ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ব্যাংকের শেয়ারবাজার তহবিল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৮:০৮:৪১
ব্যাংকের শেয়ারবাজার তহবিল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত

শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের জন্য রাখা বিশেষ তহবিলের সুবিধা আরও এক বছর বহাল রাখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার তহবিল ব্যবহারের সুযোগ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকবে। আগে এই সুবিধার শেষ সময় নির্ধারিত ছিল ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অবস্থায় থাকা শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই এ সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

তবে তহবিল ব্যবহারের সময় বাড়লেও এর পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকছে। এ কারণে বাজারসংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করছেন, ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়াতে শুধু সময় বাড়ানো যথেষ্ট নয়; তহবিলের সীমাও পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

২০০ কোটি টাকার সীমা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি করার প্রস্তাব

বিশেষ তহবিলের পরিমাণ ও মেয়াদ—দুটিই বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)। সম্প্রতি সংগঠনটি প্রতিটি ব্যাংকের জন্য বিদ্যমান ২০০ কোটি টাকার সীমা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

একই প্রস্তাবে তহবিল ব্যবহারের সময়সীমা আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ডিবিএর সুপারিশ অনুযায়ী, এ সুবিধা ২০৩১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখা উচিত।

সাধারণ বিনিয়োগসীমার বাইরে থাকার সুযোগ যেভাবে কাজ করে

ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের নীতিটি চালু হয়েছিল ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে। করোনা মহামারির সময় শেয়ারবাজারের তীব্র তারল্যসংকট মোকাবিলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যবস্থা নেয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক নিজস্ব অর্থায়নে অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করতে পারে। এই ব্যবস্থার বিশেষ সুবিধা হলো, তহবিল থেকে শেয়ারবাজারে করা বিনিয়োগ ব্যাংকের প্রচলিত শেয়ারবাজার এক্সপোজার লিমিট বা নির্ধারিত বিনিয়োগসীমার মধ্যে গণনা করা হয় না।

অর্থাৎ, ব্যাংকগুলো প্রচলিত বিনিয়োগসীমার বাইরে থেকেও এই বিশেষ তহবিল ব্যবহার করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে।

দীর্ঘদিনের দুর্বলতায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের গুরুত্ব

দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে মূলধনের ঘাটতি ও তারল্যসংকট রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তাও বাজারের দুর্বলতার অন্যতম দিক হয়ে উঠেছে।

এ অবস্থায় বিশেষ তহবিলের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে বাজারসংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, এতে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ কার্যক্রম সচল রাখার সুযোগ তৈরি হবে এবং বাজারে অর্থের প্রবাহ বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

শুধু তহবিলের সুবিধা দিয়ে সংকটের সমাধান নয়

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ তহবিলের মেয়াদ বাড়ানো শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়। ব্যাংকগুলোকে বাস্তবে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি বাজারে ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ দরকার। তাঁদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাড়ানো সময়সীমার সুফল কতটা পাওয়া যাবে, তা শেষ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে আগ্রহ ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

১. ব্যাংকগুলোর বিশেষ তহবিল ব্যবহারের মেয়াদ কত দিন বাড়ানো হয়েছে?

আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সুবিধা কার্যকর থাকবে।

২. প্রতিটি ব্যাংক সর্বোচ্চ কত টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে?

প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে।

৩. বিশেষ তহবিলের সীমা কত করার প্রস্তাব দিয়েছে ডিবিএ?

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে।

৪. বিশেষ তহবিল গঠনের নীতি কবে চালু হয়েছিল?

করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নীতি চালু করে।

৫. বিশেষ তহবিলের বিনিয়োগে ব্যাংকগুলো কী সুবিধা পায়?

এই তহবিলের আওতায় শেয়ারবাজারে করা বিনিয়োগ ব্যাংকের প্রচলিত এক্সপোজার লিমিট বা নির্ধারিত বিনিয়োগসীমার বাইরে থাকে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: