ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

Bajaj Pulsar F250-এর দাম কমল ২০ হাজার, এখন কত?

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৮:৫৮:২৬
Bajaj Pulsar F250-এর দাম কমল ২০ হাজার, এখন কত?

বাংলাদেশের বাজারে Bajaj Pulsar F250 কিনতে এখন আগের চেয়ে ২০ হাজার টাকা কম খরচ হচ্ছে। ৩ লাখ ৬৫ হাজার ১০০ টাকা থেকে ছাড়ের পর মোটরসাইকেলটির দাম নেমে এসেছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ১০০ টাকায়। ২৫০ সিসির এই বাইকটির নতুন অফারমূল্য ইতোমধ্যে বাজারে আলোচনায় এসেছে। যারা স্পোর্টি ডিজাইন ও শক্তিশালী ইঞ্জিনের মোটরসাইকেল খুঁজছেন, তাঁদের কাছে এই মূল্যছাড় বাড়তি আগ্রহ তৈরি করতে পারে।

২০ হাজার টাকা ছাড়ে Pulsar F250-এর নতুন দাম

Bajaj Pulsar F250-এর আগের দাম ছিল ৩ লাখ ৬৫ হাজার ১০০ টাকা। বর্তমানে ঘোষিত ২০ হাজার টাকার ছাড় হিসাব করলে এর দাম দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ১০০ টাকা।

বিবরণপরিমাণ
আগের দাম ৩,৬৫,১০০ টাকা
মূল্যছাড় ২০,০০০ টাকা
নতুন অফারমূল্য ৩,৪৫,১০০ টাকা

অর্থাৎ আগের দামের তুলনায় প্রায় ৫.৫ শতাংশ কম খরচে বাইকটি কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। BikeBD-এর ৩০ অক্টোবর ২০২৬-এ হালনাগাদ করা অফার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই মূল্যছাড়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে অফারটি কত দিন কার্যকর থাকবে, সব শোরুমে একইভাবে পাওয়া যাবে কি না এবং নির্দিষ্ট কোনো শর্ত রয়েছে কি না—এসব বিষয় কেনার আগে অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

২৫০ সিসির ইঞ্জিনে কত শক্তি পাওয়া যাবে?

Pulsar F250-এর অন্যতম আকর্ষণ এর ২৪৯.০৭ সিসির ইঞ্জিন। Bajaj-এর বাংলাদেশি পণ্যের তথ্য অনুযায়ী, ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ২৪.৫ PS শক্তি উৎপন্ন করে ৮ হাজার ৭৫০ আরপিএমে। সর্বোচ্চ টর্ক ২১.৫ Nm, যা পাওয়া যায় ৬ হাজার ৫০০ আরপিএমে।

মোটরসাইকেলটিতে রয়েছে পাঁচ গতির গিয়ারবক্স। ফলে ইঞ্জিনের ক্ষমতার পাশাপাশি গিয়ার পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন গতিতে চালানোর সুবিধাও পাওয়া যায়।

ডিজাইন ও প্রযুক্তিতে কী থাকছে?

Pulsar F250-এর নকশায় রয়েছে অ্যারোডাইনামিক ফেয়ারিং, যা বাইকটিকে স্পোর্টি লুক দিয়েছে। সামনে প্রজেক্টর LED হেডল্যাম্প ও LED DRL রয়েছে। পেছনে ব্যবহার করা হয়েছে LED টেইলল্যাম্প।

এর ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টারে Bluetooth সংযোগ এবং Turn-by-Turn Navigation সুবিধার কথা জানিয়েছে Bajaj। ফলে প্রয়োজনীয় রাইডিং তথ্য দেখার পাশাপাশি নেভিগেশন ব্যবহারের সুবিধাও পাওয়া যায়।

নিরাপত্তায় ডুয়াল চ্যানেল ABS

বাইকটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় রয়েছে ডুয়াল চ্যানেল ABS। সামনে ৩০০ মিলিমিটার এবং পেছনে ২৩০ মিলিমিটারের ডিস্ক ব্রেক ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি এতে তিনটি ABS Ride Mode রয়েছে।

সামনের দিকে ৩৭ মিলিমিটারের USD ফর্ক এবং পেছনে মাল্টি-স্টেপ অ্যাডজাস্টেবল মনোশক সাসপেনশন দেওয়া হয়েছে। সামনের টায়ারের মাপ ১১০/৭০-১৭ এবং পেছনের টায়ার ১৪০/৭০-১৭। দুই চাকাতেই টিউবলেস টায়ার রয়েছে।

একবার জ্বালানি নিলে কত দূর চলবে?

Pulsar F250-এ ১৪ লিটারের ফুয়েল ট্যাংক রয়েছে। বাইকটির ওজন ১৬৪ কেজি এবং গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬৫ মিলিমিটার।

তবে প্রস্তুতকারকের বাংলাদেশি পণ্যের পাতায় নির্দিষ্ট মাইলেজের কোনো নিশ্চিত সংখ্যা উল্লেখ নেই। বাস্তবে জ্বালানি খরচ নির্ভর করবে যানজট, রাস্তার অবস্থা, গতি, চালানোর ধরন ও বাইকের রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। তাই নির্দিষ্ট মাইলেজ নিশ্চিত ধরে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

কেনার আগে যে বিষয়গুলো নিশ্চিত করবেন

২০ হাজার টাকা ছাড়ের খবর থাকলেও শোরুমে গিয়ে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি। প্রথমত, ৩ লাখ ৪৫ হাজার ১০০ টাকা দামটি আপনার নির্বাচিত বাইকের ক্ষেত্রে কার্যকর কি না, তা লিখিতভাবে জেনে নিন। দ্বিতীয়ত, অফারের শেষ তারিখ, স্টক এবং মূল্যছাড় পাওয়ার শর্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হোন।

এ ছাড়া রেজিস্ট্রেশন, অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ এবং আনুষঙ্গিক চার্জ বাইকের ঘোষিত দামের বাইরে হতে পারে। তাই শুধু শোরুমের বাইকের দাম নয়, সব খরচসহ মোট কত টাকা দিতে হবে, সেটিও জেনে নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, ২০ হাজার টাকা ছাড়ে Bajaj Pulsar F250-এর দাম ৩ লাখ ৪৫ হাজার ১০০ টাকা হওয়ায় ২৫০ সিসি সেগমেন্টের এই বাইকটি নতুন করে ক্রেতাদের নজরে আসতে পারে। তবে অফারের শর্ত ও শোরুমভেদে প্রাপ্যতা নিশ্চিত করেই কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।

প্রাসঙ্গিক FAQ

১. বাংলাদেশে Bajaj Pulsar F250-এর নতুন দাম কত?

প্রকাশিত অফার অনুযায়ী, ২০ হাজার টাকা ছাড়ের পর দাম ৩ লাখ ৪৫ হাজার ১০০ টাকা।

২. Pulsar F250-এর আগের দাম কত ছিল?

মূল্যছাড়ের আগে বাইকটির দাম ছিল ৩ লাখ ৬৫ হাজার ১০০ টাকা।

৩. Bajaj Pulsar F250-এর ইঞ্জিন কত সিসি?

এতে ২৪৯.০৭ সিসির ইঞ্জিন রয়েছে।

৪. Pulsar F250-এ কি ডুয়াল চ্যানেল ABS আছে?

হ্যাঁ, মোটরসাইকেলটিতে ডুয়াল চ্যানেল ABS এবং তিনটি ABS Ride Mode রয়েছে।

৫. ২০ হাজার টাকার ছাড় কত দিন পাওয়া যাবে?

প্রকাশিত অফার প্রতিবেদনে ছাড়ের শেষ তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। তাই কেনার আগে নিকটস্থ অনুমোদিত Bajaj শোরুমে অফারের মেয়াদ ও শর্ত জেনে নেওয়া উচিত।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: