর্ণ আনন্দ উপভোগ করতেই বোরকা পরে রিকশায় ঘুরেছেন ও বাজার করেছেন।
৪. শাবনূরের ছেলের নাম কী?
শাবনূরের একমাত্র ছেলের নাম আইজেন।
৫. শাবনূর কোন বাসে চড়ে ঢাকা শহর ঘুরেছিলেন?
এক বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যামলী বাসে চড়ে ঢাকা শহরের রাজপথ ঘুরেছিলেন তিনি।
তানভির ইসলাম/